মন্ত্রীর শিক্ষক নিয়োগ কেলেঙ্কারি: বেকায়দায় মমতা
উত্তরদক্ষিণ । শুক্রবার, ২৯ জুলাই ২০২২ । আপডেট ১১:১০
পশ্চিমবঙ্গের শিল্পমন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে শিক্ষক নিয়োগ কেলেঙ্কারির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক অর্থপাচার মামলায় তদন্ত করতে গিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও স্বর্ণ উদ্ধার করেছে ইন্ডিয়ার দুর্নীতি তদন্তের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) কর্মকর্তারা। এ ঘটনায় তুমুল সমালোচনার মধ্যে পরেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। কেননা, পার্থ ছিলেন মমতার খুবই ঘনিষ্ঠ। যদিও শুরু থেকেই এ ঘটনায় কোনো ছাড় নয় বলেছিলেন মমতা। যার রেশ পার্থকে মন্ত্রীত্ব ও দল থেকে বহিস্কার। বিস্তারিত লিখেছেন মিলন গাজী।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভার সদস্য ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী পার্থর বিরুদ্ধে শিক্ষামন্ত্রী থাকাকালে সরকারি স্কুলে শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগে ব্যাপক দুর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এরই আলোকে দেশটির দুর্নীতি তদন্তের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) কর্মকর্তারা অনুসন্ধান শুরু করেন। আর তাদের এই অভিযানে বের হচ্ছে কোটি কোটি রূপির সন্ধান। অর্থ সংরক্ষণের জন্য নিজের দুই বান্ধবির ঘরকেই বেছে নিয়েছিলেন পার্থ। এর সত্যতা শিকার করেন তার বান্ধবি অর্পিতা। বদলি এবং কলেজের স্বীকৃতি পেতে সহায়তার বিনিময়ে পার্থ এসব অর্থ পেয়েছেন, অর্পিতা তদন্ত কর্মকর্তাদেরকে এমনটা বলেছেন বলে জানা গেছে। অর্পিতা জানান, পার্থ আমার এবং অন্য এক নারীর ঘরকে মিনি ব্যাংক হিসেবে ব্যবহার করতো। ওই অন্য নারীও পার্থর ঘনিষ্ঠ বন্ধু। গত বুধবার তদন্তকারী সংস্থার কর্মকর্তারা তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক মানিক ভট্টাচার্যকেও জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন বলে জানা গেছে। মানিক পশ্চিমবঙ্গ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের সাবেক প্রেসিডেন্ট।
দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেবেন না মমতা: পার্থ চট্টোপাধ্যায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর বিরোধীদের তোপের মুখে পড়া মমতা বন্দোপাধ্যায় বলেছেন, তিনি দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেন না এবং দোষী সাব্যস্ত হলে শিল্পমন্ত্রীর অবশ্যই সাজা হওয়া উচিত। তিনি আরও বলেন, কেউ যদি দোষী প্রমাণিত হয়, তাহলে তার অবশ্যই সাজা হওয়া উচিত। তবে আমি আমার বিরুদ্ধে যে নোংরা প্রচারণা চলছে, তার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। কিছুটা সময় লাগলেও সত্য অবশ্যই বেরিয়ে আসবে। পার্থর অর্থ কেলেঙ্কারি ও মমতার ঘনিষ্ঠ সহচর হওয়ায় পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলের নেতৃবৃন্দ এ ঘটনায় মমতাকেও একহাত নিয়েছেন।
মন্ত্রিত্বর সঙ্গে পার্থ দল থেকেও বহিস্কার: এদিকে, এই ঘটনায় পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে মন্ত্রিসভা থেকে সরিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গ্রেফতার হওয়ার পাঁচ দিন পর ক্ষমতাসীন দল তৃণমূলের শৃঙ্খলা কমিটির বৈঠকে আগেই বৃহস্পতিবার (২৮ জুলাই) পার্থকে বরখাস্ত করেন মমতা। শুধু তাই নয় তাকে দল থেকেও বহিস্কার করা হয়েছে একই দিনের অপর একটি বৈঠকে। রাজ্যের তিনটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন পার্থ। এগুলোর মধ্যে ছিল- শিল্প মন্ত্রণালয়, তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়। পার্থকে বরখাস্ত করায় এখন তিনটি মন্ত্রণালয় মুখ্যমন্ত্রীর নিয়ন্ত্রণে থাকবে। গত মঙ্গলবার থেকেই জল্পনা ছড়ায় পার্থ মন্ত্রিত্ব থেকে পদত্যাগ করছেন বা তাকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। যদিও এ প্রশ্নে তার দল তৃণমূল কংগ্রেস তার পাশেই রয়েছে। পার্থকে সরানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা জানিয়েছেন, পার্থের অধীন তিনটি দফতরই আপাতত তার হাতে থাকবে। পার্থকে সরানো হয়েছে রাজভবনের অনুমোদন অনুযায়ী। সেই মর্মেই বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। অর্থাৎ, প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রী মমতা রাজ্যপালকে জানিয়েছেন, পার্থকে আর মন্ত্রিত্বে রাখা হচ্ছে না। তার অধীন দফতরগুলি (শিল্প, পরিষদীয় এবং তথ্যপ্রযুক্তি) মুখ্যমন্ত্রীই দেখবেন। মুখ্যমন্ত্রীর সুপারিশ মেনে রাজ্যপালের তরফে ওই বিষয়ে সবুজ সঙ্কেত দেওয়া হয়। তার পরেই আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি করে ।

অন্যদিকে, পার্থের বিরুদ্ধে যে দল শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে চলেছে তার দল, তা বৃহস্পতিবার সকালেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল কুণালের আক্রমণাত্মক টুইটে। যেখানে তিনি দাবি তুলেছিলেন, মন্ত্রিত্ব এবং দলের সমস্ত পদ থেকে ছেঁটে ফেলা তো বটেই, প্রয়োজনে পার্থকে দল থেকে বহিষ্কার করা হোক! কুণালের সেই দাবির অব্যবহিত পরেই জানা যায়, বৃহস্পতিবার তৃণমূল ভবনে দলের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির বৈঠক ডেকেছেন অভিষেক। ওই শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির প্রধান আবার পার্থ নিজেই! কিন্তু ইডির হাতে গ্রেফতার হওয়ায় তিনি স্বভাবতই বৈঠকে থাকতে পারবেন না। এ-ও এক সমাপতন যে, একদা তারই নিয়ন্ত্রণাধীন শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি তার বিরুদ্ধেই শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ নিয়ে বৈঠকে বসল! সেই বৈঠকেই তাঁকে দলীয় শাস্তির মুখে পড়তে হল। এবং সেই চেয়ারম্যানের পদটি খোয়াতে হল।
তৃণমূলের ওই কমিটিতে অভিষেক এবং পার্থ ছাড়াও ছিলেন রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী, রাজ্যের তিন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এবং প্রবীণ সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে সংসদের অভিবেশন চলায় সুদীপ আপাতত দিল্লিতে। তাই তিনি ওই বৈঠকে ছিলেন না।
গ্রেপ্তারের সময় মমতার নাম ফেলায় ‘বেকায়দা’: পশ্চিমবঙ্গের বিরোধীদলীয়রা এই ঘটনায় সরব হয়েছিলেন প্রথম থেকেই। তারা শুধু পার্থকেই মন্ত্রিসভা থেকে বহিষ্কারের দাবি জানাননি, মমতারও পদত্যাগের দাবি তোলেন। তৃণমূলের ভেতরেও পার্থের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠছিল। কিন্তু কেউই এ নিয়ে প্রকাশ্যে নিজেদের মতামত জানাননি গতকাল বৃহস্পতিবারের আগে পর্যন্ত।পার্থের গ্রেফতারির সময় অ্যারেস্ট মেমোতে মুখ্যমন্ত্রী মমতার নাম এবং ফোন নম্বর দেওয়ায় তাঁর উপর রুষ্ট এবং অসন্তুষ্ট ছিলেন তৃণমূল নেতৃত্ব। দলের এক প্রবীণ নেতা তখনই বলেছিলেন, মুখ্যমন্ত্রীর নামটা এ ভাবে জড়িয়ে দেওয়ার কাজটা অত্যন্ত অনভিপ্রেত হয়েছে। সেটা করে পার্থ ঠিক করেননি। কিন্তু ওই বিষয়ে কোনও অনুতাপ তো দূরস্থান, ধৃত পার্থ সংবাদমাধ্যমকে সরাসরিই বলেছিলেন, তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে একধিকবার ফোন করেছিলেন। কিন্তু সাড়া পাননি।

বান্ধবি অর্পিতার দুই ফ্লাটে মিলল ৫০ কেটি রূপি: পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের কলকাতার আরেকটি ফ্ল্যাট থেকে নগদ প্রায় ২৯ কোটি রুপি ও ৫ কেজি স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করেছে ইডি। গত বুধবার বেলঘরিয়ায় ওই ফ্ল্যাটে অভিযান চালায় তারা। এর আগে গত শুক্রবার অর্পিতার টালিগঞ্জের ফ্ল্যাট থেকে নগদ ২১ কোটি রুপি করা হয়েছিল। সব মিলিয়ে তদন্ত কর্মকর্তারা পার্থঘনিষ্ঠ অর্পিতার দুটি ফ্ল্যাট থেকে প্রায় ৫০ কোটি রুপি নগদ অর্থ উদ্ধার করলেন।
উদ্ধারের পরদিন শনিবার শিল্পমন্ত্রী পার্থ ও অর্পিতাকে গ্রেপ্তার করেছিল ইডি। বুধবার তারা অর্পিতার বেলঘরিয়ার ফ্ল্যাটে যায়; ১৮ ঘণ্টার অভিযান শেষে বৃহস্পতিবার (২৮ জুলাই) ভোরের দিকে ১০ ট্রাঙ্কভর্তি অর্থ নিয়ে বেরিয়ে আসে। অর্পিতার এই ফ্ল্যাটে কী পরিমাণ অর্থ আছে, তা গুণতে ইডি কর্মকর্তাদের তিনটি নোট গণনাযন্ত্র ব্যবহার করতে হয়েছে বলে জানিয়েছে একাধিক সূত্র।
শৌচাগার যেনো পার্থর ব্যাংক: ইডি সূত্রের বরাত দিয়ে আনন্দবাজার জানায়, ইডি কর্মকর্তারা ফ্ল্যাটটির ওয়াড্রোব, এমনকী শৌচাগার থেকেও ব্যাগে, প্লাস্টিকের প্যাকেটে ভরে রাখা নগদ অর্থ উদ্ধার করেন। এর আগে অর্পিতার টালিগঞ্জের ফ্ল্যাট থেকে নগদ অর্থের পাশাপাশি ২ কোটি রুপি মূল্যের সোনার বার ও বিপুল পরিমাণ বিদেশি মুদ্রাও পাওয়া গিয়েছিল। সেখানে তারা একটি ডায়েরিরও হদিস পায়, যাতে থাকা তথ্য তদন্তে ব্যাপক সহায়তা করতে পারে বলে ধারণা কর্মকর্তাদের। পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ অর্পিতা মুখোপাধ্যায় জেরায় স্বীকারোক্তি দিয়েছেন যে, তার দুটি ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার বিপুল রুপি মন্ত্রী পার্থদা’র। আলোচিত এ ঘটনার মামলায় ইডি হেফাজতে রয়েছেন মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। জেরার মুখে অর্পিতা জানিয়েছেন, পার্থ চট্টোপাধ্যায় মাঝেমধ্যেই যেতেন বেলঘরিয়ার ফ্ল্যাটে। উদ্ধার রুপি যে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের, সে কথাও জানিয়েছেন অর্পিতা।
