রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ইসি’র সংলাপ: পরবর্তী নির্বাচন নিয়ে যত ভাবনা
উত্তরদক্ষিণ । মঙ্গলবার, ০২ আগস্ট ২০২২ । আপডেট ১০:০০
আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বহুল প্রতিক্ষীত সংলাপ শেষ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ধারাবাহিক এই সংলাপের শেষ দিনে অংশ নেন ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিরোধী দল জাতীয় পার্টি। দলগুলো নির্বাচন নিয়ে নিজেদের অভিমত ও সুপারিশ ইসির কাছে তুলে ধরেন। ইসিও তাদের বক্তব্যগুলো পর্যালোচনার জন্য গ্রহণ করেন। এই সংলাপ থেকে দলগুলো কি পেলো আর ইসিরই বা নির্বাচন গ্রহণযোগ্য করে তোলার পথে অগ্রগতি কতটুকু? বিস্তারিত লিখেছেন বিনয় দাস
গত ১৭ জুলাই থেকে শুরু হওয়া ইসির সংলাপে নিবন্ধিত ৩৯ রাজনৈতিক দলের মধ্যে ২৮টি অংশ নিয়েছে। বিএনপিসহ ৯টি দল অংশ নেয়নি। আর দুটি দল নতুন করে সময় চেয়েছে। এই দুটি দলের সঙ্গে পরে সংলাপে বসবে ইসি। যদিও তাদের সময় দেওয়া হবে কিনা সে ব্যাপারে এখনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। সংলাপে অংশ নেয়া দলগুলোর কাছ থেকে ৩১৯টি প্রস্তাব পেয়েছে ইসি। সবচেয়ে বেশি প্রস্তাব এসেছে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের কাছ থেকে। তারা ৪০টি দাবি জানিয়েছে। অধিকাংশ দলের পক্ষ থেকেই এসেছে অনেকটা একই রকম বক্তব্য। যেমন ইভিএম, নির্বাচনাকালীন সরকার, সেনা মোতায়েন সংক্রান্ত, একাধিক দিনে ভোট, নির্বাচনকালীন সময়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের নিয়ে বক্তব্য, নির্বাচনের সময় গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ইসির অধীনে রাখার প্রস্তাব এসেছে বেশিরভাগ দলের কাছ থেকে।
সংলাপ পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, সংলাপে অংশ নেওয়া ২৬টি দলের মধ্যে বিরোধী দল জাতীয় পার্টিসহ ১৯টি দল ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) নিয়ে শঙ্কা ও প্রশ্ন তুলেছেন।
ইভিএম প্রশ্নে শঙ্কা-সংশয় ১৯ দলের: এবারের সংলাপে অংশ নেওয়া ২৬ দলের মধ্যে ১৯ দলই নির্বাচনে ইভিএমের ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এদের কেউ কেউ ইভিএম বিপক্ষে, কেউ কেউ আবার আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ব্যবহার, কেউবা আবার শুধুমাত্র স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এটি ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন। সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টি ইভিএম চায় না বলে জানিয়েছে। অন্যদিকে বিদ্যমান নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা পরিবর্তনের পক্ষে মত দিয়েছে ১৮টি দল। সংলাপে ভোটে কারচুপির আশঙ্কার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ কংগ্রেস, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, গণফোরাম, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, জাকের পার্টি, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ), জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম) ও ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি)।

