৫৩০ কোটি মোবাইল ফোন ই-বর্জ্যে পরিণত হবে চলতি বছর
উত্তরদক্ষিণ । শুক্রবার, ১৪ অক্টোবর ২০২২ । আপডেট ১৫:৪০
ই-বর্জ ব্যবস্থাপনাবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংগঠন ‘ওয়েস্ট ইলেকট্রিকাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইকুইপমেন্ট (ডব্লিউইইই) ফোরাম’ বলছে, চলতি বছরই ৫৩০ কোটি মোবাইল ফোন ই-বর্জ্যে পরিণত হবে। পুনর্ব্যবহারের উপযোগী করা বা রিসাইকেল করা হবে না এর একটিও।
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, বিশ্ববাজারের ডেটা বিশ্লেষণ করে ই-বর্জ্যে পরিণত হতে যাওয়া বিপুল সংখ্যক ডিভাইসের এই সংখ্যা অনুমানের চেষ্টা করেছে ডব্লিউইইই ফোরাম। মোবাইল ফোন মালিকদের অনেকে পুরনো ডিভাইস রিসাইকেল করার বদলে নিজের কাছেই রেখে দিচ্ছেন বলেও উঠে এসেছে এ সংস্থার গবেষণায়। ইলেকট্রনিক পণ্যের তারে ব্যবহৃত কপার বা রিচার্জেবল ব্যাটারি নির্মাণে ব্যবহৃত কোবাল্টের মত ধাতু আসে খনি থেকে। ডিভাইসগুলো রিসাইকেল করা না হলে অথবা নষ্ট ডিভাইস থেকে এসব দামি ধাতু সংগ্রহ করার উদ্যোগ ও চেষ্টা না থাকলে বর্জ্য হিসেবেই নষ্ট হয় মূল্যবান ধাতুগুলো।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পরিবেশ সচেতনদের মাথাব্যথার নতুন কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বিশ্বব্যাপী বিপুল পরিমাণ ই-বর্জ্য। ইলেকট্রনিক পণ্য নির্মাণে ব্যবহৃত যে পরিমাণ মূল্যবান ধাতু নষ্ট হয়, পরিবেশের ওপরও তার বিরূপ প্রভাব পড়ে। ডব্লিউইইই মহাপরিচালক প্যাসকেল লিরয় বলেন, মানুষ যেটা উপলব্ধি করতে পারছে না, সেটা হল, তুচ্ছ মনে হওয়া জিনিসগুলোরও অনেক মূল্য আছে এবং বৈশ্বিক পর্যায়ে ভাবলে একযোগে এর আকার বিরাট।
বার্তা সংস্থা লিখছে, বিশ্বব্যাপী মানুষের হাতে এখন এক হাজার ছয়শ কোটি মোবাইল ফোন আছে বলে ধারণা করা হয়। এর মধ্যে ইউরোপের নাগরিকদের কাছে থাকা ডিভাইসগুলোর এক-তৃতীয়াংশই আর ব্যবহৃত হচ্ছে না। নিজস্ব গবেষণার ভিত্তিতে ডব্লিউইইই জানিয়েছে, ওয়াশিং মেশিন থেকে শুরু করে ট্যাবলেট কম্পিউটার ও জিপিএস ডিভাইসের মতো বৈদ্যুতিক পণ্য থেকে সৃষ্ট ‘পর্বত’ সমান বর্জ্যের আকার ২০৩০ সাল নাগাদ প্রতি বছর সাত কোটি ৪০ লাখ টন করে বাড়তে থাকবে।
ডব্লিউইইই ব্যবস্থাপক ম্যাগডালেনা কারেতানোভিচ বলেন, নতুন ইলেকট্রনিক ডিভাইস অথবা অন্যান্য যন্ত্রাংশ নির্মাণে ব্যবহার করা যেতে পারে এই ডিভাইসগুলো (ই-বর্জ্য) থেকে আসা গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল; যেমন, উইন্ড টার্বাইন, বিদ্যুৎ চালিত গাড়ির ব্যাটারি বা সোলার প্যানেল হতে পারে এখান থেকে। কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং পরিবেশবান্ধব সমাজ ব্যবস্থা গঠনের জন্য এটা অতি গুরুত্বপূর্ণ।
ইউডি/সুপ্ত

