জনস্রোত দেখে আওয়ামী লীগে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে: ফখরুল
উত্তরদক্ষিণ। মঙ্গলবার, ১৮ অক্টোবর ২০২২। আপডেট ১৪:৩০
চট্টগ্রাম এবং ময়মনসিংহে বিএনপির সমাবেশে জনতার ঢল দেখে আওয়ামী লীগের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেছেন, ময়মনসিংহ সমাবেশের আগের রাতে অঘোষিত কারফিউ জারি করা হয়েছে। রাতে ককটেল গুলিবর্ষণ করেও কোনো বাধার সৃষ্টি করতে পারে নাই। উল্টো পুলিশকে ব্যবহার করে আমাদের ৪শ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে। এভাবে দমন, গুলি, হত্যা ও গুম করে কোনোদিনই ক্ষমতায় টিকে থাকা যাবে না। যতই তারা শক্তিশালী হোক।
মঙ্গলবার (১৮ অক্টোবর) গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি) এবং জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামের সঙ্গে পৃথক সংলাপ শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
ফখরুল বলেন, ‘অনির্বাচিত এই অবৈধ ভোটাধিকার হরণকারী লুটেরা সরকারের পদত্যাগের দাবিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আমরা সংলাপ করছি। আমরা প্রথম পর্যায়ে শেষ করে দ্বিতীয় পর্যায়ে আলোচনা শুরু করেছি। আজকে আলোচনা করেছি ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি) এবং জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামের সঙ্গে। আলোচনা মধ্যে যেসব বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি তা হলো এই সরকারের পদত্যাগের দাবিতে, গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধারের দাবিতে, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের যে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে তা প্রত্যাহারের দাবিতে একমত হয়ে যুগপৎভাবে আন্দোলন করব।’

‘এছাড়া দ্রব্যমূলের ঊর্ধ্বগতি, বিচার বিভাগে স্বাধীনতা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং ক্ষমতাসীন দলের লুটপাটের বিরুদ্ধে কমিশন গঠন করা। এই দাবিগুলো নিয়ে আমরা একমত হয়েছি যুগপৎ আন্দোলন করার।’-বলেন ফখরুল।
আওয়ামী লীগের উদ্দেশ্য করে বিএনপির এই নেতা বলেন, কিছুদিন আগেও তারা দাবি করেছেন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। আজকে কী এমন ঘটেছে তারা এখন ভয় পাচ্ছে? কারণটা হলো এত বেশি দুর্নীতি হচ্ছে প্রতিটা ক্ষেত্রে প্রতিটা জায়গায়। তাদের এখন এই অবস্থার প্রেক্ষিতে সামাল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। যার কারণে আজকে তারা বিদ্যুৎ দিতে পারছে না।
মির্জা ফখরুল বলেন, ৪৩ কোটি টাকা খরচ ধরা হয়েছে সচিব-মুখ্য সচিবের বাড়ি তৈরি করার জন্য। আপনি কী আশা করবেন। এটা আনবিলিভেবল অবিশ্বাস্য। এরকম প্রতিটা ক্ষেত্রে একটা দুইটা নয়, সমস্ত খাতে। আজকে যে দুর্নীতি চলছে সেজন্য তারা এই অবস্থায় পড়েছে। এ সরকার ব্যর্থ হয়েছে সম্পূর্ণভাবে এই রাষ্ট্র চালাতে ও পরিচালনা করতে।
ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এনডিপি সভাপতি কে এম আবু তাহের-এর নেতৃত্বে মহাসচিব আবদুল্লাহ-আল-হারুন (সোহেল), প্রেসিডিয়াম সদস্য মজিবুর রহমান, মূসা মন্ডল,জামিল আহমেদ, ভাইস-চেয়ারম্যান আলী আকবর, সুলতানা পারভীন, মিজানুর রহমান পাটোয়ারী, আব্দুল আজিজ, যুগ্ম মহাসচিব হাফেজ আবু সাঈদ অংশ নেন।
জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম সভাপতি শায়খুল হাদীস আল্লামা মনসুরুল হাসান রায়পুরীর নেতৃত্বে মহাসচিব শায়খুল হাদীস হাফেজ মাওলানা ড. গোলাম মহিউদ্দিন ইকরাম, নির্বাহী সহ-সভাপতি মাওলানা আব্দুর রহিম ইসলামাবাদী, সিনিয়র সহ-সভাপতি শায়খুল হাদীস আল্লামা শেখ মজিবুর রহমান, সহ-সভাপতি মওলানা শহীদুল ইসলাম আনসারী, যুগ্ম মহাসচিব মওলানা আব্দুল মালিক চৌধুরী, মাওলানা আব্দুল হক কাওসারী, সহকারী মহাসচিব মাওলানা রশিদ বীন ওয়াক্কাস, সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতী জাকির হোসাইন খান, ঢাকা মহানগর সাধারণ সম্পাদক মওলানা আতাউর রহমান খান অংশ নেয়।
ইউডি/সুস্মিত

