রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব: মন্দার শঙ্কায় বিশ্ব অর্থনীতি

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব: মন্দার শঙ্কায় বিশ্ব অর্থনীতি

উত্তরদক্ষিণ । রবিবার, ১৭ জুলাই ২০২২ । আপডেট ১১:৪৫

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ গোটা বিশ্বের অর্থনৈতিক অবস্থা অস্থিতিশীল করে তুলেছে। যুদ্ধকে কেন্দ্র করে নেয়া নানান নিষেধাজ্ঞা সংকট বাড়াচ্ছে বহুগুণে। এই অবস্থার উত্তরণে উন্নত দেশগুলোও এখন হিমশিম খাচ্ছে। দেখা দিচ্ছে মুদ্রাস্ফীতি, কমছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও। আর উদ্ভূত এই পরিস্থিতি বিবেচনা করে বিশ্বের বহু দেশ তাদের অর্থনৈতিক মন্দা লাঘবে ব্যয় সংকোচনের পথে হাঁটছে। বাংলাদেশও সম্প্রতি বেশকিছু কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বিস্তারিত লিখেছেন মিলন গাজী।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ সহজেই বন্ধ হচ্ছে না বলে সতর্ক করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকগণ ও অর্থনীতিবিদরা। তারা বিশ্ব অর্থনীতি আরও বিপর্যস্ত হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন। এছাড়াও আমেরিকা-চীনের বণিজ্যযুদ্ধ, ইরান সংকট, মধ্যপ্রাচ্যের নানা অস্থিরতা, প্যারিসের জলবায়ু চুক্তি পুরো বিশ্ব অর্থনীতির মোড় পরিবর্তন করছে, যার প্রভাব এশিয়াসহ পুরো পৃথিবীতে উল্লেখযোগ্যভাবে পড়ছে। জাতিসংঘ, বিশ্বব্যাংকসহ বিভিন্ন অর্থনৈতিক ও মানবউন্নয়ন সংস্থাগুলো আগাম সতর্কতা জারি করছে।

পরিস্থিতি বুঝে উদ্যোগ নিচ্ছে বাংলাদেশ: বাংলাদেশ কিছুদিন আগেই শতভাগ বিদ্যুতায়ন সম্পন্ন করেছে। কিন্তু বর্তমান বিশ্ব সংকটের এমন পরিস্থিতিতে এই খাতে সতর্কতা অবলম্বন করছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই এ বিষয় নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন৷ নির্দেশ দিয়েছেন সূচি করে লোডশেডিং দিতে৷ বিশ্লেষকরা বলছেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের জের ধরে রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল, গ্যাসসহ দাম বেড়েছে নিত্যপণ্যের৷ সেই সঙ্গে পরিবহণব্যবস্থায় সমস্যা তৈরি হয়েছে, ভেঙে পড়েছে সরবরাহ ব্যবস্থা৷ অনেক উন্নত দেশেও দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে জানিয়ে দেশবাসীকে মিতব্যয়ী ও সঞ্চয়মুখী হওয়ার আহ্বানও রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা৷ দেশের এক ইঞ্চি আবাদি জমিও ফেলে না রেখে কিছু না কিছু পণ্য উৎপাদন করা হলে সংকট মোকাবিলা সম্ভব হবে বলেও মনে করছেন তিনি৷

সরকারের নেয়া পদক্ষেপ যৌক্তিক: পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) চেয়ারম্যান কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ গণমাধ্যমকে বলেন, এ যুদ্ধ দীর্ঘমেয়াদি হলে তার ইমপ্যাক্ট সব জায়গায়, সারা বিশ্ব অর্থনীতিতে পড়বে৷ আমরা যেহেতু বিশ্ব অর্থনীতির অংশ আমাদের ওপরেও সেই প্রভাব পড়বে৷ সেই প্রভাবের মধ্যে মূল্যস্ফীতিকে সবচেয়ে ‘বড় সমস্যা’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন প্রবীণ এই অর্থনীতিবিদ৷ চলমান এ সংকট মোকাবিলায় সরকারের নেয়া পদক্ষেপকে যৌক্তিক মানছেন তিনি৷ তার মতে, আমাদের যে কিছু ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে, বিলাসপণ্য আমদানি কমানো হচ্ছে, বিদেশ ভ্রমণ কমানো হয়েছে, অপচয় রোধ করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে-এজন্যই আমাদের মূল্যস্ফীতি কিছুটা কম আছে৷ তিনি বলেন, ‘আমাদের সামনে সবচেয়ে বড় সমস্যা, আগামী এক বছর বা আরও বেশি সময় হতে পারে, সেটা হচ্ছে মূল্যস্ফীতি৷ বর্তমানের বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতি সাত দশমিক পাঁচ শতাংশের কিছু কম৷ গত মে মাসে ছিল সাত দশমিক চার-দুই শতাংশ৷ বিশ্ব মন্দাভাবের মধ্যেও অন্য অনেক দেশের চেয়ে বাংলাদেশের অবস্থাকে এগিয়ে রাখলেন খলীকুজ্জমান আহমদ৷ তিনি বলেন, ইন্ডিয়ায় সাড়ে আট বা নয় শতাংশ৷ ইউরোপেও আট-নয় শতাংশ, আমেরিকায় আট-এর উপরে ছিল এপ্রিল মাসে৷

মো. তৌহিদ হোসেন

খাদ্য সংকট নিয়ে জাতিসংঘের সতর্কতা: এদিকে খাদ্যভাøার হিসেবে পরিচিত ইউক্রেন ও রাশিয়ার সংঘাতের কারণে বিশ্বজুড়ে খাদ্য ঘাটতি দেখা দিতে পারে বলেও সতর্ক করেছে জাতিসংঘ৷ আমেরিকার ইউনিভার্সিটি অব ইলনিয়সের সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্বে মোট গম উৎপাদনের ৩০ শতাংশ হয় ইউক্রেন ও রাশিয়ায়৷ আর ভুট্টা উৎপাদনের ২০ শতাংশ উৎপাদিত হয় এই দুই দেশে৷ যুদ্ধের কারণে এরই মধ্যে ভেঙে পড়েছে এই দুই দেশ থেকে গম ও ভুট্টাসহ অধিকাংশ খাদ্যপণ্যের রপ্তানি৷ এই গ্রীষ্মে গম উৎপাদন করতে পারেনি ইউক্রেন৷বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে খাদ্য, জ্বালানি ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস গঠন করেছেন ‘চ্যাম্পিয়নস গ্রুপ অব গ্লোবাল ক্রাইসিস রেসপন্স’ (জিসিআরজি)৷ এই গ্রুপের মূল্য উদ্দেশ্য যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতিতে বিশ্বের দরিদ্র ও ভঙ্গুর জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দেয়া৷ জাতিসংঘ মহাসচিবের আহ্বানে সাড়া দিয়ে এই গ্রুপে যোগ দিয়েছে বাংলাদেশও৷

কাজী খলিকুজ্জমান আহমদ

বিশ্বব্যাংক বলছে ইউরোপ এবং পূর্ব এশিয়া মন্দার কবলে: এদিকে, ইউরোপ এবং পূর্ব এশিয়ার স্বল্পোন্নত দেশগুলোর অনেকেই ‘বড় ধরনের মন্দা’র কবলে পড়েছে বলে জানাচ্ছে বিশ্ব ব্যাংক। এ বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ডেভিড ম্যালপাস বলছেন, মুদ্রাস্ফীতির উচ্চহার এবং প্রবৃদ্ধি হ্রাস বা তথাকথিত ‘স্ট্যাগফ্লেশন’-এর ঝুঁকিও বাড়ছে। এ ছাড়া বাড়ছে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্যদ্রব্যের দাম। ইউক্রেনে যুদ্ধ, চীনে লকডাউন, সরবরাহ-শৃঙ্খলা বা ‘সাপ্লাই চেইনে’ বিঘ্ন, এবং অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতার ঝুঁকি প্রবৃদ্ধির ওপর ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ফলে অনেক দেশের জন্য মন্দা এড়ানো কঠিন হবে। বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট এরই মধ্যে জুনের বিশ্বব্যাংকের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পূর্বাভাস প্রতিবেদনে স্ট্যাগফ্লেশনের আসন্ন বিপদ নিয়ে সতর্ক করেছেন।