ইভিএমসহ আওয়ামী লীগের প্রস্তাবনা: আগামী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে তিনশ আসনে ইভিএমে ভোট করার দাবি জানিয়েছে আওয়ামী লীগ; পাশাপাশি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে ইসিকে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে ক্ষমতাসীন দলটি। একই সঙ্গে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ‘হাওয়া ভবনের মাধ্যমে’ পুলিশসহ সিভিল প্রশাসনে নিয়োগ পাওয়া দলীয় কর্মকর্তাদের তালিকা প্রস্তুত করে তাদের সব নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে বাইরে রাখাসহ একগুচ্ছ প্রস্তাব দিয়েছে দলটি। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের দলের পক্ষে এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন। আওয়ামী লীগের প্রস্তাবগুলো:
নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা, নিরপেক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতা ঊর্ধ্বে রেখে সংবিধান ও আইনে প্রদত্ত দায়িত্ব পালনে সক্ষমতা প্রদর্শন। নির্বাচনকালীন সময়ে নির্বাহী বিভাগের সংশিষ্ট মন্ত্রণালয়/সংস্থার দায়িত্বশীলতা। নির্বাচন কমিশন সচিবালয় এবং এর মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা/কর্মচারীদের দায়িত্বশীল ও নিরপেক্ষ আচরণ। নির্বাচনকে নিরপেক্ষ ও প্রভাবমুক্ত রাখার লক্ষ্যে বিএনপি-জামাত জোট সরকারের সময় কর্মকর্তা পর্যায়ে হাওয়া ভবনের মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক দলীয় নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিদের বিষয়ে কমিশনকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
জনগণের আস্থায় জোড় জাতীয় পার্টির: ইভিএমে (ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন) ভোটগ্রহণের ঘোর বিরোধিতা করেছে সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি (জাপা)। তাদের দলসহ দেশের মানুষের ইভিএমে আস্থা নেই দাবি করে দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের কোনও যৌক্তিকতা নেই। ইভিএমে ভোট হলে আসন্ন গাইবান্ধা-৫ আসনের উপনির্বাচনে অংশ না নেওয়ার কথাও বলেছেন জাপা নেতারা। অবশ্য ইভিএম বিষয়ে সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল কোনও মন্তব্য করেননি। জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নুর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল সংলাপে অংশ নেয়।
ইভিএমের বিরোধিতা করে জাতীয় পার্টির মহাসচিব বলেন, ইভিএমে আমাদের আস্থা নেই। ব্যক্তিগতভাবে আমারও এতে কোনও আস্থা নেই। মানুষ মনে করে ইভিএমে ভোট পাল্টে দেওয়া হলে কিছু করার নেই। কারণ, ফলাফল রি-চেক করা যায় না।
অন্য রাজনৈতিক দলগুলো কী চাচ্ছে ?
তরীকত ফেডারেশন: সংসদ নির্বাচন ২-৩ ধাপে করা যেতে পারে; যেন প্রতিকেন্দ্রে সেনা মোতায়েন করা যায়। সংসদ নির্বাচনে ১৫০ আসনে ইভিএম; ১৫০ আসনে ব্যালট পেপার এবং স্থানীয় নির্বাচনে শতভাগ ইভিএম ব্যবহার করা যেতে পারে। নির্বাচনী ব্যয় ৫০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
ন্যাপ : দুই কক্ষের সংসদ ও জাতীয় সংসদের আসন বাড়ানো; প্রাপ্ত ভোটের আনুপাতিক হারে সংসদে প্রতিনিধিত্ব, তফসিল ঘোষণার পর সংসদ ভেঙে দেওয়া ও ইভিএম ব্যবহার না করা।
গণফোরাম: নির্বাচনকালে নিরপেক্ষ সরকারব্যবস্থা; নির্বাচনী প্রচারণায় প্রত্যেক আসনে সব প্রার্থীকে একমঞ্চে সভা করার সুযোগ দেওয়া।
জাকের পার্টি : দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও হয়রানিমূলক আচরণ বন্ধ; ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া ডিজিটালাইজড করা।
এনপিপি : স্বল্পসংখ্যক আসনে ইভিএম ব্যবহার, ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা, প্রার্থীদের জামানত বাড়ানো, বিনামূল্যে ভোটার তালিকা সরবরাহ, নিবন্ধিত দলে তিন বছর সক্রিয়দের প্রার্থী করার নিয়ম।
