ফ্রান্সেই ব্যালন ডি’অর: বেনজেমায় ঘুচল দুই যুগের অপেক্ষা
উত্তরদক্ষিণ। মঙ্গলবার , ১৮ অক্টোবর ২০২২। আপডেট ১২:০০
বেশিরভাগ মানুষের অনুমান ছিল যা, সেটিই শেষ পর্যন্ত ধরা দিল বাস্তব হয়ে। গত মৌসুমে জাদুকরী পারফরম্যান্সের আরেকটি স্বীকৃতি পেলেন করিম বেনজেমা। ২০২২ সালের ব্যালন ডি’অর জিতে নিলেন রিয়াল মাদ্রিদ তারকা। তাতে ফুরাল ফ্রান্সের দীর্ঘ অপেক্ষাও। প্যারিসে গত সোমবার রাতে জমকালো অনুষ্ঠানে বেনজেমার হাতে তুলে দেওয়া হয় ফরাসি সাময়িকী ‘ফ্রান্স ফুটবল’- এর পুরস্কার, ব্যালন ডি’অর ২০২২।
দুই যুগ পর ব্যালন ডি’অর জিতলেন ফ্রান্সের কোনো ফুটবলার। বেনজেমার আগে সবশেষ ১৯৯৮ সালে জিতেছিলেন জিনেদিন জিদান। সেই কিংবদন্তি জিদান এবার পুরস্কার তুলে দেন ৩৪ বছর বয়সী বেনজেমার হাতে।
দেশ হিসেবে সবচেয়ে বেশি ৭টি ব্যালন ডি’অর নিয়ে আর্জেন্টিনা, নেদারল্যান্ডস, পর্তুগাল ও জার্মানির পাশে বসল ফ্রান্স। আর্জেন্টিনার হয়ে সবগুলোই জেতেন মেসি, ব্যক্তিগতভাবে যা সর্বোচ্চ।
গত বছর সপ্তমবার জেতা মেসি এবার ৩০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকায়ই ছিলেন না, ২০০৫ সালের পর যা প্রথম। ইচ্ছার বিরুদ্ধে গত বছরের অগাস্টে বার্সেলোনা ছেড়ে পিএসজিতে পাড়ি দিয়ে ২০২১-২২ মৌসুমে নিজের ছায়া হয়ে ছিলেন তিনি। এই বছর তালিকায় ২০তম স্থানে আছেন পুরস্কারটি পাঁচবার জেতা ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। ১৭ বছরের মধ্যে যা তার সর্বনিম্ন।
প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বেনজেমা বললেন কখনও হাল না ছাড়ার কথা। তিনি বলেন, এটা আমাকে আসলেই গর্বিত করেছে, যে পরিশ্রম করেছি, তার স্বীকৃতি এটি। কখনও হাল ছাড়িনি আমি।
বিজয়ীর মঞ্চে দাঁড়িয়ে পেছন ফিরে তাকালেন বেনজেমা। বললেন, দুঃসময়েও মাথা উঁচু করে চলেছেন তিনি। জানালেন নিজের দুই ‘আইকন’ খেলোয়াড়ের কথাও। আমার জীবনে দুজন আদর্শ (রোল মডেল) আছেন, জিদান ও রোনালদো। সবসময় আমার মনে স্বপ্নটা ছিল-সবকিছু সম্ভব। কঠিন সময় ছিল, যখন আমি ফ্রান্স দলে ছিলাম না, কিন্তু তখনও কঠোর পরিশ্রম করেছি এবং কখনও হাল ছাড়িনি এবং ফুটবল খেলাটা উপভোগ করেছি।
ব্যালন ডি’অরের জন্য আগে পুরো বছরের পারফরম্যান্স বিবেচনায় নেয়া হলেও গত মার্চে নিয়মে পরিবর্তন আনা হয়। এই বছর থেকে বিবেচনা করা হচ্ছে ইউরোপিয়ান ফুটবলের পুরো একটি মৌসুমের সময়কে (অগাস্ট-জুলাই)। গত মৌসুমে বেনজেমার যা পারফরম্যান্স ও অর্জন, তাতে ব্যালন ডি’অর জয়ের জন্য সবচেয়ে ফেভারিট ছিলেন তিনিই।
২০২১-২২ মৌসুমে রিয়ালের রেকর্ড ১৪তম চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ে বড় অবদান ছিল বেনজেমার। ১৫ গোল করে আসরের সর্বোচ্চ স্কোরার ছিলেন তিনি। এর মধ্যে ১০টিই করেন নকআউট পর্বে। একের পর এক ম্যাচে রিয়ালের রূপকথার প্রত্যাবর্তনের নায়ক তিনি।
ইউডি/সুপ্ত

