সড়কে ফেলে রাখা ময়লার দুর্গন্ধে নাকাল রাজধানীবাসী
মো. রাসেল হোসাইন । শুক্রবার, ২৯ জুলাই ২০২২ । আপডেট ১২:২৫
রাজধানীর সড়ক এখন ময়লার দখলে। সড়কের বেশিরভাগ স্থানেই পড়ে আছে গৃহস্থালির ময়লা। ঢাকা পরিবেশ সংরক্ষণ জরুরি হয়ে উঠেছে। আমরা বুঝে বা না বুঝেই প্রতিনিয়ত পরিবেশের ক্ষতি করছি। পচা ময়লা-আবর্জনার দুর্গন্ধ বাতাসের সঙ্গে মিশে আশপাশের পরিবেশ দূষিত করছে। সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নকর্মীরা ভ্যানে করে বাসাবাড়ির ময়লা-আবর্জনা নিয়ে এসে রাস্তার ওপর এলোমেলোভাবে ফেলে যাচ্ছে। কয়েকজন টোকাই পচা ময়লার স্তূপ এদিক-ওদিক সরিয়ে ভাঙাচোরা পস্নাস্টিক, পলিথিন, বোতল ইত্যাদি কুড়িয়ে কাঁধে চাপানো বস্তায় রাখছে। এভাবে ময়লা-আবর্জনা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ছে মূল রাস্তা ও ফুটপাতের বিভিন্ন স্থানে। পথচারীদের দেখা যায়, নাকে রুমাল দিয়ে চলাচল করছে। কেউ কেউ হাত দিয়ে নাক-মুখ চেপে ধরে চলাচল করছে। ফলে প্রতিদিনই এলাকাবাসী, পথচারী, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীসহ হাজার হাজার মানুষ অবর্ণনীয় ভোগান্তিতে পড়ছে। ঢাকার বেশির ভাগ এলাকার মেইন রাস্তায় ময়লার ভাগাড়। যখন ময়লা নিতে সিটি করপোরেশনের গাড়ি আসে, তখন রাস্তা বন্ধ হয়ে জ্যাম বেঁধে যায় এবং আশপাশের এলাকা দুর্গন্ধ দূষিত হয়ে যায়। বেশি ঝামেলা হয় স্কুলের ও অফিসে যাওয়া-আসার সময়।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, সড়কের পাশের ডাস্টবিন থেকে সিটি করপোরেশনের গাড়ি নিয়মিত ময়লা সরিয়ে নিলেও জমে থাকে বর্জ্য। রাজধানীর মিরপুর, বাড্ডা, মোহাম্মদপুর, মতিঝিল, আরামবাগ, মালিবাগ, শান্তিনগর, খিলগাঁও রেলগেট, মুগদা-বাসাবো, সেগুনবাগিচা, কাঁটাবন, নিউমার্কেট, আগারগাঁও তালতলা বাসস্ট্যান্ড, শেওড়াপাড়াসহ বিভিন্ন সড়কের পাশে ডাস্টবিনের উৎকট দুর্গন্ধে নাভিশ্বাসও উঠছে পথচারীদের। নাক চেপে প্রায় দৌড়ে পথটুকু পার হচ্ছেন তারা। রাজধানীর ব্যস্ততম মগবাজার ওয়্যারলেস গেট এলাকায় অবস্থিত টিঅ্যান্ডটি কলোনি স্কুল। এ স্কুলের শিক্ষার্থীদের প্রতিষ্ঠানে আসা-যাওয়া করতে হয় মুখে ‘রুমাল’ অথবা ‘মাস্ক’ দিয়ে। অনেক সময় ক্লাসেও মুখে মাস্ক পরে থাকতে হয় তাদের। স্কুলের ঠিক সামনেই দীর্ঘদিন ধরে থাকা ডাস্টবিনের দুর্গন্ধ থেকে রক্ষা পেতেই তাদের এই চেষ্টা। শুধু স্কুলের শিক্ষার্থীই নয়, এ স্কুলের সামনে দিয়ে চলাচলকারী প্রত্যেক নাগরিককেই এ দুর্গন্ধ সহ্য করতে হচ্ছে। নিয়মিত পরিষ্কার করার কথা থাকলেও কয়েক দিনেও পরিষ্কার হয় না ডাস্টবিন।