বিকল্পধারা : সব কেন্দ্রে ইভিএম, প্রতিকেন্দ্রে অন্তত পাঁচজন করে সামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন।
জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম : নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার, ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতাসহ সেনা মোতায়েন, স্বরাষ্ট্র ও জনপ্রশাসন ইসির অধীনে ন্যস্ত করা, সব আসনে ব্যালট পেপার ব্যবহার, ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাহীন দলের নিবন্ধন বাতিল।
ওয়ার্কার্স পার্টি : সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন; নির্বাচনকালীন স্বরাষ্ট্র, জনপ্রশাসন ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ইসির অধীনে ন্যস্ত করা; আনুপাতির প্রতিনিধিত্বমূলক নির্বাচনব্যবস্থা, ত্রুটি দূর করে ইভিএম ব্যবহার।
মুসলীম লীগ : ভোটের তিন মাস আগে সংসদ বিলুপ্ত করা, ইভিএম ব্যবহার না করা, ‘না’ ভোট পদ্ধতি চালু করা।
ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ : প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের রিটার্নিং কর্মকর্তা না করে নিজস্ব লোকবল নিয়োগ, তিন দফায় ভোট করা, ইভিএমের যান্ত্রিক ত্রুটি-জটিলতা নিরসন করা।
জাসদ: সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন, ইসিকে রাজনৈতিক বিতর্কে না জড়ানো, অসাংবিধানিক দাবিকে প্রশ্রয় না দেওয়া, বিদেশি কূটনৈতিকদের অযাচিত নাক গলানোকে প্রশ্রয় না দেওয়া, প্রশাসনের কাজে প্রতিরক্ষা বাহিনীকে বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটদের অধীনে ব্যবহার।
খেলাফত আন্দোলন: জনপ্রশাসন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইসির অধীনে ন্যস্ত করা, সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দেওয়া, সংরক্ষিত মহিলা আসন বিলুপ্ত করা, ইভিএম ব্যবহার না করা, সংসদ ভেঙে নির্বাচন, ‘না’ ভোট চালু, দলের সব কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারী প্রতিনিধিত্ব রাখার বাধ্যবাধকতা।
গণফ্রন্ট: সংসদের আসন ৩৫০-৪৫০ করা, এক পোস্টার একমঞ্চে প্রচার, দলগুলোকে আর্থিক অনুদান, নির্বাচনকালীন রাজনৈতিক সরকার, স্বল্পপরিসরে ইভিএম চালু।

বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি: নির্বাচনকালীন সর্বদলীয় সরকার গঠন, ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা, বিভাগওয়ারি নির্বাচন, ইভিএম চালু স্বল্পপরিসরে, ‘না’ ভোট চালুর সুপারিশ।
গণতন্ত্রী পার্টি: ধর্মের অপব্যবহার নিষিদ্ধ করা এবং ইভিএম ব্যবহার।
বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল : ইভিএমে ভোট, নির্বাচনে ধর্মের ব্যবহার বন্ধ, টাকার খেলা বন্ধ করা, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন।
খেলাফত মজলিশ : স্বরাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ইসির অধীনে ন্যস্ত করা, ভোটের ৭ দিন আগে সেনা মোতায়েন, তফসিল ঘোষণার আগে সংসদ ভেঙে দেওয়া, ব্যালট পেপারে ভোট করা। নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার, ইভিএমের ব্যবহার না করা, প্রতিটি বুথে সিসিটিভি ক্যামেরা, সংসদ ভেঙে দেওয়া।
ইসলামী ঐক্যজোট : নির্বাচনকালীন সরকারের আকার সীমিত করা, ৩০ জনের বেশি প্রার্থী দিলে বেতার-টিভিতে প্রচারের সুযোগ, আস্থা অর্জন করে ইভিএমের ব্যবহারের সুপারিশ।

বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট : সাংবিধানকভাবে নির্বাচনকালীন সরকার, জাতীয় পরিষদ গঠন।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি : নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ তদারকি সরকার বা অন্তর্র্বতীকালীন সরকার গঠন, দল নিবন্ধনের শর্ত সহজ করা, নির্বাচনী ব্যয় মাত্র ৫ লাখ টাকা নির্ধারণ, ‘না’ ভোট চালুর প্রস্তাব।
বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট: পাঁচটি মন্ত্রণালয় ইসির অধীনে রাখা, জেলা প্রশাসকের পরিবর্তে নির্বাচন কর্মকর্কতাকে রিটার্নিং কর্মকর্তা, ব্যালট পেপারে ভোট নেওয়া, ৩৩ শতাংশ নারী নেতৃত্বের বিধান সংশোধনের সুপারিশ।

বাংলাদেশ কংগ্রেস: নির্বাচনের সময়ে স্বরাষ্ট্র, জনপ্রশাসন ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ইসির অধীনে রাখা, তফসিল ঘোষণার পর জাতীয় সংসদ ও মন্ত্রিপরিষদ কার্যকর থাকবে না, ওই সময়ে যে সরকার থাকবে তারা ‘নির্বাচনকালীন সরকার’ হিসেবে গণ্য হবে।
বিএনএফ : নির্বাচন হবে ইসির অধীনে; নির্বাচন কমিশনকে সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে হবে। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনকে নির্বাহী বিভাগের সহায়তা করা।
এনডিএম: একাধিক দিনে ভোটগ্রহণ; নির্বাহী বিভাগ থেকে রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগ না দেওয়া।
স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেবে ইসি: সিইসি জানান, সংলাপে কিছু বিষয় ওঠে এসেছে। অনেক দল মনে করছে একদিনে নির্বাচন করা ঠিক হবে না। ইন্ডিয়ার মত পৃথক দিনে হওয়া উচিত। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অপ্রতুলতার কথা কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে তারা। অনেকে সেনাবাহিনী মোতায়েনের জন্য বলেছেন। তবে ইসি কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি বলে তিনি জানান।
হাবিবুল আউয়াল বলেন, আরেকটা বিষয়ে সংকট থেকে যাবে, সেটা হলো ইভিএম। ইভিএম নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে সমর্থন পেয়েছি। অধিকাংশ দল ইভিএম বিশ্বাস করছে না। এর ভেতরে কী জানি একটা আছে। ইভিএম নিয়ে আমাদের যে অনুভূতি আমরা ব্যবহার করেছি। ফলাফল ৭১ শতাংশ পর্যন্ত ভোট কাস্ট করেছে। কিন্তু কথা বলেছি আমরাও অনেককেই আস্থায় আনতে পারছি না। না কিছু একটা আছে। ইভিএম একটা সহযোগিতা চাইব, যে একটা সংকট থাকবে। কিন্তু পুরোপুরি ঐক্যমত নেই। আমরা সিদ্ধান্ত নেব স্বাধীনভাবে।

কৌশলপত্র তৈরির পর বিশেষ সংলাপে বসবে ইসি: দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সদ্য সমাপ্ত সংলাপ থেকে প্রাপ্ত সুপারিশ পর্যালোচনা করে শিগগিরই একটি কৌশলপত্র প্রস্তুত করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আর এই কৌশলপত্র নিয়ে বিশেষ সংলাপে বসবে সংস্থাটি। নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, ইতোমধ্যে রাজনৈতিক দলসহ বিভিন্ন মহলের কাছ থেকে পাওয়া প্রস্তাবগুলো নিয়ে তারা পর্যালোচনা শুরু করে দিয়েছেন। সেপ্টেম্বরের মধ্যেই খসড়াটি চূড়ান্ত করা হবে। এরপর ফের গণমাধ্যম, শিক্ষাবিদ, বিশেষজ্ঞ জন ও দলগুলোকে ডাকা হবে। এক্ষেত্রে ডাকা হবে প্রথম সংলাপে সাড়া না দেওয়া বিএনপিকেও।
বিশেষ সংলাপটি অনুষ্ঠিত হবে দিনব্যাপী। সেখানে সবাই একমঞ্চেই থাকবে। এক্ষেত্রে প্রত্যেক গ্রুপ থেকে চার-পাঁচ জন করে অংশ নেবে। সংলাপে কৌশলপত্রটি উপস্থাপন করে অংশীজনের কাছ থেকে মতামত নেওয়া হবে। এরপর সংসদ নির্বাচনের চূড়ান্ত কৌশলপত্র প্রণয়ন করবে নির্বাচন কমিশন।
ইউডি/সুস্মিত

