বরেন্দ্রজুড়ে আশা জাগাচ্ছে বিনা চাষে ধান

বরেন্দ্রজুড়ে আশা জাগাচ্ছে বিনা চাষে ধান

উত্তরদক্ষিণ । রবিবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২২ । আপডেট ১২:৩৫

‘ষোলো চাষে মুলা, তার অর্ধেকে তুলা, তার অর্ধেকে ধান, বিনা চাষে পান’-এটি একটি জনপ্রিয় খনার বচন। এর সরল অর্থ দাঁড়ায়- ১৬ দিন চাষের জমিতে ভালো ফলন দেয় মুলা। তুলার ভালো ফলন মেলে জমিতে ৮ দিন চাষ দিলে। ৪ দিন চাষের জমিতে ভালো ফলে ধান। আর পানের জমিতে চাষেরই প্রয়োজন হয় না। পরম্পরায় এ নিয়মেই চাষাবাদ করে আসছেন বরেন্দ্র খ্যাত রাজশাহী অঞ্চলের কৃষকরা। কিন্তু এবার পাল্টে গেল চাষের কৌশল। পানের মতো এবারই প্রথম বরেন্দ্র অঞ্চলে বিনা চাষে আবাদ হচ্ছে ধান। শুধু তাই নয়, ধানের চারা রোপণ করা হয়েছে বেডে।

চলতি আমন মৌসুমে রাজশাহীর গোদাগাড়ী ও পবা উপজেলার ১২৬ জন কৃষক এই দুই পদ্ধতিতে আমন চাষ করেছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহায়তায় ‘ক্লাইমেট স্মার্ট কনজারভেশন’ বা ‘জলবায়ু সুসামঞ্জস্য’ কৃষি প্রযুক্তির এই চাষ জনপ্রিয় করতে কাজ করছে বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউটের রাজশাহী অঞ্চলিক কেন্দ্র। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বরেন্দ্র এলাকায় সেচের পানি সংকট। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে প্রলম্বিত হচ্ছে খরা। এই পরিস্থিতিতে এ দুটি কৃষি কৌশল ৫০ ভাগ সেচ সাশ্রয় করবে। মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা করবে। সুরক্ষিত থাকবে পরিবেশ। বাড়বে ফসলের নিবিড়তা এবং উৎপাদন। সব মিলিয়ে কৃষকের লাভের অংক বাড়বে।

কৃষকরা বলছেন, মূলত বেড পদ্ধতিতে ধান ভালো হয় আমন মৌসুমে। আর শূন্য চাষ বা বিনা চাষ বোরো মৌসুমের জন্য ভালো। এই দুই পদ্ধতিতে চাষে প্রচলিত পদ্ধতির মতো ধানের আগে একটি এবং পরে একটি করে ফসল তোলা যাচ্ছে। এই দুই পদ্ধতিতে ধানের ফলনও ভালো।

গোদাগাড়ীর বিজয়নগরে বিনা চাষে এবং বেড পদ্ধতিতে ধান চাষ করেছেন কৃষক সাব্বির হোসেন। তিনি জানান, বেড পদ্ধতিতে তিনি বেড প্ল্যান্টার মেশিনের সাহায্যে জমিতে একটি মাত্র চাষ দিয়েছেন। এরপর জমিতে পানি সেচ দিয়েছেন। এর তিন থেকে চার দিন পর জমিতে ধানের চারা রোপণ করেছেন। এতে তার চাষের খরচ বাঁচল। এক সেচেই ধানের চারা রোপণ করা গেছে।

অন্যদিকে বিনা চাষে ধান আবাদের জন্য জমিতে চাষের প্রয়োজন পড়ে না। চারা রোপণের সাত দিন আগে জমিতে আগাছানাশক দিয়েছেন। এর তিন দিন পর দিয়েছেন সেচ। এর ফলে মাটি নরম হয়ে গেছে। সেচ দেওয়ার দুই দিন পর নরম মাটিতে ধানের চারা রোপণ করা হয়েছে।

পুরো কার্যক্রম তত্ত্বাবধান করছেন বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউটের আঞ্চলিক প্রধান ড. ইলিয়াছ হোসেন। তিনি বলেন, রাজশাহী অঞ্চল খরা প্রবণ। এই অঞ্চলে সেচের পানির ঘাটতি রয়েছে। কেবল পানির অভাবে আমন মৌসুমে ৭৫ হাজার হেক্টর জমি অনাবাদি পড়ে থাকে। এই জমি চাষের আওতায় আনা সম্ভব হলে অতিরিক্ত প্রায় ৩০ টন ফসল ফলানো সম্ভব। তাতে বাড়তি জনগোষ্ঠীর জন্য খাবারের যোগান দেওয়া যাবে।

এ বিষয়ে রাজশাহী আঞ্চলিক কৃষি দপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ নজরুল ইসলাম জানান, এই জমি আমাদের যোগ্য করে রাখতে হবে। উৎপাদনমুখী করে রাখতে হবে। বারবার জমি চাষ এবং রাসায়নিক সারের ব্যবহারে জমির উর্বরতা শক্তি কমে যায়। এ ক্ষেত্রে সমাধান বিনা চাষে ফসল উৎপাদন। এই প্রক্রিয়াটি কৃষকরা গ্রহণ করেছেন।

ইউডি/অনিক

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading