মিয়ানমারে জান্তার হাতে চার গণতন্ত্রপন্থির মৃত্যুদণ্ড: বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড়
উত্তরদক্ষিণ । বুধবার, ২৭ জুলাই ২০২২ । আপডেট ০৮:২০
সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালাতে সহায়তা করার দায়ে অভিযুক্ত চার গণতন্ত্রপন্থি আন্দোলনকারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় তুলেছে মিয়ানমারের সামরিক জান্তা। গত সোমবারের ওই ঘটনায় দø কার্যকর হয় গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী অং সান সু চির দলের সাবেক সংসদ সদস্য ও মানবাধিকার কর্মীসহ চারজনের। গত ৩০ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে দেশটিতে যা প্রথম মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা। এই ঘটনায় জাতিসংঘসহ বিশ্ব মানবাধিকার সংস্থাগুলো নিন্দা প্রকাশ করেছে। বিস্তারিত লিখেছেন বিনয় দাস
গত ৩০ বছরেও মিয়ানমারে যা ঘটেনি এবার তাই ঘটল। সামরিক জান্তার হাতে থাকা দেশটিতে গণতন্ত্রপন্থি চার অ্যাক্টিভিস্টকে প্রাণ দিতে হলো। আর এই ঘটনায় বিশ্বজুড়ে নিন্দা ও ক্ষোভের দিয়েছে। যদিও জান্তা সরকার বলছে সুনির্দিষ্ট বিচারের মাধ্যমেই তাদের সাজা দেয়া হয়েছে। তবে এ ধরণের দণ্ড কার্যকরে জাতিসংঘসহ বিশ্বের প্রধান প্রধান মানবাধিকার সংস্থাগুলো হতাশা প্রকাশ করেছে। একইসঙ্গে আমেরিকা, অষ্ট্রেলিয়া, জামান, ইইউ’র মতো দেশগুলো নিন্দা জানিয়েছে। গত সোমবার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়াদের মধ্যে রয়েছেন অ্যাক্টিভিস্ট কিয়াও মিন উ, তিনি কো জিমি নামেও পরিচিত। এছাড়া আইনপ্রণেতা পাইও জেয়াকেও মৃত্যুদন্ড দেওয়া হয়েছে। গত বছর সেনা অভ্যুত্থানের পর এসব অ্যাক্টিভিস্টকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়। রুদ্ধদ্বার আদালতের বিচারে তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি এই বিচার অন্যায্য। পাইও জেয়া এবং কো জিমি গত জুনে দণ্ডের বিরুদ্ধে করা আপিলে হেরে যান। এছাড়া অন্য দুই অ্যাক্টিভিস্ট হ্লা মিয়ো অং এবং অং থুরা জাও সম্পর্কে কম জানা যায়। জান্তা সরকারের তথ্যদাতা হিসেবে অভিযুক্ত এক নারীকে হত্যার দায়ে তাদের দণ্ড দেওয়া হয়। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, অস্ট্রেলিয়া, জাপান, নিউ জিল্যান্ড, নরওয়ে, দক্ষিণ কোরিয়া, ব্রিটেন এবং আমেরিকার এক যৌথ বিবৃতিতে এগুলোকে ‘নিন্দনীয় সহিংসতামূলক কর্মকাণ্ড যা মানবাধিকার এবং আইনের শাসনের প্রতি শাসনের অবহেলার উদাহরণ’ বলে অভিহিত করা হয়েছে।
‘ন্যায়বিচার’ বলছে মিয়ানমার জান্তা: এদিকে, গণতন্ত্রপন্থি আন্দোলনকর্মীর মৃত্যুদন্ডকে আইনসম্মত অ্যাখ্যা দিয়ে মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন সামরিক জান্তা বলেছে, জনগণের জন্য ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় এ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৬ জুলাই) জান্তার মুখপাত্র জ মিন তুন এসব বলেছেন। তিনি বলেন, ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার জন্য এসব মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়নি। আইনের আওতায় কার্যকর হয়েছে এবং সাজাপ্রাপ্তদের আত্মরক্ষার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল বলে জানান তুন। এ পদক্ষেপের যে ব্যাপক সমালোচনা হবে মিয়ানমারের সামরিক সরকার তা জানত বলেও মন্তব্য করেছেন মুখপাত্র জ মিন তুন।
জাতিসংঘের হতাশা প্রকাশ: জাতিসংঘও এ ঘটনার সমালোচনা করেছে। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস মিয়ানমার জান্তার সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়েছেন। এ সিদ্ধান্তকে মানুষের জীবনযাপন, স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার অধিকারের স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৯৮৮ সালের পর মিয়ানমারে প্রথমবারের মতো মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের এ ঘটনার ধারাবাহিকতায় আরও অনেক ফাঁসি কার্যকর হতে পারে। সংস্থাটির মানবাধিকার প্রধান মিশেল বাশলে বলেন, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা থেকে বিরত থাকতে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বারবার আহ্বান সত্ত্বেও মিয়ানমারের সেনাবাহিনী চার গণতন্ত্রকর্মীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে। আমি হতাশ। সারাবিশ্ব থেকে আবেদন করা সত্ত্বেও মিয়ানমারের সেনাবাহিনী মানবাধিকারের তোয়াক্কা না করেই এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে। তিনি বলেন, এই নিষ্ঠুর এবং পশ্চাদপসরণমূলক পদক্ষেপ দেশটির জনগণের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর চলমান দমনমূলক অভিযানের একটি সম্প্রসারণ। দিকে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রতিক্রিয়ায় মিয়ানমারে জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিনিধি টম অ্যান্ড্রু বলেছেন, তিনি এ খবর শুনে ‘মর্মাহত ও বিধ্বস্ত’ হয়েছেন। তিনি জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কঠোর পদক্ষেপ দাবি করেন।
অ্যামনেস্টি বলছে অপেক্ষায় আরও ১০০ জন: মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলছে, মিয়ানমারে আরও ১০০ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হতে পারে। অ্যামনেস্টি এটিকে ‘রাষ্ট্রীয় শোষণের নির্মম উস্কানি’ বলে বর্ণনা করেছে। তারা সতর্ক করে বলেছে যে, মিয়ানমারে সামরিক আদালতের দণ্ড মাথায় নিয়ে আরও প্রায় ১০০ জন মৃত্যুর ঝুঁকিতে রয়েছেন।

‘জান্তাকে এর মূল্য চুকাতে হবে’
আমেরিকাভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) মিয়ানমারে চার গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলনকর্মীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে। একে ‘সম্পূর্ণ নৃশংস কর্মকান্ড’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এইচআরডব্লিউর এশিয়াবিষয়ক ভারপ্রাপ্ত পরিচালক এলাইনে পিয়ারসন এসব কথা বলেন। জান্তাকে যে এ অপরাধকর্মের মূল্য চুকাতে হবে, তা তাদের দেখিয়ে দেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে এইচআরডব্লিউ। গত বছর অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতা দখলের পর ভিন্নমতাবলম্বীদের দমন-পীড়নের অংশ হিসেবে বেশ কয়েকজনকে মৃত্যুদণ্ড দেয় জান্তা।
বিক্ষুব্ধ ও মর্মাহত আসিয়ান: এই ঘটনায় মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন জান্তাকে তীব্র ভাষায় তিরস্কার করেছে দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলোর জোট আসিয়ান। এ মৃত্যুদøকে ‘অত্যন্ত নিন্দনীয়’ অ্যাখ্যা দেওয়ার পাশাপাশি একে মিয়ানমারের সংকট নিরসনে আঞ্চলিক প্রচেষ্টার জন্যও ‘ধ্বংসাত্মক’ বলে অভিহিত করেছে তারা। ১০ সদস্যবিশিষ্ট অ্যাসোসিয়েশন অব সাউথইস্ট এশিয়ান নেশনস (আসিয়ান) বলেছে, জোটের পরবর্তী বৈঠকের সপ্তাহখানেক আগে এ চারজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবরে তারা ‘বিক্ষুব্ধ ও গভীরভাবে মর্মাহত’ হয়েছে। সংকটের জটিলতা সুবিদিত এবং মিয়ানমারের সব ক্ষেত্রেই তীব্র মারমুখো মেজাজ দেখা যেতে পারে, তা সত্ত্বেও আসিয়ান সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানাচ্ছে, চলতি বছরের আসিয়ানের সভাপতির দায়িত্ব পালন করা কম্বোডিয়া এক বিবৃতিতে এমনটাই বলেছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ৫৫তম আসিয়ান মন্ত্রিপর্যায়ের বৈঠকের আগে এসব মৃত্যুদণ্ড কার্যকর অত্যন্ত নিন্দনীয় হয়েছে। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের মাধ্যমে জাতিসংঘ সমর্থিত আসিয়ানের শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জান্তার ‘সদিচ্ছার ঘাটতি’ দেখা যাচ্ছে বলে মন্তব্যও করেছে তারা।
