নতুন কমান্ডার-ক্ষেপণাস্ত্র হামলা-আমেরিকার হুমকি: রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ কোন পথে?
উত্তরদক্ষিণ । বুধবার, ১২ অক্টোবর ২০২২ । আপডেট ১২:৫৫
ইউক্রেনে মস্কোর একের পর এক সামরিক ব্যর্থতার পর সম্প্রতি রুশ বাহিনীর নেতৃত্বে রদবদল করেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ক্রিমিয়া সেতুতে রহস্যময় বিস্ফোরণের মধ্যেই নতুন কমান্ডার হিসেবে নাম ঘোষণা করা হয় সের্গেই সুরোভিকিনের। আর এর পরই যেন চিত্র পাল্টাতে শুরু করে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের। গত সোমবার থেকে শুরু হওয়া ক্ষেপণাস্ত্র হামলা দফায় দফায় মঙ্গলবারও চালিয়েছে রাশিয়া। পুতিনের এমন আচরণের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে আমেরিকা ও ইউরোপিয় ইউনিয়ন। নতুন করে এই রুশ আক্রমণ যুদ্ধ পরিস্থিতি কোন পথে নিয়ে যাচ্ছে তা নিয়ে বিস্তারিত লিখেছেন সাদিত কবির
ইউক্রেনে যুদ্ধক্ষেত্রে রুশ বাহিনী পিছু হটছে। এতে রাশিয়ার কট্টরপন্থীদের চরম অসন্তোষ ও চাপের মুখে পড়েছিলেন প্রেসিডেন্ট পুতিন। আর যুদ্ধের ময়দানে তেমন অগ্রগতি দেখাতে না পেরে এখন ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে ইউক্রেনীয়দের প্রতিরোধের জবাব দিতে চাচ্ছেন তিনি। এ ক্ষেপণাস্ত্রগুলো উৎক্ষেপণ করা তুলনামূলক সহজ, তবে সেগুলো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার আগে থামিয়ে দেওয়া অত্যন্ত কঠিন। তাই হামলার সবচেয়ে সহজ এ পথই বেছে নিয়েছেন পুতিন। হামলার এ পদ্ধতি ব্যাপক নজর কাড়তেও সক্ষম হয়েছে। আর গত সোমবার থেকে শুরু হওয়া এই হামলায় ইউক্রেনের ১২ অঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইউক্রেনের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, রাশিয়া তাদের ওপর ৮৪টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। মঙ্গলবার পর্যন্ত ১৯ জনের প্রাণহানিও হয়েছে। অনেক অঞ্চল বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, যোগাযোগও ব্যাহত হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে জার্মানি ও আমেরিকা ইউক্রেনকে দ্রুত সামরিক সহযেগিতার ঘোষণা দিয়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতি তাই অনেকটাই জটিল আকার ধারণ করতে যাচ্ছে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকগণ।

আচমকা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার নেপথ্যে কী: ক্রিমিয়ার সঙ্গে রাশিয়ার যোগাযোগের একমাত্র সেতু কার্চ ব্রিজে গত শনিবার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। সেখানে ইউক্রেনের স্পেশাল ফোর্সের সদস্যরা হামলা চালিয়েছেন বলে দাবি করে রাশিয়া। এমন পরিস্থিতিতেই গত সোমবার ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে একযোগে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় মস্কো। সেতুতে বিস্ফোরণ পুতিনের জন্য আরও বেশি অপমানের। কেননা তার ৭০তম জš§দিনের পরদিনই এ ঘটনা ঘটে। বিশ্লেষকদের ভাষ্য, এর জবাব দিতেই পুতিন নতুন করে এই ঘটনা ঘটিয়েছেন। তবে, অনেকেই বলছেন তার পূর্ব পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই ক্ষেপনাস্ত্র হামলা। এক্ষেত্রে ইউক্রেনের যে এক মাসের সাফল্য তা ধীরে ধীরে ব্যর্থতায় পরিগণিত হওয়ার উপক্রম হবে। আর রাশিয়ার সাময়িক হোঁচটও সাফল্যে রূপ নেবে।

