দেশের কল্যাণে পুলিশের কাজ হোক নাগরিক সেবা
শামিম আনসারি । বুধবার, ২৭ জুলাই ২০২২ । আপডেট ১৩:৩৫
পুলিশ সম্পর্কে কিছু বিষয় জানার জন্য উইকিপিডিয়াতে সার্চ দিয়ে শুরুতেই জানতে পারলাম, ‘পুলিশ হচ্ছে একটি দেশের দ্বারা ক্ষমতাপ্রাপ্ত আইন কার্যকর, সম্পত্তি রক্ষা, সামাজিক অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা এবং জনগণের নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনী’। পুলিশ হচ্ছে সাধারণ জনগণের মতোই, তাদের মধ্য থেকেই যাচাই বাছাই করে পুলিশ বিভাগে কাজ করার জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়। দেশের অভ্যন্তরে শান্তি রক্ষা, ভাবমূর্তি বিনষ্ট না করা, অপরাধ দমন করাসহ এদের কিছু বিষয় যতোটা সচেতন থাকতে হয় ততোটাই আবার দায়িত্ব পালনে আন্তরিক হতে হয়। তবে পুলিশ বাহিনীর সদস্যরাও যেহেতু রক্তমাংসের মানুষ সুতরাং অন্য সাধারণ মানুষদের মতোই ইচ্ছে, সখ এবং চাহিদা তাদের থাকতেই পারে। সেসব ইচ্ছে, সখ এবং চাহিদা যদি আবার সাধারণ মানুষের ক্ষতির কারণ হয় তবে সেটা হয়ে যায় আইনবিরোধী, অন্যায় বা অপরাধ। নিজেকে এসবে সংযত রাখতে পারাটাই হচ্ছে তাদের সঠিক দায়িত্বের পরিচয় দেওয়া।
পৃথিবীর এমন অনেক দেশের কথাই শুনি বা জানি সেই দেশের পুলিশ সদস্যরা আমাদের দেশের পুলিশ সদস্যদের মতো নানা অপরাধ কাজের সাথে জড়িত। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে আমাদের দেশের পুলিশ সদস্যদের বিষয়টি স্বাভাবিক বলছি না, বলছি তারাও যে মানুষ তাই কিছুটা মেনে নেওয়া যায়। কিন্তু এসকল পুলিশ সদস্য বা অফিসার দেশে যে ধরনের অপরাধ করছে সেটা আবার মেনে নেওয়া যায় না। অনেকটাই যেন রক্ষক হয়ে ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়ার মতো ঘটনা ঘটাচ্ছে। মাঝে মধ্যে এমন সকল ঘটনার সাথে বাংলাদেশের কতিপয় পুলিশ বিভাগের সদস্যদের জড়িত থাকার কথা শুনি যা ভাবতেও খারাপ লাগে। তা মোটেও প্রত্যাশিত নয়।
অপরাধ তো অপরাধই। আইনও সবার জন্য সমান। তাই যদি হয় অপরাধ যে করবে সে-ই আইনের চোখে অপরাধী। আর অপরাধীর বিচার করে তার প্রাপ্য শাস্তি অবশ্যই দেওয়া দরকার। তা না হলে এর ফল সমাজে প্রতিফলিত হবেই, যা বর্তমানে দেশে দেখছি। অপরাধ ছোট কি বড় যা-ই হোক তাকে বিচারের আওতায় এনে শাস্তি প্রদানের বিধান এবং তা কার্যকরের ব্যবস্থা থাকলে এই অপরাধ গুলোর পরিমাণ কম হবে, এটা আমার ধারনা।
বেশ কিছুদিন আগে দেশে একজন নারী তার কপালে টিপ কেন পড়লো এই নিয়ে এক পুলিশ সদস্য তাকে ঢাকার রাস্তায় অপদস্ত করেছে। বিষয়টি নিয়ে আমার যেন ভাবনার শেষ নেই। দেশে পুলিশের কতো কাজ, কাজের শেষ নেই। সেসব দিকে নজর না দিয়ে একজন নালী তার কপালে কেন টিপ পড়েছে এজন্য খারাপ ভাষায় কথা বলা, জনসম্মুখে অপদস্ত করা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। দেশে এনিয়ে ইতোমধ্যে নানা কর্মসূচী পালনও করা হয়েছে। আমি তাদের সাথে একমত পোষণ করলেও সেখানে কোনো কোনো ব্যক্তি বিষয়টিকে ধর্মীয়ভাবে দেখে সাম্প্রদায়িকতার বিষয়টি টেনে এনেছেন। এটাকেও আবার মেনে নেওয়া যায় না। বাংলাদেশে কেবল মাত্র যে হিন্দু, বৌদ্ধ আর খ্রিস্টান নারীরা কপালে টিপ পড়েন এমনটা কিন্তু নয়। মুসলিম নারীরাও তাদের কপালে টিপ পড়েন। এটা নারীদের নিজেদের শ্রীবৃদ্ধিরই অংশ। এখানে একজন নারীকে রাস্তায় পুলিশ বাহিনীর সদস্য দারা কেবলমাত্র কপালে টিপ পড়ার কারণে অপদস্থ হতে হয়েছে এটাই বড় অপরাধ হিসেবে দেখছি। ওই অপরাধী পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে বরখাস্তও করা হয়েছে।
এ কথা অস্বীকার করার বিন্দুমাত্র উপায় নেই যে আমাদের দেশের অনেক সৎ এবং নিষ্ঠাবান পুলিশ সদস্য তাদের আন্তরিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে এই পুলিশ বাহিনীর সুনামকে অক্ষুণ্ন রাখার চেষ্টা করছেন জানি। এই যদি হয় অবস্থা তাহলে সেই সুনাম রক্ষার ধারাবাহিকতা নষ্ট হতে বাধ্য। সর্বশেষ আমি একটা কথাই বলতে চাই, পুলিশ বাহিনীর প্রতিটি সদস্যকে আইনের আওতায় রাখতে হবে। বুঝতে এবং তাদেরকে বোঝাতে হবে আইন সকলের জন্য সমান। কারো ব্যক্তি স্বার্থ চরিতার্থ করতে প্রভাবশালী কোনো ব্যক্তি বা দলের লেজুড়বৃত্তি না করে স্বাধীন করা হোক, পুলিশ যেন স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে। যা হবে দেশ ও জাতির এবং জনগণের স্বার্থ রক্ষা এ মঙ্গলেরই জন্য।
লেখক- সাংবাদিক।
ইউডি/সুস্মিত

