সিলেক্টরদের জবাবদিহিতা পেশাদারিত্বের অভাবে ধুঁকছে দেশের ক্রিকেট
আজহার মাহমুদ । বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২ । আপডেট ১০:৪০
ক্রিকেট আমাদের দেশের মানুষের কাছে একটি আবেগের নাম। বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে এই খেলাটির জনপ্রিয়তা একটু বেশিই বলা যায়। বাংলাদেশের মনুষের কাছে বেশি জনপ্রিয় হওয়ার কারণও আছে। বাংলাদেশ বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম পরিচিত একটি দল। একসময় এই খেলায় বাংলাদেশের অবস্থান নড়বড়ে থাকলেও বর্তমানে বিশ্বের সকল দলের কাছে বাংলাদেশ একটি আতংকের নাম বলা যায়। যদিও সেই আতংক বছরে এক-দুবার আসে। মানে ফরম্যাট ভিত্তিতে আতংক ছড়ায় বাংলাদেশ। আর সেটা একমাত্র ওয়ানডে ক্রিকেটে। খুব সাহস করেই আমরা বলতে পারি ওয়ানডে ফরম্যাটে বাংলাদেশ বেশ ভয়ংকর। ২০১৫ সাল থেকে বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশ ক্রিকেটের যে উন্নতি হয়েছে তার অন্যতম কারণ এই ওয়ানডে ক্রিকেট।
তবে টেস্ট আর টি-টোয়েন্টিতে হরহামেশাই হারতে থাকে। মাঝে মাঝে মরুর বুকে এক পশলা বৃষ্টির মতো জয় নিয়ে আনন্দ দেয় সমর্থকদের। যাইহোক আজ আলোচনা সেদিকে নিয়ে যাচ্ছি না। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য দল ঘোষণা করা হয়েছে। ১৫ সদস্যের এই স্কোয়াড থেকে বাদ পড়েছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। রিয়াদের বাদ পড়াটা ধারণা করা গেলেও শান্তর দলে ঢুকাটা ধারণার বাইরে। ক্রিকেট বিশ্লেষক, গবেষক, সমর্থক, সাংবাদকর্মীরা সবাই এটা নিয়ে বেশ আলোচনা করেছেন। মনে আছে লিটন কুমার দাসের কথা? যাকে নিয়ে গত বছরের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সমালোচনার ঝড় বইছিলো। তাকে নিয়ে ট্রলের সীমাটাও ছাড়িয়ে গিয়েছিলো। প্রতি ম্যাচে সে যত রান করবে বিভিন্ন ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান তাদের পণ্যে তত পার্সেন্ট ডিসকাউন্ট দিবে বলেও ঘোষণা দেয়। আপনি আমিও হয়তো এই তালিকায় আছি। অথচ ভাগ্যের কি পরিহাস। ঠিক পরের বছরের বিশ্বকাপে তাকেই সবাই দলে চেয়েছেন। দলে আছেনও তিনি। শুধু তা-ই নয়, এই যে এশিয়া কাপ শেষ হলো সেখানেও তাকে সবাই মিস করেছেন। তাহলে আমরা ট্রল কেন করি?
আমি শান্তকে দলে নেওয়াকে সমর্থন জানাচ্ছি না। শান্ত কখনোই এই স্কোয়াডে থাকতে পারেন না। কিন্তু এই পারা না পারাটা আমার আপনার হাতে নেই। যাদের হাতে আছে তারা দিব্যি স্কোয়াড দিয়ে ঘুমোচ্ছেন। কথা সেখানেও না, কথা হচ্ছে শান্ত কি নিজে নিজে স্কোয়াডে অর্ন্তভুক্ত হয়েছেন? না-কি তাকে কেউ অর্ন্তভুক্ত করেছেন? প্রতিটি খেলোয়াড়ই চায় বাদ পড়লে দলে ঢুকতে। সৌম্য বাদ পড়েছেন, তিনিও চেষ্টা করছেন দলে ঢুকার। সাব্বিরও অলৌকিকভাবে দলে প্রবেশ করেছেন। অন্যদিকে ওয়ানডেতে ভালো করে এতোদিন টি-টোয়েন্টিতে দলে ঢুকা এনামুল হকও বাদ পড়েছেন। সবাইতো দলে ঢুকতে পারলে খুশি। সেটা হোক টেস্ট, ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টি। কিন্তু যে কেউ চাইলেই তো দলে কিংবা স্কোয়াডে জায়গা পেতে পারেন না। মাসের পর মাস বিসিবির বেতন ভোগ করে এই দায়িত্ব পালন করছেন জাতীয় দলের তিন সিলেক্টর। সহজ কথায় বলতে গেলে মিনহাজুল আবেদিন নান্নু, হাবিবুল বাশার সুমন আর আব্দুর রাজ্জাক এই তিন নির্বাচক স্কোয়াড নির্বাচন করেন। খোলোয়াড়ও সিলেক্ট করেন।
তাহলে আমরা কেন শান্তকে নিয়ে ট্রল করছি? দলে জায়গা পাওয়াটা কি শান্তর অপরাধ? অপরাধ করলে সেটি করেছেন সিলেক্টররা। সেই দায় কেন শান্তর ওপর গিয়ে পড়বে? ট্রল করলে সিলেক্টরদের নিয়ে করুন। বাশার, রাজ্জাক, নান্নুদের নিয়ে করুন। কিন্তু আমরা বারবার সেটা খেলোয়াড়দের ওপর প্রয়োগ করছি। আমাদের উচিৎ প্রতিটি ফ্যরমেটের জন্য কিছু ভালো খেলোয়াড় তৈরী করা। অথচ সেটির কোনো নমুনাই দেখা যায় না। আমাদের পাইপলাইনে কতটা খোলোয়াড় আছে, আর তারা সাকিব, মুশি, রিয়াদ, তামিমের রিপ্লেস হতে পারবে কিনা সেটি আমরা নিজেরাই দেখছি। তাহলে এসব নিয়ে ভাববে কারা? বিসিবি প্রধানেরই বা কাজ কী? পরিশেষে বলতে চাই, খেলোয়াড়দের নিয়ে ট্রল করা বন্ধ করুন। ট্রল করুন, সমালোচনা করুন নীতি-নির্ধারকদের। যারা চেয়ারে বসে আছে কিন্তু কাজের কাজ কিছুই করছেন না। বছরের পর বছর চেয়ার আকঁড়ে ধরে রাখলেও কোনো ধরনের রেজাল্ট তারা দিতে পারছে না। অন্যদিকে বাংলাদেশে অপরাধ করলে, ব্যার্থ হলে পদত্যাগ করার সংস্কৃতিও নেই। সবাই দিব্যি চোখ-কান বন্ধ রেখে নাক ডেকে ঘুমোতে পারে। যতদিন এই সংস্কৃতি পরিবর্তন হবে না, উন্নতি হবে না বাংলাদেশের ক্রিকেট।
লেখক: গণমাধ্যমকর্মী।
ইউডি/কেএস