মূর্তিমান আতঙ্ক সের্গেই সুরোভিকিন: ইউক্রেনের ওপর রাশিয়ার এমন সাড়াশি ক্ষেপনাস্ত্র হামলার ঘটনায় সামনে উঠে এসেছে জেনারেল সের্গেই সুরোভিকিন নামের একজন রুশ কমান্ডারের নাম। ২০১৭ সালে সিরিয়ায় তার পরিষেবার জন্য সুরোভিকিনকে রাশিয়ার হিরো উপাধি দেওয়া হয়। সেখানে তিনি মহাকাশ বাহিনীর কমান্ডার হিসেবে রাশিয়ান সামরিক অভিযানের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। মার্কিন প্রতিরক্ষা নীতি থিঙ্ক-ট্যাঙ্ক জেমসটাউন ফাউন্ডেশনের এক প্রতিবেদন অনুসারে, তিনি রাশিয়ান সামরিক বাহিনীতে সম্পূর্ণ ‘নির্মম’ হিসেবে পরিচিত। সুরোভিকিন ২০০৮ সালের পর জেনারেল স্টাফ এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ পদে একটি দুর্দান্ত কেরিয়ার তৈরি করেছেন। আমূল সামরিক সংস্কারের সময় তিনি অনেক নির্মমতার পরিচয় দেন।

কোন পথে হাঁটবে ইউক্রেন?: ইউক্রেনে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে দেশটির শহরগুলোতে রাশিয়ার চালানো বৃহত্তম ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর নিজেদের সশস্ত্র বাহিনীকে শক্তিশালী করার অঙ্গীকার জানিয়েছে কিয়ভ। ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এক বক্তৃতায় বলেন, আমাদের সশস্ত্র বাহিনীকে শক্তিশালী করতে সবকিছু করবো আমরা। যুদ্ধক্ষেত্রকে শত্রুর জন্য আরও যন্ত্রণাদায়ক করে তুলবো আমরা। ইউক্রেনে নতুন করে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৯ জন হয়েছে। এ সময় আরও অসংখ্য ব্যক্তি আহত হন। মঙ্গলবার (১১ অক্টোবর) দেশটির জরুরি পরিষেবা দফতর এমন তথ্য দিয়েছে। এক বিবৃতিতে ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় জরুরি পরিষেবা বিভাগ জানিয়েছে, গত সোমবার থেকে শুরু হওয়া রাশিয়ার গোলাগুলিতে আহতের সংখ্যা ১০৫ জনে পৌঁছেছে। ওই আক্রমণে ইউক্রেনের ১২টি অঞ্চল ও রাজধানী কিয়েভ শহরে অগ্নিকাøের ঘটনা ঘটে। এ সময় ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও বেসামরিক অবকাঠামোতে আগুন লেগে যায়। পরে এ আগুন নেভায় দেশটির জরুরি পরিষেবা বিভাগ। ইউক্রেনের এ রাষ্ট্রীয় সংস্থা বলেছে যে পোলতাভা, সুমি, টেরনোপিল, লভিভ, কিয়েভ ও খমেলনিটস্কি অঞ্চলের ৩,৫৭১ জনবসতিতে ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ আবার চালু করা হয়েছে। তবে কিয়েভ, লভিভ, সুমি, টারনোপিল এবং খমেলনিটস্কি অঞ্চলের আরও ৩১০ বসতি এখনও বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় আছে।

