মেট্রোরেল: স্বপ্নপূরণের দ্বারপ্রান্তে রাজধানীবাসী

মেট্রোরেল: স্বপ্নপূরণের দ্বারপ্রান্তে রাজধানীবাসী

ইফতেখার জামান । বৃহস্পতিবার, ২৫ আগস্ট ২০২২ । আপডেট ১০:৪০

রাজধানীতে যত সমস্যা রয়েছে তার মধ্যে যানজট সমস্যা অন্যতম। এর ফলে নগরবাসীর কেবল কর্মঘণ্টাই নষ্ট হয় না, তাদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়। যানজটের কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় কাটিয়ে দিতে হয় নগরবাসীকে। যানজট সমস্যা নিরসনের জন্য সরকার নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে। রাজধানীতে নির্মাণ করা হয়েছে ফ্লাইওভার, মেট্রোরেলের কাজ একেবারে শেষ পর্যায়ে। এছাড়াও সরকার পাতাল রেল ও এলিভেটেড এক্সপ্রেস ওয়ে প্রকল্প হাতে নিয়েছে। দীর্ঘদিনের নাগরিক দুর্ভোগ কমাতেই এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আশার কথা, চলতি বছরের ডিসেম্বরে মেট্রোরেল চালু হচ্ছে।

উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত ১১ কিলোমিটার পথ ধরেই রাজধানীর বুকে যাত্রা শুরু হবে মেট্রোরেলের। সেই লক্ষ্যে কাজ হয়েছে প্রায় ৯২ শতাংশ। বৈদ্যুতিক লাইন বসানোর কাজ হয়েছে শতভাগ। এই পথের ৯টি স্টেশনের নির্মাণ কাজও প্রায় শেষের দিকে। এখন চলছে স্টেশনে ঢোকা ও বের হওয়ার পথ তৈরির কাজ। প্রকল্প এলাকায় গেলেই বোঝা যায় স্বপ্নপূরণের দ্বারপ্রান্তে নগরবাসী। আনুষ্ঠানিক যাত্রার আগে শেষ করতে হবে ট্রেনগুলোর সমন্বিত চলাচলের পরীক্ষা। এই পরীক্ষামূলক চলাচলেই ঠিক হবে সময়, গতি ও স্টেশনে কোন প্ল্যাটফর্মে কোন অংশে ট্রেনগুলো দাঁড়াবে সেই বিষয়গুলো।

শুরুতে ১০টি ট্রেন নিয়ে মেট্রোরেল চালু করা হবে উল্লেখ করে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ এন ছিদ্দিক বলেছেন, প্রথম দিন ১০ মিনিট পরপর ট্রেন চালু করব। দ্বিতীয় দিন হয়তো আমরা সাত মিনিটে নামিয়ে আনব। ক্রমান্বয়ে যাত্রীর চাপের ওপর নির্ভর করবে আমরা কতক্ষণ পরপর ট্রেন ছাড়ব। অনেক যাত্রী অপেক্ষমাণ থাকলে আমরা সাড়ে ৩ মিনিট পরপর ট্রেন ছাড়ব। ফজরের নামাজের সময় থেকে শুরু করে রাত ১২টা পর্যন্ত ট্রেন চলবে। প্রথম পর্যায়ে নির্ধারিত উত্তরা থেকে আগারগাঁও রুটে কাজের অগ্রগতি ৯৩ দশমিক ৮৬ শতাংশ। দ্বিতীয় পর্যায়ে নির্ধারিত আগারগাঁও থেকে মতিঝিল পর্যন্ত কাজের অগ্রগতি ৮১ দশমিক ৮৬ শতাংশ এবং ইলেকট্রিক্যাল ও মেকানিক্যাল কাজের সার্বিক অগ্রগতি ৮৩ দশমিক ৩৪ শতাংশ।

উত্তরায় মূল ডিপোটি মাটিতে থাকলেও, পুরো রেলপথটি উডাল। উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত দৈর্ঘ্য ২০ দশমিক ১০ কিলোমিটার। এর মধ্যে মোট ১৬টি স্টেশন থাকবে। মেট্রোরেল পুরোপুরি বিদ্যুৎচালিত রেল। বাংলাদেশে এই প্রথম বিদ্যুৎচালিত কোনো রেল চালু হতে যাচ্ছে। এটা রাজধানীবাসীর জন্য আনন্দের খবর। বাংলাদেশ সরকারের সবচেয়ে ব্যয়বহুল প্রকল্পগুলোর একটি মেট্রোরেল। এটি চালু হলে ঢাকার প্রবল যানজট সমস্যার অনেকাংশে সমাধান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ্য, বাংলাদেশে ইতিপূর্বে কোনো মেট্রোরেল ছিল না। এই সরকারই প্রথম উদ্যোগ নিয়েছে এবং এর কৃতিত্ব বর্তমান সরকারেরই। টিকেট কাটা, ট্রেনে চড়া, দাঁড়ানো, নামা, ট্রেনের ভেতরে এবং স্টেশনের নির্দেশিকাগুলো কেমন থাকবে- এসব বিষয়ে মানুষকে ধারণা দিতে এমআরটি তথ্য ও প্রদর্শনী কেন্দ্রে নমুনা ট্রেন থাকবে। এ ব্যাপারে আমরাও আশাবাদী। তবে অনেকেই অভিযোগ করেন, রাজধানীতে বেশ কয়েকটি ফ্লাইওভার নির্মাণ করেও যানজট নিরসন করা সম্ভব হয়নি। বরং ক্ষেত্র বিশেষে যানজট বেড়েছে, বেড়েছে জনদুর্ভোগ। দেশের সচেতন জনসাধারণের প্রশ্ন, মেট্রোরেল চালু হলে যানজট কমবে তো?

মেট্রোরেল চালু হলে একদিকে যেমন রাজধানী আরো আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন হবে, অন্যদিকে নগরবাসীর দুর্ভোগ কমে যাবে বলে আমাদের বিশ্বাস। সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি ডিসেম্বরেই আগারগাঁও স্টেশন পর্যন্ত যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে দেশের প্রথম বৈদ্যুতিক ট্রেন এমআরটি-৯৬। কর্তৃপক্ষ বলছে, ভাড়ার বিষয়টা এখনো চূড়ান্ত না হলেও নগরবাসীর সাধ্যের মধ্যেই থাকবে মেট্রোরেলে যাত্রা। এটা সত্য মেট্রোরেল ভ্রমণের অভিজ্ঞতা তাদের নেই। যারা কলকাতায় গিয়েছেন, তারা পাতাল রেল ভ্রমণ করে আনন্দ পেয়েছেন। এই আনন্দ এবার নগরবাসী রাজধানী ঢাকাতে পেতে চায়। ২৫ জুন উদ্বোধন হয়েছে স্বপ্নের পদ্মা সেতু। ঢাকার দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে। তারা এখন কম সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছে। এটা বর্তমান সরকারের সাফল্য। সরকারের এসব বড় বড় প্রকল্প দেশের উন্নয়নের মাইলফলক। দেশ যে এগিয়ে যাচ্ছে এসব তারই বড় প্রমাণ। মেট্রোরেলের মাধ্যমের নগরবাসীর দুর্ভোগ কমে আসুক এই প্রত্যাশাই করছি।

লেখক: সাংবাদিক।

ইউডি/সুস্মিত

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading