প্রধানমন্ত্রীর ৭৬তম জন্মদিন আজ: তবুও অনন্য শেখ হাসিনা
উত্তরদক্ষিণ । বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২ । আপডেট ১৩:২০
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৬তম জন্মদিন আজ। ১৯৪৭ সালের এইদিনে গোপালগঞ্জের মধুমতি নদী বিধৌত টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। শেখ হাসিনার দূরদর্শী ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বর্তমান বিশ্বে বাংলাদেশ এক বিষ্ময়ের নাম। সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলা, বাধা-বিপত্তি ও বিতর্কের ঊর্ধ্বে থেকে তার নেতৃত্বে যেমন বাঙালির ভাতের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, ঠিক তেমনি তলাবিহীন ঝুড়ি থেকে দেশ উন্নয়নের বিস্ময় হিসেবে পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। বিস্তারিত লিখেছেন মিলন গাজী
১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর জন্মেছিলেন আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার এবং বাংলাদেশকে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার মূল স্থপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনার মূল উদ্দেশ্য ছিল উন্নত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তার পিতার আজ লালিত স্বপ্ন সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা করা এবং দরিদ্র মানুষের মুখে হাসি ফোটানো। তবে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার যাত্রাপথটি কখনোই নিষ্কণ্টক ছিল না। বিভিন্ন সময়ে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় তাঁকে হত্যা করার চেষ্টা করা হয়েছে। ১৯৮১ সালের ১৭ মে তাঁর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন যে কত তাৎপর্যপূর্ণ ছিল, সে বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে। ওই সময়ের বিদেশি পত্রপত্রিকার খবরের দিকে দৃষ্টিপাত করলে বোঝা যাবে শেখ হাসিনার ফিরে আসার রাজনৈতিক তাৎপর্য কী ছিল! ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফিরে প্রায় ১৫ লাখ মানুষের হৃদয় ছোঁয়া ভালোবাসার জবাবে শেখ হাসিনা বলেছিলেন, বাংলার মানুষের পাশে থেকে মুক্তির সংগ্রামে অংশ নেয়ার জন্য আমি দেশে এসেছি। আমি আওয়ামী লীগের নেত্রী হওয়ার জন্য আসিনি। আপনাদের বোন হিসেবে, মেয়ে হিসেবে, বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী আওয়ামী লীগের কর্মী হিসেবে আমি আপনাদের পাশে থাকতে চাই।এত বছর চলে গেলেও শেখ হাসিনা তাঁর প্রতিশ্রুতি রেখেছেন। অক্ষরে অক্ষরে তিনি কথা রেখে যাচ্ছেন। আর দেশের মানুষের পাশে থাকার জন্য আত্মত্যাগও তার কম নয়। জীবনবাজি রেখেই তিনি তাঁর প্রতিশ্রুতি রেখে যাচ্ছেন।
দেশকে অনন্য উচ্চতায় নেয়ার নেপথ্যের কারিগর : আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা চতুর্থবারের মতো দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর নেতৃত্বে অর্থনীতির প্রতিটি সূচকে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। বিশ্বের কাছে বাংলাদেশকে একটি রোল মডেল হিসেবে পরিচিত করেছেন। সন্ত্রাস ও জঙ্গি দমনেও তিনি বিশ্বনেতাদের প্রশংসা কুড়িয়েছেন। মিয়ানমারে জাতিগত সহিংসতায় পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা মুসলিমদের আশ্রয় দিয়ে সারা বিশ্বে হয়েছেন প্রশংসিত। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বের কারণেই করোনা মহামারির মধ্যেও দেশের অর্থনীতির চাকা সচল থাকায় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এশিয়ার প্রায় সব দেশের ওপরে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঠিক নেতৃত্ব, সময়োচিত পদক্ষেপ, মানুষের জন্য আর্থিক ও খাদ্য সহায়তা, অর্থনীতিকে বাঁচাতে প্রণোদনা ঘোষণা এবং বাস্তবায়নের কারণে দেশে অনাহারে একজন মানুষেরও মৃত্যু হয়নি, খাদ্যের জন্য কখনো কোথাও হাহাকার হয়নি।
বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি, একাত্তরের ঘাতক যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কার্য সম্পন্ন করা, সংবিধান সংশোধনের মধ্য দিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, ইন্ডিয়া ও মিয়ানমারের সাথে সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তি এবং সমুদ্রে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে ব্লু ইকোনমির নতুন দিগন্ত উšে§াচন, ইন্ডিয়ার সঙ্গে সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়ন ও ছিটমহল বিনিময়, বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট সফল উৎক্ষেপণের মধ্য দিয়ে মহাকাশ জয়, সাবমেরিন যুগে বাংলাদেশের প্রবেশ, নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু নির্মাণ, মেট্রোরেল, পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন, কর্ণফুলী টানেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, নতুন নতুন উড়াল সেতু, মহাসড়কগুলো ফোর লেনে উন্নীত করা, এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন, মাথাপিছু আয় ২ হাজার ৮২৪ মার্কিন ডলারে উন্নীত, দারিদ্র্যের হার হ্রাস, মানুষের গড় আয়ু প্রায় ৭৪ বছর ৪ মাসে উন্নীত, যুগোপযোগী শিক্ষানীতি প্রণয়ন, সাক্ষরতার হার ৭৫.৬০ শতাংশে উন্নীত করা, বছরের প্রথম দিনে প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত সকল শিক্ষার্থীর হাতে বিনামূল্যে নতুন বই পৌঁছে দেওয়া, মাদ্রাসা শিক্ষাকে মূলধারার শিক্ষার সাথে সম্পৃক্ত করা ও স্বীকৃতি দান, মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, প্রত্যেকটি জেলায় একটি করে সরকারি/বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ, নারী নীতি প্রণয়ন, ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণ, ফাইভ-জি মোবাইল প্রযুক্তির ব্যবহার চালুসহ অসংখ্য ক্ষেত্রে কালোত্তীর্ণ সাফল্য অর্জন করেছে বাংলাদেশ।
ষড়যন্ত্র মোকাবিলা ও স্বপ্ন বাস্তবায়ন : ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের প্রবক্তা স্বপ্নদর্শী এই নেতা ১৯৮১ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব গ্রহণের পর থেকে দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে দলকে সুসংগঠিত করেন এবং ১৯৯৬ সালে প্রথম, ২০০৮ সালে দ্বিতীয় এবং ২০১৪ সালে তৃতীয় এবং ২০১৮ সালে চতুর্থ বারের মত নির্বাচনে জয়লাভ করে দলকে দেশের নেতৃত্বের আসনে বসাতে সক্ষম হন। শেখ হাসিনার পরবর্তী ইতিহাস একবিংশ শতকের অভিযাত্রায় তিনি কীভাবে বাঙালি জাতির কান্ডারি হয়েছেন তারই ইতিহাস। বঙ্গবন্ধু যে সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখতেন সেই স্বপ্ন রূপায়নের দায়িত্ব নিয়ে বাঙালি জাতির আলোর দিশারী হওয়ার ইতিহাস। ১৯৮১ সালে আওয়ামী লীগের দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে তাকে দলের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। আর ঐ বছরেরই ১৭ মে দীর্ঘ ৬ বছর প্রবাস জীবনের অবসান ঘটিয়ে মাতৃভূমি বাংলাদেশে ফিরে আসেন। তিনি ১৯৯০ সালের ঐতিহাসিক গণআন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেয়ে দীর্ঘ ২১ বছর পর সরকার গঠন করে এবং সে বছরের ২৩ জুন প্রথমবারের মত তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাকে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের জনসভায় গ্রেনেড নিক্ষেপ করে হত্যার ষড়যন্ত্র করা হয়। তিনি অলৌকিকভাবে বেঁচে গেলেও ওই হামলায় ২৪ জন নিহত এবং ৫শ’ নেতা-কর্মী আহত হন।
২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন নিয়ে বিশাল বিজয় অর্জন করে। এই বিজয়ের মধ্যদিয়ে শেখ হাসিনা দ্বিতীয় বারের মতো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি তৃতীয়বার এবং ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে চতুর্থবারের মত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। শিল্প সংস্কৃতি ও সাহিত্যঅন্তপ্রাণ শেখ হাসিনা লেখালেখিও করেন। তাঁর লেখা এবং সম্পাদিত গ্রন্থের সংখ্যা ৩০টিরও বেশি। প্রকাশিত অন্যতম বইগুলো হচ্ছে- শেখ মুজিব আমার পিতা, সাদা কালো, ওরা টোকাই কেন, বাংলাদেশে স্বৈরতন্ত্রের জন্ম, দারিদ্র্য দূরীকরণ, আমাদের ছোট রাসেল সোনা, আমার স্বপ্ন আমার সংগ্রাম, সামরিকতন্ত্র বনাম গণতন্ত্র, আর্ন্তজাতিক সর্ম্পক উন্নয়ন, বিপন্ন গণতন্ত্র, সহেনা মানবতার অবমাননা, আমরা জনগণের কথা বলতে এসেছি, সবুজ মাঠ পেরিয়ে ইত্যাদি।
বিশ্ব পরিমণ্ডলে সাফল্য ও স্বীকৃতি: শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক বহু স্বীকৃতি আর সম্মাননায় ভূষিত। রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা এযাবৎ তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বের জন্য ৪৮টি আন্তর্জাতিক পুরস্কার-সম্মাননা ও স্বীকৃতি অর্জন করেছেন। বিশ্বের কয়েকটি নামকরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডিলিট ডিগ্রি অর্জন করেছেন। এসব সম্মান শুধু তাকে নয় বাংলাদেশকেও মহিমান্বিত করেছে। জাতিসংঘের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান ইউনেস্কো ‘হোপে বোয়ানি শান্তি পুরস্কার’ প্রদান করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আন্তর্জাতিকভাবে সম্মানিত করেছিল। জাতিসংঘের আরেক অঙ্গ প্রতিষ্ঠান ‘বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি’ ক্ষুধার বিরুদ্ধে আন্দোলনে অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘চেরেস পদক’ এ ভূষিত করে। পরিবেশ সংক্রান্ত বিশ্ব ফোরামে পরিবেশ সুরক্ষায় শেখ হাসিনার সৃজনশীল নেতৃত্বের অসাধারণ ভূমিকার জন্য পরিবেশ বিষয়ে বিশ্বের সর্বোচ্চ সম্মান ‘চ্যাম্পিয়ন অব দ্য আর্থ’ পুরস্কারে ভূষিত করে ২০১৫ সালে। ‘গ্লোবাল সামিট অব উইমেন’ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ২০১৮ সালে ‘গ্লোবাল উইমেন্স লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করে।
‘শেখ হাসিনা শুধু দেশেই নন, বহির্বিশ্বেও অন্যতম সেরা রাষ্ট্রনায়ক’: রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, বিচক্ষণতা, গতিশীল নেতৃত্ব, মানবিক মূল্যবোধ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুধু দেশেই নন, বহির্বিশ্বেও তিনি অন্যতম সেরা রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৬তম জš§দিন উপলক্ষ্যে দেয়া এক বাণীতে তাঁকে প্রাণঢালা শুভেচ্ছা ও উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু বলেছেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট জাতির পিতাসহ তার পরিবারের সদস্যদের নৃশংসভাবে হত্যার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্র বানানোর নীলনকশা তৈরি করেছিল পাকিস্তানি প্রেতাত্মারা। তাদের ষড়যন্ত্রকে ধূলিসাৎ করে, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেশে প্রত্যাবর্তন করে আওয়ামী লীগের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন ও দেশকে সমৃদ্ধির পথ দেখিয়েছেন শেখ হাসিনা
আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য ও ১৪ দলীয় জোটের সমন্বয়ক আমির হোসেন আমু বলেন, আমরা যেমন বলি বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে বাংলাদেশ স্বাধীন হতো না। তেমনই শেখ হাসিনার জন্ম না হলে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা বিনির্মাণের কাজ জাতি চোখে দেখতো না। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ৭৫’র পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে সবচেয়ে সৎ, যোগ্য ও সাহসী নেতার নাম শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা নিজের ভাগ্য ও সুখের জন্য রাজনীতি করেন না, শেখ হাসিনা রাজনীতি করেন মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য, পিতা বঙ্গবন্ধু মুজিবের স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র ৭৬তম জন্মদিন উপলক্ষে মঙ্গলবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আওয়ামী যুবলীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় ওবায়দুল কাদের একথা বলেন। তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু আমাদের রাজনৈতিক স্বাধীনতার রোল মডেল। শেখ হাসিনা আমাদের উন্নয়ন এবং অর্জনের রোল মডেল। তিনি নিজে যা অর্জন করেছেন, তা নজিরবিহীন। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণতন্ত্র, অগ্রগতি, বিশ্ব নারী জাগরণের প্রতীক।তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, গণতন্ত্র, উন্নয়ন-অগ্রগতির প্রতীক এবং বিশ্ব প্রেক্ষাপটে নারী জাগরণ, নারী অগ্রগতির প্রতীক।

জন্মদিন ঘিরে যত আয়োজন: জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৭তম অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী জন্মদিনে আমেরিকায় অবস্থান করছেন। প্রধানমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতেই দিনটি উৎসব মুখর পরিবেশে নানা কর্মসূচি উদযাপন করবে তাঁর নেতৃত্বাধীন দল আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আওয়ামী লীগ আজ বিকাল ৩টায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে। এছাড়াও আজ ২৮ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয়ভাবে বাদ জোহর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমসহ দেশের সকল মসজিদে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল। একই সাথে সকাল ১০টায় ধর্মরাজিক বৌদ্ধ মহাবিহারে বৌদ্ধ সম্প্রদায়, সকাল ৯টায় খ্রিস্টান এসোসিয়েশন বাংলাদেশ (সিএবি) মিরপুর ব্যাপ্টিস্ট চার্চে এবং সকাল সাড়ে ১১টায় ঢাকেশ্বরী মন্দিরে হিন্দু সম্প্রদায় বিশেষ প্রার্থনা সভার আয়োজন করেছে। এসব কর্মসূচিতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন। একই দিনে ঢাকাসহ সারাদেশে সকল সহযোগী সংগঠন আলোচনা সভা, আনন্দ র্যালি, শোভাযাত্রা, দোয়া মাহফিল, বিশেষ প্রার্থনা ও আলোকচিত্র প্রদর্শনীসহ দিবসটির তাৎপর্য অনুযায়ী যথাযথ স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি মেনে বিভিন্ন উপযোগী কর্মসূচি উদযাপন করবে।
ইউডি/সুপ্ত