লোগো আইএমএফ

মন্দার আশঙ্কা করছেন বিশ্বের ৬০% প্রধান নির্বাহী: বিশ্বজুড়ে মন্দার আশঙ্কা করছেন করপোরেট বিশ্বের শীর্ষ ব্যক্তিরাও। তাঁরা বলছেন, যদি খুব বেশি দেরি হয় তবে আগামী বছরের শেষ নাগাদ একটি অর্থনৈতিক মন্দা আসছে। জ্বালানি পণ্যের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি ইউক্রেন যুদ্ধের অনিশ্চয়তায় বিশ্ব অর্থনীতি নিম্নমুখী হচ্ছে। সম্প্রতি প্রকাশিত এক জরিপে এমনটাই দাবি করেছে কনফারেন্স বোর্ড। সংস্থার জরিপে বৈশ্বিক কম্পানিগুলোর ৬০ শতাংশের বেশি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এবং শীর্ষ ব্যক্তিরা জানান, তাঁরা আশঙ্কা করছেন আগামী ১২ থেকে ১৮ মাসের মধ্যে একটি মন্দা হানা দেবে। গত মাসে পরিচালিত এ জরিপে এশিয়া, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার প্রায় ৪৫০ সিইওসহ ৭৫০ নির্বাহীর মধ্যে ১৫ শতাংশ জানান, তাঁদের অঞ্চল এরই মধ্যে মন্দায় প্রবেশ করেছে।
অর্থনীতির ভাষায়, পর পর দুই প্রান্তিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধি সংকুচিত হলে এটিকে মন্দা হিসেবে ধরে নেওয়া হয়। গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ প্রায় ৩০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ সুদের হার বৃদ্ধির ঘোষণা দেয়। তাই মন্দা নিয়ে অর্থনীতিবিদদের উদ্বেগ আরো বেড়েছে। কারণ একই পথ অনুস্মরণ করেছে ব্যাংক অব ইংল্যান্ডসহ অন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোও। চরম মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্বের অনেক দেশই সুদের হার বাড়াচ্ছে। এতে ব্যবসায় খরচও বেড়ে যাচ্ছে। জরিপে বলা হয়, ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলাই মূলত অর্থনীতিতে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। এতে বিশ্বের দেশে দেশে অর্থনৈতিক অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে।

রাজনৈতিক সংকটে পড়বে না বিশ্ব: এই যুদ্ধের কারণে বিশ্ব অর্থনীতির ভঙ্গুর অবস্থা ভাবিয়ে তুললেও রাজনৈতিক সংকট নিয়ে খুব একটা বিচলিত নন সাবেক পররাষ্ট্র সচিব মো. তৌহিদ হোসেন৷ গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, আসলে অর্থনৈতিক যে সংকটটা হচ্ছে ওইটাই প্রধান৷ আর রাজনৈতিক যেটা হতে পারে সেটা হলো যে, খানিকটা আরও পোলারাইজড হয়ে যেতে পারে দুনিয়া৷ বিশ্বের যে দেশগুলো যুদ্ধকে সমর্থন করে না, রাশিয়ার বিপক্ষে সরাসরি ভোট না দেয়াকে তিনি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছেন৷ বিষয়টি বিশ্লেষণ করে এই কূটনীতিক বলেন, ‘৪০/৪২টি দেশ যে ভোট দেয়নি রাশিয়ার বিপক্ষে তার মানে এই নয় যে, তারা যুদ্ধটা পছন্দ করে৷ তারা জাস্ট দূরে থেকে পক্ষ না নেয়ার চেষ্টা করছে৷ আল্টিমেটলি কী দাঁড়াবে সেটা বলা খুব কঠিন৷ তবে একটা প্যাটার্ন হয়তো দাঁড়িয়ে যাবে৷ সবাই চাচ্ছে যুদ্ধটা একটি গন্ডির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকুক। যদি গন্ডি পেরয় তবে পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নেবে।

লোগো বিশ্ব ব্যাংক

ধাক্কা সামলাতে ইউরোপ-আমেরিকার চেয়ে এগিয়ে ইন্ডিয়া: রাশিয়া ও ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব ইউরোপ বা আমেরিকায় যতটা প্রবলভাবে যুদ্ধের ধাক্কা অনুভব করছে, ইন্ডিয়াতে এখনো ততটা অনুভূত হচ্ছে না৷ যুদ্ধের কারনে যখন বিশ্বজুড়ে তেলের দাম বাড়তে শুরু করলো, তখন ইন্ডিয়ায় পেট্রোল, ডিজেলের দাম বাড়েনি৷ উত্তরপ্রদেশ, উত্তরাখø সহ পাঁচ রাজ্যের নির্বাচন চলছিল, তখন কি আর তেলের দাম বাড়তে পারে! এমনিতে ইন্ডিয়ার পেট্রোল, ডিজেল, কেরোসিন, এলপিজি-র দাম এখন বাজার নিয়ন্ত্রণ করে৷ অর্থাৎ, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে, দেশেও পেট্রোল-ডিজেলের দাম বাড়বে৷ সেভাবেই বাড়ে৷ তবে ভোটের সময় অদৃশ্য শক্তির অঙ্গুলিহেলনে সেই দাম বাড়ে না৷

অর্থনীতির ধাক্কায় এখনই বিপর্যস্ত যেসকল দেশ
আফগানিস্তান: গত বছর মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহার এবং তালেবান ক্ষমতা দখলের পর থেকে অর্থনৈতিক ও মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে আফগানিস্তান৷ দেশজুড়ে খাদ্য সংকটের ফলে অপুষ্টি মহামারি আকার নিয়েছে৷ হিউম্যান রাইটস ওয়াচের তথ্যমতে, দেশটির ৫৫ শতাংশ মানুষ রয়েছেন খাদ্য নিরাপত্তার চরম হুমকিতে৷ দাতাদের নানা ধরনের অর্থ সহায়তা অবরুদ্ধ হওয়ায় এ সংকট দিনদিন আরো তীব্র রূপ নিচ্ছে৷

নেপাল: ব্যাপক আমদানি-নির্ভরতার ফলে নেপালের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে টান পড়েছে৷ দেশটির বাণিজ্য ঘাটতি বাজেটের প্রায় সমান হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ ইউক্রেন থেকে তেল ও নানা খাদ্যদ্রব্যের আমদানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশটির অর্থনীতিতে ধসের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে৷

পাকিস্তান: বিশ্ব ব্যাংকের তথ্যমতে, গত মে-জুন মাসের মূল্যস্ফীতিতে দক্ষিণ এশিয়ায় শ্রীলঙ্কার পরই রয়েছে পাকিস্তান৷ দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোতে মূল্যস্ফীতি এক অংকের ঘরে থাকলেও শ্রীলঙ্কায় ৫৬.৬% এবং পাকিস্তানে মূল্যস্ফীতি পৌঁছে গেছে ২১.৩ শতাংশে৷ বিদেশি ঋণ পরিশোধ নিয়ে জটিলতা এবং দ্রুত খালি হয়ে যাওয়া বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ দেশটিকে দ্রুতই অস্থিরতার দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাচ্ছে৷

ভেনেজুয়েলা: ভেনেজুয়েলার অর্থনৈতিক সংকট কয়েক দশক ধরেই চলমান৷ বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি- ডাব্লিউএফপি-র মতে দেশটিতে প্রতি তিন জনে একজন ভুগছেন খাদ্য নিরাপত্তার অভাবে৷ করোনার কারণে অর্থনৈতিক ও মানবিক সংকট আরো তীব্র হয়েছে৷ ইউক্রেন যুদ্ধ বাড়িয়ে দিয়েছে জ্বালানি ও খাদ্য সংকট৷ এর ফলে বিদ্যুৎ এবং সুপেয় জলের অভাবও দেখা দিয়েছে৷

উত্তরদক্ষিণ । ১৭ জুলাই ২০২২ । ১ম পৃষ্ঠা

বিধি-নিষেধ তুলে নেয়াই প্রথমিক পদক্ষেপ হতে পারে: আইএমএফের প্রধান ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধ ও কোভিড মহামারিই বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমার জন্য দায়ী। এটি মানুষের জীবন সংকটকে আরো গভীরে নিয়ে গেছে। তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হচ্ছেন দরিদ্র মানুষ। প্রতি মাসেই নতুন নতুন রেকর্ড গড়ছে অর্থনীতির এই সূচক। আইএমএফ প্রধান আরো বলেন, দ্রুত কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর অনেক দেশ খাদ্য রপ্তানির ওপর বিধি-নিষেধ আরো করেছে। এই বিধি-নিষেধ তুলে নেওয়াই প্রথামিক পদক্ষেপ হতে পারে। তিনি বিশ্বের ধনী দেশগুলিকে সবচেয়ে বেশি জরুরি সহায়তা প্রদানের আহ্বানও জানিয়েছেন।

ইউডি/সুস্মিত

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading