করোনার চতুর্থ ঢেউ : সংক্রমণ বাড়লে লাগাম টানা কঠিন হয়ে পড়বে

করোনার চতুর্থ ঢেউ : সংক্রমণ বাড়লে লাগাম টানা কঠিন হয়ে পড়বে

আহসান হাবিব । বুধবার, ২০ জুলাই ২০২২ । আপডেট ১২:১৫

মানুষ করোনা ও স্বাস্থ্যবিধি মানার কথা ভুলতে বসলেও করোনা আবার হানা দিয়েছে। সারা দেশেই তার লক্ষণ ইতোমধ্যে লক্ষ্য করা গেছে। প্রায় প্রতিটি ঘরে ঘরে আপাতদৃষ্টিতে সর্দি, জ্বর, কাশি দেখা দিলেও এগুলো করোনার ধরন কিনা- সেটা নিয়ে ভাবছেন বিশেষজ্ঞরা। সারা দেশে এখন অসুস্থতা নৈমিত্তিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। টেস্ট করলে হয়তো এর মধ্যে অজস্র করোনার রোগী পাওয়া যাবে। কিন্তু এখনো কারো কোনো শঙ্কা নেই, চিন্তাও নেই। যে কারণে করোনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে।

অলক্ষ্যে করোনা বেড়ে গেলে তখন এর লাগাম টানা কঠিন হয়ে পড়বে। গত বছর ঈদুল আজহা পালন করতে মানুষের ভোগান্তির কথা সবাই যেন ভুলে গেছে। আমাদের এই জনপদে করোনা মহামারি হানা দিয়েছিল। লকডাউনের সেইসব দুঃসহ দিনের কথা মানুষ এত দ্রুত ভুলে গেছে যে এবারে সতর্কতা থাকলেও কেউ স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই ঘুরে এসেছে গ্রামের বাড়ি। যাওয়া এবং আসার মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি না মানলে করোনা ভয়ংকর আকার নিতে পারে এ সতর্কতা গায়ে লাগায়নি কেউ। সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরও বলার জন্য সব বলেছে। কিন্তু স্বাস্থ্যবিধি মানানোর কোন পদক্ষেপ কোথাও চোখে পড়েনি। ফলে এবারে ঈদুল আজহা উদযাপনে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত থাকায় করোনা সংক্রমণ ব্যাপক হারে বাড়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

তবে এসব জ্বরকে অবহেলা করা উচিত নয় জানিয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলেন, চারদিনের বেশি জ্বর থাকলে একই সঙ্গে ডেঙ্গু ও করোনার পরীক্ষা করাতে হবে। মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্যবিধি সবার মেনে চলতে হবে। যদিও এ সময় সাধারণ ভাইরাস জ্বরই বেশি হয়ে থাকে। বিশেষ করে ঋতু বা আবহাওয়া পরিবর্তনের ফলে। আবার কিছু কিছু কারণ আছে, যার কারণে যে কোনো সময় জ্বর হতে পারে। যেমন কিছু জটিল রোগে র‌্যাশসহ জ্বর হতে পারে। সাধারণত ওষুধ খেলে জ্বর ভালো হয়ে যাচ্ছে। তবে যাদের জ্বর চার-পাঁচ দিনের বেশি থাকে তাদের অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। আর বর্তমানে যাদের করোনার জ্বর সেটিও অল্পতে ভালো হয়ে যাচ্ছে। তবে বয়স্ক, শারীরিক দুর্বলতাসহ বিভিন্ন ক্রিটিক্যাল রোগে আক্রান্তরা করোনায় আক্রান্ত হলে খারাপের দিকে যাচ্ছে। ডেঙ্গু জ্বরের সময় ১০১ ডিগ্রি থেকে ১০২ ডিগ্রি তাপমাত্রা থাকতে পারে। জ্বর একটানা থাকতে পারে, আবার ঘাম দিয়েও জ্বর ছেড়ে দেওয়ার পর আবারো জ্বর আসতে পারে। এর সঙ্গে শরীরে ব্যথা, মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা এবং চামড়ায় লালচে দাগ (র‌্যাশ) হতে পারে। তবে এগুলো না থাকলেও ডেঙ্গু হতে পারে। দেশে করোনা আছে, ডেঙ্গুও আছে।

সম্প্রতি করোনার চতুর্থ ঢেউ শুরু হয়েছে। দেশে দিন যত যাচ্ছে ফের করোনার আক্রান্ত ও মৃত্যু ততই বাড়ছে। এমন শঙ্কার মধ্যে সারা দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত কয়েক দিনে বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মোট মৃত্যু দাঁড়াল ২৯ হাজার ১৮৮ জনে। আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯ লাখ ৮৬ হাজার ৪৯০ জনে। ঈদকে কেন্দ্র করে সারা দেশে স্বাস্থ্যবিধি না মানার চিত্র সবাই দেখেছে। এভাবে চলতে থাকলে সংক্রমণ ব্যাপক হারে বেড়ে যেতে পারে। ডেঙ্গু জ্বর খুবই মারাত্বক। এই জ্বরে শরীরে র‌্যাশ ওঠে, প্রচণ্ড মাথাব্যথা দেখা দেয়। চার-পাঁচ দিনের বেশি জ্বর থাকলে একই সঙ্গে করোনা ও ডেঙ্গুর পরীক্ষা করাতে হবে। একই সঙ্গে সবার মাস্ক পরতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। এখন যেহেতু ডেঙ্গু, করোনা ও সিজনাল জ্বরের মৌসুম, তাই অনেকে জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছে। অনেকে এমনিতেই ভালো হচ্ছে। তবে যাদের জ্বর চার-পাঁচ দিনের বেশি থাকছে তাদের অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। আর মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। মাস্ক পরলে নিজে নিরাপদ থাকার পাশাপাশি পরিবারও সুরক্ষিত থাকবে। মাস্ক পরার কোনো কিল্প নেই। পক্ষান্তরে ঈদযাত্রায় পরিবহণেও মাস্ক পরিধানের কোনো বালাই ছিল না। ঢাকায় ফিরছেন মানুষ, ঘরে ঘরে জ্বর, সর্দি, কাশি- এ অবস্থায় স্বাস্থ্যবিধি না মানলে করোনা আবার আগের অবস্থায় ফিরে গেলে তখন করার কিছুই থাকবে না।

লেখক- কলামিস্ট

ইউডি/অনিক

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading