দেশবাসীর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: যে কোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় খাদ্য উৎপাদন বাড়ান

দেশবাসীর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: যে কোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় খাদ্য উৎপাদন বাড়ান

উত্তরদক্ষিণ । মঙ্গলবার, ১১ অক্টোবর ২০২২ । আপডেট ১৭:৩৫

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে কোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় দেশবাসীকে আরও খাদ্য উৎপাদনের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, বিশ্ব সম্প্রদায় আগামী বছরে একটি গভীর সংকটের আশঙ্কা করছে। তিনি বলেন, খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে হবে। এটি এখন আমাদের জন্য অনিবার্য এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।

শেখ হাসিনা মঙ্গলবার (১১ অক্টোবর) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভার প্রারম্ভিক বক্তব্যে এ আহ্বান জানান। তিনি তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি বৈঠকে যোগ দেন।ব্রিটেন ও আমেরিকায় তার সাম্প্রতিক সফরের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, তিনি বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র প্রধান, সরকার প্রধান এবং বিভিন্ন সংস্থার প্রধানদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা করেছেন, বিশেষ করে রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায়, যেখানে সকলেই অত্যন্ত উদ্বিগ্ন এবং আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, ২০২৩ সালে একটি গুরুতর দুর্ভিক্ষ হতে পারে যখন অর্থনৈতিক মন্দা আরও গভীর হবে এবং খাদ্য সংকট দেখা দেবে। শেখ হাসিনা বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে অনেক দেশে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। সুতরাং, আমাদের খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে হবে এবং খাদ্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে এবং সেই সাথে খাদ্যকে প্রক্রিয়াজাতকরণের বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে।

তিনি আরো বলেন, আমাদের একটা সুবিধা আছে যে আমাদের জমি অনেক উর্বর এবং যেখানে বীজ বপন করা হয় সেখানে কিছু উৎপন্ন হয়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও এটা বলতেন।পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী জনগণকে কঠোর পরিশ্রম করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমরা কোন অপ্রয়োজনীয় খরচ বাড়াব না, বরং আমরা বিদ্যুৎ, জ্বালানি, পানি, গ্যাস ইত্যাদি ব্যবহারে আরও সাশ্রয়ী এবং সচেতন হবো।

তিনি দেশের প্রতিটি পরিবারকে তাদের সাধ্যমত সঞ্চয় করার অনুরোধ জানান।এটি সরকারের জন্যও প্রযোজ্য।প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার কোনো কিছুই অপ্রয়োজনে ব্যবহার করতে যাবে না।তিনি বলেন, আমরা যা প্রয়োজন তা ব্যবহার করব, এর বেশি নয়। আমাদের অপ্রয়োজনীয় কোন কিছু ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই। কারণ আমি বিশ্বনেতা ও সংস্থার প্রধানদের মধ্যে উদ্বেগ দেখেছি। তাই আমাদের যথেষ্ট সতর্কতামূলক পদক্ষেপ বজায় রাখতে হবে। শেখ হাসিনা বলেন, সব প্রতিকূলতা মোকাবেলা করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে, সরকার তাই করবে যতদিন জনগণ আমাদের সঙ্গে থাকবে।

তিনি বলেন, জনগণ আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। যতদিন মানুষ আমাদের সাথে থাকবে ততদিন আমাদের কোনো টেনশন নেই। আমাদের জনগণকে উৎসাহিত করতে হবে এবং তাদের কাজে লাগাতে হবে, যেভাবে আমরা করোনাভাইরাস মোকাবিলার সময় করেছিলাম।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবসময় মূল্যস্ফীতি নিয়ে আলোচনা করে মূল্যবান সময় ক্ষেপণ না করার জন্য পরিকল্পনা কমিশনকে অনুরোধ করেন।

তিনি বলেন, কারণ, বিশ্বের অনেক দেশই এই বিষয়ে আলোচনা করে না। আমেরিকা এবং ইউরোপীয় দেশগুলো মূল্যস্ফীতির বিষয়ে অনেক বেশি আগ্রহ দেখালেও তাদের নিজেদের দেশে বিষয়টি নিয়ে খুব বেশি আলোচনা করে না।তিনি উল্লেখ করেন, এসব দেশ মূল্যস্ফীতির প্রভাব নিয়ে খুব একটা আলোচনা করে না।তিনি আরো বলেন, আমাদেরও বিষয়টি নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা করার দরকার নেই, তবে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম সাধারণের নাগালের মধ্যে রাখার চেষ্টা করা উচিত। এর জন্য যা যা প্রয়োজন আমরা তা করব।এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতিটি প্রকল্প নেওয়ার আগে সবাইকে দেশের জনগণের সর্বোচ্চ কল্যাণ এবং সেই প্রকল্প থেকে কি সাফল্য আসবে সে কথা ভাবতে হবে।

ইউডি/সুপ্ত

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading