রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন দেশের সমৃদ্ধির জয়গান
বায়েজিদ মোস্তফা । শনিবার, ০২ জুলাই ২০২২ । আপডেট ১১:২৫
একটি দেশের সামগ্রিক অগ্রগতির প্রশ্নে রপ্তানি আয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ প্রসঙ্গে বলা দরকার, যদি রপ্তানি আয় বৃদ্ধি পায় এবং এই ধারা অব্যাহত থাকে তবে তা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক- যা আমলে নিয়ে সংশ্লিষ্টদের কর্তব্য হওয়া দরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিশ্চিত করা। সম্প্রতি পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত খবরে জানা গেল, চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসেই পুরো অর্থবছরের রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করেছে বাংলাদেশ। এ ক্ষেত্রে এটাও বিবেচ্য যে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে রপ্তানি আয় বাধাগ্রস্ত হওয়ার কথা থাকলেও লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়েছে- যা ইতিবাচক।
তথ্য মতে, ৪৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্যমাত্রা পূরণের পর আশা করা হচ্ছিল রপ্তানি ছাড়াবে ৫০ বিলিয়ন ইউএস ডলার। জুন মাস শেষ হতে বাকি যখন দুদিন- তার আগেই চলতি অর্থবছরের ১০ মাস (জুলাই-মে) বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করে আয় হয়েছে ৪৭ বিলিয়ন (৪ হাজার ৭০০ কোটি) ডলারেরও বেশি। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্যমতে, ২০২১-২২ অর্থবছরের জুলাই থেকে মে পর্যন্ত বিশ্ববাজারে বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি হয়েছে ৪ হাজার ৭১৭ কোটি ৪৬ লাখ ৩০ হাজার ডলারের পণ্য। এর মধ্যে তৈরি পোশাক রপ্তানির অর্থমূল্য ছিল ৩ হাজার ৮৫২ কোটি ১১ লাখ ৬০ হাজার ডলার। রপ্তানি হওয়া পণ্যের প্রায় ৮২ শতাংশই তৈরি পোশাক। এছাড়া রপ্তানিকারক সংগঠন বিজিএমইএর হিসাব অনুযায়ী, চলতি মাসের প্রথম ২৫ দিনে পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৩২০ কোটি ডলারের। এ পরিসংখ্যান বিবেচনায় নিলে এরই মধ্যে চলতি অর্থবছরের মোট রপ্তানি ৫ হাজার কোটি ডলার বা ৫০ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে।
আমরা বলতে চাই, রপ্তানি আয়ের সার্বিক পরিস্থিতি আমলে নিয়ে সব ধরনের উদ্যোগ বজায় রাখতে হবে। এমনটিও আশা করা হচ্ছে, ২০২৫ সালের মধ্যে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় ৮০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে। ফলে সেই লক্ষ্যেও উদ্যোগ অব্যাহত রাখতে হবে। আমরা মনে করি, সংশ্লিষ্টদের এই বিষয়টিও আমলে নিতে হবে যে, তৈরি পোশাক খাত বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি আয়ের মধ্য অন্যতম খাত। সঙ্গত কারণেই এ খাতের সার্বিক অগ্রগতি নিশ্চিত করতে সব ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ ও তার যথাযথ বাস্তবায়ন জরুরি। কেননা, এবারেও রপ্তানি হওয়া পণ্যের প্রায় ৮২ শতাংশই তৈরি পোশাক।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) প্রকাশিত চলতি অর্থবছরের গত ১০ মাসের (জুলাই-এপ্রিল) রপ্তানি প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। এতে দেখা যায়, একক মাস হিসেবে গত এপ্রিল মাসে আয় হয়েছে ৪৭৩ কোটি ৮৬ লাখ ডলার। এই আয় গত এপ্রিলের চেয়ে ৫১.৫৮ শতাংশ বেশি। ইপিবি তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, জুলাই-এপ্রিল সময়ে তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৩৫.৩৬ বিলিয়ন ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৩৬ শতাংশ বেশি। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এই খাত থেকে আয় বেড়েছে প্রায় ২২ শতাংশ। হোম টেক্সটাইল রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩৯ শতাংশ। গত অর্থবছরের জুলাই-এপ্রিল এই ১০ মাসের তুলনায় চলতি অর্থবছরের একই সময়ে হিমায়িত মৎস্য রপ্তানি করে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৭.৪৫ শতাংশ, কৃষি পণ্যে ২৬.২৯ শতাংশ, ম্যানুফ্যাকচার পণ্যে ৩৫.৬১ শতাংশ, কেমিক্যাল ও ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্যে ৪৫ শতাংশ, প্লাস্টিক পণ্যে ৩৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। এ ছাড়া চামড়াজাত পণ্যে ৩৩ শতাংশ, কুটির শিল্পে ৩০.২৪ শতাংশ, সিরামিক পণ্যে ৩৯.৯৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। তবে গত কয়েক মাসের মতো রপ্তানিতে নেতিবাচক অবস্থানে রয়েছে পাট ও পাটজাত পণ্য। এপ্রিল পর্যন্ত ১০ মাসে পাট খাতের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৭.৬৭ শতাংশ এবং গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৬.৬৮ শতাংশ পিছিয়ে আছে। পাট ও পাটজাত পণ্য খাত থেকে রপ্তানি হয়েছে ৯৬ কোটি ৬৫ লাখ ডলার।
লক্ষণীয়, এর আগে আলোচনায় এসেছে যে, বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্যের পালে জোরে হাওয়া লেগেছে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতের প্রবৃদ্ধি আশাব্যঞ্জক, এর নেতৃত্বেই রপ্তানি খাত ঘুরে দাঁড়িয়েছে এটাও জানা গিয়েছিল। আমরা বলতে চাই, সার্বিক রপ্তানি আয় বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণের পাশাপাশি দেশের পোশাক খাতের যে কোনো সংকট থাকলে সেটাও নিরসন করতে হবে। ভুলে যাওয়া যাবে না- শ্রমিকের শ্রমই বাসযোগ্য করেছে আজকের এই পৃথিবী। ফলে শ্রমিকদের জীবন মান উন্নত করা, কারখানার পরিবেশের উন্নয়নসহ সার্বিক উদ্যোগ অব্যাহত রাখার বিকল্প নেই। সর্বোপরি আমরা বলতে চাই, একটি দেশের সামগ্রিক সমৃদ্ধি অর্জন ও অগ্রগতির প্রশ্নে রপ্তানি আয় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ফলে যখন চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসেই পুরো অর্থবছরের রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করেছে বাংলাদেশ এটি অত্যন্ত আনন্দের। যা আমলে নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। একই সঙ্গে ২০২৫ সালের মধ্যে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় ৮০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে যে আশা করা হচ্ছে তার বাস্তবায়নে উদ্যোগ বজায় রাখতে হবে। যেসব খাতে রপ্তানি বেড়েছে, সেগুলোর দিকে যেমন নজর দিতে হবে; তেমনি এর পাশাপাশি সম্ভাবনাময় খাতগুলোর দিকেও পর্যবেক্ষণ সাপেক্ষে সব ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। রপ্তানি আয়ের অগ্রগতি নিশ্চিত করতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা জারি থাকুক এমনটি কাম্য।
ইউডি/সুপ্ত