দেশে দেশে নিন্দার ঝড়: মিয়ানমারের চার গণতন্ত্রপন্থি আন্দোলকর্মী এবং নির্বাচিত নেতাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনাকে ‘জঘন্য’ বলে বর্ণনা করে এর তীব্র সমালোচনা করেছে আমেরিকা। দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল থেকে একটি বিবৃতিতে বলা হয়, মিয়ানমারের জান্তা সরকারের গণতন্ত্রপন্থি নেতাকর্মী ও নির্বাচিত নেতাদের জঘন্যতম মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তীব্র নিন্দা জানায় আমেরিকা। তারা বলছে, আমরা জান্তা সরকারকে অবিলম্বে সহিংসতা বন্ধ করার, অন্যায়ভাবে আটকদের মুক্তি দেওয়ার এবং মিয়ানমারের জনগণের ইচ্ছা অনুযায়ী গণতন্ত্রে শান্তিপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের অনুমতি দেওয়ার আহ্বান জানাই। জাপানও এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। বলেছে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের এ ঘটনা মিয়ানমারকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও বিচ্ছিন্ন করে ফেলবে। জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োশিমাসা হায়াশি মিয়ানমার জান্তার এই পদক্ষেপকে গভীর উদ্বেগের বিষয় বলে আখ্যা দিয়েছেন এবং বলেছেন এ ঘটনায় মিয়ানমারে জাতীয় ভাবাবেগ এবং সংঘাত মাথা চাড়া দিয়ে উঠবে। এছাড়াও নিন্দা জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়া, ইউরোপিয় ইউনিয়ন।
চীনকে সতর্ক করলো আমেরিকা: আমেরিকা ও চীনের সম্পর্কে ওঠানামা আছে, আছে নানা সংকটও। তবে মিয়ানমারের সঙ্গে চীনের যোগাযোগটা খারাপ না। এরই প্রেক্ষাপটে বহু বছর পর মৃত্যুদন্ড কার্যকরের ঘটনায় মিয়ানমারকে চাপ দিতে চীনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জো বাইডেন প্রশাসন।
চার অ্যাক্টিভিস্টের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করায় মিয়ানমারের জান্তা সরকারের প্রতি চাপ বাড়াতে চীনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে আমেরিকা। আমেরিকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নেড প্রাইস বলেন, মিয়ানমারের প্রতি চীনের প্রভাব অন্য যেকোনও দেশের চেয়ে বেশি হতে পারে। তিনি বলেন, আমরা সারা বিশ্বের দেশগুলোর প্রতি আরও বেশি উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। পাশাপাশি আমরাও বেশি কিছু করবো। নেড প্রাইস বলেন, মিয়ানমারের জান্তা সরকারের সঙ্গে ‘স্বাভাবিকের মতো বাণিজ্য’ হতে পারে না। এছাড়া দেশটির কাছে সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে দেশগুলোকে আহ্বান জানান। একই সঙ্গে শাসক গোষ্ঠীটিকে কোনও পর্যায়ের আন্তর্জাতিক ঋণ দেওয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, জান্তা শাসকের রাজস্ব আয় বন্ধ করে দিতে ‘সব বিকল্প’ বিবেচনা করছে আমেরিকা। তবে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেছেন, চীন অন্য কোনও দেশের অভ্যন্তরীণ ইস্যুতে হস্তক্ষেপ করে না। মিয়ানমারে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর নিয়ে জানতে চাইলে ঝাও লিজিয়ান বলেন, মতপার্থক্য নিরসনে মিয়ানমার তাদের আইন ও সংবিধান অনুসরণ করতে পারে।

মৃত্যুদন্ড কার্যকর হওয়া সেই চার ব্যক্তির পরিচয়: আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা জানিয়েছে যাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে তাদের মধ্যে ছিলেন গণতান্ত্রিক আন্দোলনকারী কেয়াও মিন উ, যিনি জিমি নামে বেশি পরিচিত এবং সাবেক আইনপ্রণেতা ও হিপ-হপ শিল্পী ফিও জেয়া থ রয়েছেন। কেয়াও মিন উ (৫৩) এবং ফিও জেয়া থ (৪১) মিয়ানমারের ক্ষমতাচ্যুত নেত্রী অং সান সু চির ঘনিষ্ঠ মিত্র ছিলেন। দেশটির এ দুই বিশিষ্ট গণতন্ত্রপন্থি আন্দোলনকারী তাদের মৃত্যুদন্ডের বিরুদ্ধে আপিল করলেও জুনে তা খারিজ হয়। অপর যে দুজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে তারা হলেন হ্লা মায়ো অং ও অং থুরা জ।
ফিও জেয়া থ-র স্ত্রী থাজিন নিউন্ত অং জানিয়েছেন, তার স্বামীর মৃত্যুদন্ড কার্যকরের বিষয়ে তাকে কিছু জানানো হয়নি। সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও দণ্ডবিধিতে ওই চার জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছিল এবং কারাগারের প্রক্রিয়া অনুযায়ী তাদের শাস্তি কার্যকর করা হয়েছে।
তাদের মৃত্যুদণ্ড কীভাবে কার্যকর করা হয়েছে প্রতিবেদনে তা জানানো হয়নি। এর আগে মিয়ানমারে মৃত্যুদণ্ডগুলো ফাঁসির মাধ্যমে কার্যকর করা হয়েছে। আন্দোলনকারী গোষ্ঠী অ্যাসিট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন অব পলিটিক্যাল প্রিজনার্স (এএপিপি) জানিয়েছে, এর আগে ১৯৮০ দশকের শেষ দিকে মিয়ানমারে শেষবার বিচারিক মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল।
ইউডি/সুস্মিত