ইউক্রেনের পাশে আমেরিকা-জার্মানি: ক্রাইমিয়ার কের্চ সেতুতে হামলার প্রতিশোধে ইউক্রেনজুড়ে শুরু হওয়া রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার নিন্দা করেছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তিনি বলেন, রাশিয়া বেসামরিক নাগরিকদের হামলার নিশানা করেছে, এতে তাদের সামরিক কোনও উদ্দেশ্য সিদ্ধি হচ্ছে না। আমেরিকা এবং মিত্ররা মিলে রাশিয়াকে এর মূল্য দেওয়ানোর ব্যবস্থা নিতে থাকবে বলেও বাইডেন অঙ্গীকার করেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, আজ ইউক্রেনজুড়ে রাজধানী কিইভসহ বিভিন্ন স্থানে রুশ বাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্র হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে আমেরিকা। এই সমস্ত হামলায় বেসামরিক নাগরিকরা হতাহত হচ্ছে এবং এমন সব লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস হচ্ছে যাতে সামরিক কোনও উদ্দেশ্য সিদ্ধি হচ্ছে না। ইউক্রেনের জনগণের বিরুদ্ধে পুতিনের অবৈধ যুদ্ধে তারা এর মধ্য দিয়ে আরও একবার পুরোদস্তুর নির্মমতার প্রকাশ ঘটিয়েছে। বাইডেন বলেছেন, এখন রাশিয়া যে হামলা শুরু করেছে তাতে ইউক্রেনের জনগণের পাশে থাকার আমেরিকার অঙ্গীকারই কেবল আরও দৃঢ় হবে। আমাদের মিত্র ও অংশীদারদের পাশাপাশি আমরা রাশিয়ার আগ্রাসনের জেরে তাদের ওপর আরও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা চাপাতে থাকব, নৃশংসতা এবং যুদ্ধাপরাধের জন্য পুতিন ও রাশিয়াকে জবাবদিহি করানোর ব্যবস্থা করব। আর ইউক্রেনকে তাদের দেশ ও স্বাধীনতা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সমর্থন দেব।

এদিকে, ইউক্রেনকে জার্মান আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দেয়ার কথা আগেই জানিয়েছিলেন জার্মান চ্যান্সেলর ওলফ শলৎস। এই বছরের শেষের মধ্যে তা দেওয়া হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কিন্তু সম্প্রতি রাশিয়া ইউক্রেনের শহরগুলোতে নতুন করে মিসাইল আক্রমণ শুরু করার কারণে এখনই এই ব্যবস্থা ইউক্রেনকে দিচ্ছে জার্মানি। জার্মান প্রতিরক্ষামন্ত্রী ক্রিস্টিন ল্যামব্রেখট বলেছেন, রাশিয়া ইউক্রেনের বেসামরিক মানুষের উপর যেভাবে আক্রমণ শুরু করেছে, তাতে দ্রুত এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দেওয়া প্রয়োজন। কয়েকদিনের মধ্যেই ইউক্রেন তা পাবে। প্রাথমিকভাবে চারটি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দেওয়ার কথা জার্মানির। তারমধ্যে প্রথমটি এই সপ্তাহের মধ্যেই ইউক্রেন পেতে পারে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা। জার্মানির কাছে অনেকদিন আগেই আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চেয়েছিল ইউক্রেন। রাশিয়ার হামলা থেকে বাঁচতেই তারা এই আবেদন জানিয়েছিল। এতদিন পর জার্মানি তা ইউক্রেনের হাতে তুলে দিচ্ছে। জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী বেয়ারবক বলেছেন, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইউক্রেনের সাধারণ মানুষকে রক্ষা করবে। এই মুহূর্তে ইউক্রেনের এটি সবচেয়ে প্রয়োজন। জার্মানি আইআরআইএস-টি-এসএলএম আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠাচ্ছে ইউক্রেনকে। এর সাহায্যে মাটি থেকে ২০ থেকে ৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত দূরত্বে ধেয়ে আসা ক্ষেপণাস্ত্র আটকে দেওয়া সম্ভব। এছাড়া ক্ষেপণাস্ত্রের গতিপথও পরিবর্তন করে দিতে পারে এই ব্যবস্থা।
আমেরিকাকে রাশিয়ার সতর্কবার্তা: ইউক্রেন ইস্যুতে ‘রেড লাইন’ অতিক্রম না করতে আমেরিকাকে সতর্ক করেছে রাশিয়া। ওয়াশিংটনে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত আনাতোলি আন্তোনোভ এমন সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেছেন। আনাতোলি আন্তোনোভ বলেন, আমেরিকা তার মিত্ররা ইউক্রেনকে আরও অস্ত্র সরবরাহ করলে সেটি যুদ্ধের মাত্রা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। তিনি বলেন, ওয়াশিংটন ও তার মিত্রদের প্রতি আমাদের আহ্বান থাকবে তারা যেন ‘রেড লাইন’ অতিক্রম না করে।প্রভাবশালী এই রুশ কূটনীতিক বলেন, কিয়েভকে প্রাণঘাতী অস্ত্র দেওয়া থামান। এটি কেবল নতুন করে ধ্বংস ডেকে নিয়ে আসবে, সংঘাতকে আরও দীর্ঘায়িত করবে। এদিকে, ইউক্রেন সংঘাতে ‘ক্রমবর্ধমান সম্পৃক্ততার’ কারণে আমেরিকা ও তার ইউরোপীয় মিত্রদের বিরুদ্ধে ‘পাল্টা ব্যবস্থা’ নেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে রাশিয়া। রুশ উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভ এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আরআইএ নভোস্তির বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে আমেরিকাভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন। সের্গেই রিয়াবকভ বলেন, রাশিয়া পর্যাপ্ত পাল্টা ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে।
তিনি বলেন, আমেরিকা ও ন্যাটোর সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে লিপ্ত হওয়ার কোনও আগ্রহ রাশিয়ার নেই। আমরা সতর্কতা জারি করছি এবং আশা করছি, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আগেই আমেরিকা এবং অন্য পশ্চিমা দেশগুলো উত্তেজনার পারদ বৃদ্ধির বিপদ অনুধাবনে সমর্থ হবে।

মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় মেদভেদেভ: ইউক্রেনের গোয়েন্দা সংস্থা এসবিইউর ওয়ান্টেড তালিকায় নাম রয়েছে রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ও বর্তমানে দেশটির নিরাপত্তা সংক্রান্ত সর্বোচ্চ পরিষদ রাশিয়া’স সিকিউরিটি কাউন্সিলের ডেপুটি চেয়ারম্যান দিমিত্রি মেদভেদেভের। গত মার্চ মাসেই এ তালিকায় নাম উঠেছে তার।
ইউক্রেনের সরকারি গোয়েন্দা সংস্থা এসবিইউয়ের কর্মকর্তারা আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থাকে এ তথ্য জানিয়েছেন। বার বার ইউক্রেনের ভৌগলিক অখøতাকে অবমূল্যায়ন করা এবং রাশিয়া-ইউক্রেন সীমান্ত অঞ্চল দখলে সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দেয়ার কারণেই তার নাম ওয়ান্টেড তালিকায় উঠেছে বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের কর্মকর্তারা। সম্প্রতি একটি বিবৃতি দিয়েছে এসবিইউ। সেখানে মেদভেদেভ সম্পর্কে বলা হয়েছে, ইউক্রেনের নিরাপত্তা বাহিনী নিশ্চিত করছে যে, রাশিয়া’স সিকিউরিটি কাউন্সিলের উপপ্রধান ও সেই আগ্রাসী রাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভকে ‘ওয়ান্টেড’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। গত মার্চ মাসেই তার নাম ওয়ান্টেড তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

রাশিয়ার আহ্বান প্রত্যাখ্যান জাতিসংঘের: ইউক্রেনের চারটি অঞ্চলকে রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত করে নেওয়ার মস্কোর ঘোষণায় ক্ষুব্ধ পশ্চিমা দেশগুলো। রাশিয়ার এই অধিগ্রহণের ঘোষণার নিন্দা জানিয়ে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে একটি খসড়া প্রস্তাব উঠতে যাচ্ছে। মস্কো চাইছে এই প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটি যেন প্রকাশ্যে না করে গোপনে করা হয়। বিষয়টি নিয়ে জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে তারা। তবে মস্কোর এমন প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে জাতিসংঘ। মঙ্গলবার (১১ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা। আজ কিংবা আগামীকাল বৃহস্পতিবার সাধারণ পরিষদের এ সংক্রান্ত খসড়া প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটি হতে পারে। রাশিয়ার প্রস্তাব ছিল, জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্য দেশের প্রতিনিধিরা যেন গোপন ব্যালটের মাধ্যমে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে। তবে মস্কোর এমন প্রস্তাব হালে পানি পায়নি। কথিত গোপন ব্যালটে ভোটাভুটির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে প্রকাশ্যে ভোটাভুটির পক্ষে রায় দিয়েছে সাধারণ পরিষদের ১০৭টি সদস্য রাষ্ট্র। মাত্র ১৩টি দেশ প্রকাশ্য ভোটের বিরোধিতা করেছে। অন্য দেশগুলো ভোটদানে বিরত ছিল।
ইউডি/সুপ্ত