ডিএসসিসির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের এক জরিপে দেখা গেছে, সংস্থাটি বর্জ্য সংরক্ষণ ও পরিবহনে মোট ৩২১টি কনটেইনার ব্যবহার করছে। এর মধ্যে ১৫৭টি কনটেইনার ভাঙা। ১৫৭টি কনটেইনারের মধ্যে ৩৫টি মেরামতযোগ্য এবং ৮২টি একেবারেই মেরামতের অনুপযোগী। চলতি বছর ১০৪টি নতুন কনটেইনারের চাহিদা দিয়েছে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ।
গত বছর ডিএনসিসির বর্জ্য ব্যবস্থার পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, সংস্থাটির আওতায় দৈনিক আবর্জনা উৎপন্ন হয় প্রায় ৩ হাজার ৫০০ টন। এর মধ্যে দৈনিক অপসারণ করা হচ্ছে ১ হাজার ৯০০ টন। বাকি ১ হাজার ৬০০ টন বর্জ্য থেকে যায় নগরীতে। যত্রতত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা এসব আবর্জনা ডিএসসিসি এলাকার বিভিন্ন ডোবা-নালা এবং নদী-খালে গিয়ে ভরাট হচ্ছে। একই সঙ্গে এসব আবর্জনা ডিএসসিসি এলাকার পরিবেশও মারাত্মকভাবে দূষিত করছে। অপরদিকে ডিএসসিসি এলাকায় দৈনিক প্রায় সাড়ে ৩ হাজার টন বর্জ্য উৎপন্ন হয়। এর মধ্যে প্রায় ২ হাজার টন বর্জ্য ডিএসসিসি অপসারণ করতে পারছে। বাকি বর্জ্যে কিছু টোকাই সংগ্রহ করে নিচ্ছে এবং অবশিষ্ট বর্জ্য রাজধানীর বিভিন্ন নিচু এলাকা হয়ে ডোবা-নালা এবং নদীতে গিয়ে পড়ে।
রাজধানী ঢাকায় দীর্ঘদিন ধরেই এই সমস্যা। সিটি করপোশনের কিছু কিছু জায়গায় ময়লার নির্দিষ্ট স্থান থাকলেও বেশির ভাগ মহলস্নাতে নেই ময়লা ফেলার নির্দিষ্ট স্থান। নগর-পরিকল্পনাবিদের দাবি, শহরের বর্জ্য অপসারণ নিয়ে সিটি করপোরেশনের যথাযথ পরিকল্পনা না থাকায় দুর্ভোগ বাড়াচ্ছে নগরবাসীর। এ ক্ষেত্রে সরকার, জনগণ সবার দায়িত্ব রয়েছে। পরিবেশ রক্ষার ক্ষেত্রে সবাই যদি দায়িত্ব পালন করে, তাহলে সেটা হবে পরিবেশের সুশাসন। অতএব, স্থানীয় সরকার ও সিটি করপোরেশনের কাছে আকূল আবেদন ঢাকার প্রতিটি এলাকায় গৃহস্থালির ময়লা রাখার জন্য বাউন্ডারি করে নির্দিষ্ট স্থানের দ্রম্নত ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। নগরী পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন রাখতে নগরবাসীকেও সচেতন হতে হবে। সবাই সচেতন হলে অপরিচ্ছন্নতা থাকবে না। আমরা যদি এ নগরীকে নিজের মনে করি, তাহলে আমাদের ঢাকা স্বপ্নের ঢাকা হবে।
লেখক- শিক্ষার্থী, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা
ইউডি/সুস্মিত

