বঙ্গবন্ধুর অসাম্প্রদায়িকতা সবার মানবিক অধিকারের নিশ্চয়তা
আফিফা পারভীন । বৃহস্পতিবার, ১৪ জুলাই ২০২২ । আপডেট ১১:৫০
গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পুরোধা ব্যক্তিত্ব হিসেবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের পর প্রথমেই একটি শাসনতন্ত্র প্রণয়নে হাত দেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের লক্ষ্যে তিনি পুরনো সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামো ভেঙে নতুন একটি ব্যবস্থার দিকে যেতে চাইলেন। বঙ্গবন্ধু চেয়েছেন, বাংলাদেশ হবে এমন একটি রাষ্ট্র যেখানে সবার মানবাধিকার নিশ্চিত করা হবে। শুধু ধনিক শ্রেণির স্বার্থ রক্ষার ঢাল হিসেবে ব্যবহৃত তথাকথিত গণতন্ত্রের নামে নাক-কা-ওয়াস্তে ছদ্মবেশী কোনো গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চাননি তিনি।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান চেয়েছিলেন সেই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে, যার ফলে সমাজের প্রান্তিক মানুষটিও স্বাধীনতার সুফল ভোগ করতে পারে। বঙ্গবন্ধুর কাছে গণতন্ত্রের অর্থ হলো দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানো, ৮০ শতাংশ মধ্যবিত্ত-নিম্ন মধ্যবিক্ত মানুষের মানবাধিকার ও অর্থনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করা। এজন্য হাজার বছরের ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় বহু ধর্ম-বর্ণের এই জাতিকে দীর্ঘস্থায়ীভাবে সম্প্রীতির বন্ধনে বাঁধলেন তিনি। রাষ্ট্রের অন্যতম একটি মূল নীতি হিসেবে ঘোষণা করলেন ধর্মনিরপেক্ষতাকে। ধর্মনিরপেক্ষতার ব্যাখ্যাও তিনি সেসময় দিয়েছেন। এটি নিয়ে ভ্রান্তি ছড়ানোর কোনো অবকাশ নেই। মুক্তিকামী-স্বাধীনতাকামী-নিপীড়িত-নির্যাতিত মানুষের শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে এক প্রতিবাদী চরিত্রের নাম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব। ব বঙ্গবন্ধুর সংগ্রামী রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম গুণ ছিল অসাম্প্রদায়িক ও মানবতাবাদী চেতনা এবং মানুষকে আপন করে নেয়ার অসাধারণ ক্ষমতা। তার অসাম্প্রদায়িক মানবতাবাদী মানস গঠনে পিতার অবদান ছিল অনেক বেশি। বঙ্গবন্ধুর পিতা চেয়েছিলেন তার সুযোগ্য সন্তান যেন ন্যায় ও সত্যের পথে থেকে সব বাঙালির মুক্তির কাণ্ডারি হয়ে ওঠে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ধর্মনিরপেক্ষতা বলতে বোঝায়- অসাম্প্রদায়িকতা, রাজনীতিক উদ্দেশ্যে ধর্মের অপব্যবহার রোধ ও ধর্ম সংক্রান্ত ব্যাপারে রাষ্ট্রের নিরপেক্ষতা। এক কথায়: ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। যাতে সবধরণের সাম্প্রদায়িক উস্কানির নাশকতা, দাঙ্গা, হাঙ্গামা, রক্তপাত থেকে রাষ্ট্র ও মানুষ নিরাপদ থাকে। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বেড়ে উঠতে পারে অনাবিল মুক্তির স্বাদ নিয়ে। বঙ্গবন্ধু তার ৫৫ বছরের জীবনে বাঙালি জাতিকে নিজ সত্তায় ধারণ করে যা অর্জন করেছেন- এখানেই তার শ্রেষ্ঠত্ব, যা কোনোদিন কেউ অতিক্রম করতে পারবে না। আর এই কারণে তিনি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি। মুজিববর্ষে তাকে জানাই সশ্রদ্ধ শতকোটি সালাম। বাঙালি জাতি কোনোদিন তার ঋণ শোধ করতে পারবে না।
ইউডি/সুস্মিত