কত রূপি রাখা হতো জানতেন না অর্পিতা: কিন্তু পার্থঘনিষ্ঠ অর্পিতার দাবি, ঘরে রাখা রুপির কথা জানা থাকলেও, কী পরিমাণ রাখা হতো সেটা তিনি জানতেন না। ঘরে প্রবেশের সুযোগও ছিল না তার। যদিও অর্পিতার এসব দাবি, মানতে নারাজ ইডির কর্মকর্তারা। তার ফ্ল্যাটে কারা রুপি রাখতেন এমন প্রশ্নের জবাবে অর্পিতা বলেন, পার্থ চট্টোপাধ্যায়ই কিছু লোকজনকে পাঠাতেন, যারা এসে ওই ঘরে রুপি রেখে যেতেন। ইডি কর্মকর্তারা মনে করছেন, নিজেকে বাঁচাতেই এখন অর্পিতা এসব বলছেন।
বেলঘরিয়া ক্লাব টাউনের আবাসনে অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের দু’টি ফ্ল্যাট রয়েছে। ব্লক-২ এবং ব্লক পাঁচে। বুধবার ব্লক-২’এর ফ্ল্যাটে হানা দিয়ে কিছু পাওয়া যায়নি। কিন্তু ব্লক-৫’এ অর্পিতার ঘরের দরজা ভাঙতেই অবাক হতে হয় ইডি’র কর্মকর্তাদের। ১৭০০ স্কয়ার ফিটের ফ্ল্যাটে তিনটি কক্ষের বিভিন্ন জায়গায় প্যাকেট অবস্থায় নগদ রুপি পাওয়া গেছে।
টয়লেটের দেয়ালে ক্যাবিনেট করে রাখা ছিল রুপি। পাশাপাশি উদ্ধার হয়েছে ঠাকুরের সোনার মূর্তি, এফডি সার্টিফিকেট, সোনার বার, গয়না ও হীরা। নগদের পরিমাণ ছিল ২৭ কোটি ৯০ লাখ রুপি। উদ্ধার হওয়া সোনার বার, গয়নার পরিমাণ ৪ কোটি ৩১ লাখ রুপি। অর্পিতার টালিগঞ্জ এবং বেলঘরিয়ার ফ্ল্যাটে সবমিলিয়ে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০ কোটি রুপি উদ্ধার হয়েছে বলে জানা গেছে।

‘এটা পার্থর একার নয়, তৃণমূলেরও’
পার্থ-কান্ড সামনে আসার পর থেকে বিজেপির উদ্যোগে বিক্ষিপ্ত ভাবে কলকাতা-সহ রাজ্যের কিছু জায়গায় বিক্ষোভ প্রদর্শন হলেও কলকাতায় বড় মাপের কিছু হয়নি। মহুয়া মৈত্র দেবী কালীকে অপমান করেছেন বলে বিজেপি যে অভিযোগ তুলেছিল, তার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার গেরুয়া শিবিরের পক্ষে কালীপুজোর আয়োজন করার কথা ছিল। কিন্তু শেষবেলায় তা বাতিল করে মিছিলের ডাক দেওয়া হয়। প্রথমে কলেজ স্ট্রিটে জমায়েতের পরে মিছিল শুরু হয়েছে। সেই মিছিলে দেখা যায়, এক বিজেপি কর্মীকে পার্থ চট্টোপাধ্যায় সাজিয়ে তাঁর কোমরে দড়ি বাঁধা হয়েছে। ওই ব্যক্তির গলায় পেঁয়াজের মালাও পরানো হয়েছে। মিছিলে সর্বভারতীয় নেতা রাহুল বলেন, ‘এত দিন শুনেছি লোকে রাত জেগে ভোটের ফলাফল দেখেন। যে ভেলকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দেখালেন এর পর কোনও মুখে কথা বলেছেন? আমি পরিষ্কার বলছি, এই টাকা তৃণমূলের টাকা। পার্থ চট্টোপাধ্যায়, অর্পিতা মুখোপাধ্যায় উপলক্ষ মাত্র। এই টাকার সামান্য একটা অংশ বেরিয়েছে। হাজার কোটি টাকাও বেরিয়ে যেতে পারে।
ইউডি/সুস্মিত

