টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ: চমকে দেয়া নামিবিয়াকে হারিয়ে সুপার টুয়েলভে এক পা নেদারল্যান্ডসের
উত্তরদক্ষিণ । মঙ্গলবার, ১৮ অক্টোবর ২০২২ । আপডেট ১৬:০০
প্রথম ম্যাচে জয় পেয়েছিলো দুদলই। এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে গোটা ক্রিকেটি বিশ্বকেই চমকে দয়ে নামিবিয়া। অন্যদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরতাকে হারায় নেদারল্যান্ডস। এ ম্যাচে যারা জিতবে সুপার টুয়েলভে এ পা তারাই দেবে, এমন সমীকরণের ম্যাচে জয়ের হাসি ফুটল অবশ্য ডাচদের মুখেই।
ভিক্টোরিয়ার জিলংয়ে মঙ্গলবার (১৮ অক্টোবর) টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের জয় ৫ উইকেটে। নামিবিয়াকে ১২১ রানে থামিয়ে জয়ের বন্দরে পা রাখে তারা ৩ বল বাকি থাকতে। আসরে নিজেদের প্রথম ম্যাচে আমিরাতের ১১১ রান তাড়ায় ডাচরা জিতেছিল স্রেফ ১ বল বাকি থাকতে। টানা দুই জয়ে প্রাথমিক পর্বের ‘এ’ গ্রুপে তারা আছে শীর্ষে।
আমিরাত ম্যাচের পর নামিবিয়ার বিপক্ষেও নেদারল্যান্ডসের জয়ের নায়ক বাস ডে লেডে। বল হাতে ১৮ রানে ২ উইকেট নেওয়ার পর জ্বলে ওঠেন তিনি ব্যাটিংয়েও। দলের জয় সঙ্গে নিয়ে ফেরেন ৩০ রান করে। টানা দুই ম্যাচেই জেতেন সেরার পুরস্কার।
শেষের মতো শুরুটাও হতাশার ছিল নামিবিয়ার। টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে দ্বিতীয় ওভারেই ডিভান লা কুককে হারায় তারা। পাওয়ার প্লের শেষ দুই ওভারে আরও দুই ব্যাটসম্যানের বিদায়ে চাপে পড়ে যায় আফ্রিকার দলটি। কলিন আকারম্যানকে টানা দুই চার মেরে এক বল পর মিড-অফে ধরা পড়েন মাইকেল ফন লিনগেন (৩ চারে ২০)। পরের ওভারে ইয়ান নিকোল লফটি-ইটন কট বিহাইন্ড হন পল ফন মেকেরেনের বলে।
৩২ রানে ৩ উইকেট হারানো নামিবিয়ার হাল ধরতে পারেননি স্টিভেন বার্ড। শ্রীলঙ্কাকে হারানোর ম্যাচে সেরা ইয়ান ফ্রাইলিঙ্ক আবারও দায়িত্ব নেন দলের। কিন্তু ডাচদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে পারেননি দ্রুত রান তুলতে। অনেকটা সময় উইকেটে কাটিয়ে মন্থর ব্যাটিং করেন গেরহার্ড এরাসমাসও। ইনিংসে সর্বোচ্চ ৪১ রানের জুটি গড়েন দুইজন ৪২ বল খেলে। ১৯তম ওভারে তিন বলের মধ্যে ফ্রাইলিঙ্ক ও নামিবিয়া অধিনায়ককে ফেরান ডে লেডে। একটি করে ছক্কা-চারে ৪৮ বলে ৪৩ রান করে লং-অনে ক্যাচ দেন ফ্রাইলিঙ্ক। এরাসমাস হন বোল্ড।

রান তাড়ায় উদ্বোধনী জুটিতে উড়ন্ত সূচনা পায় নেদারল্যান্ডস। দ্বিতীয় ওভারে ডেভিড ভিসাকে পরপর দুই চার মারার পর বেন শিকোঙ্গোকে টানা দুই ছক্কায় ওড়ান বিক্রমজিত। তার আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে পাওয়ার প্লেতে ৫১ রান তুলে ফেলে ডাচরা। আরেক প্রান্তে মাক্স ও’ডাওড কেবল দিয়ে যান সঙ্গ।
নবম ওভারে ৫৯ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন বের্নার্ড শুলজ। ডিপ মিডউইকেটে ধরা পড়েন ২ ছক্কা ও ৩ চারে ৩৯ রান করা বিক্রমজিত। পরে দলের রানের গতিতে দম দেন ও’ডাওড। চতুর্দশ ওভারে রান আউটে কাঁটা পড়েন তিনি একটি করে ছক্কা-চারে ৩৫ রান করে। ৯২ রানে ২ উইকেট হারানো নেদারল্যান্ডসের তখন চাই ৩৭ বলে ৩০ রান। কিন্তু এরপরই পাল্টে যায় ম্যাচের চিত্র। তিন বলের মধ্যে টম কুপার ও আকারম্যানকে ফিরিয়ে নামিবিয়াকে ম্যাচে ফেরান জেজে স্মিট। পরের ওভারে বিদায় নেন অধিনায়ক এডওয়ার্ডসও।
এক প্রান্ত আগলে রেখে বিপদে পড়া দলকে লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে নেন তিনে নামা ডে লেডে। সাতে নেমে তাকে দারুণ সঙ্গ দেন টিম প্রিঙ্গল। দুইজনের ছোট তবে গুরুত্বপূর্ণ ২০ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে কাঙ্ক্ষিত ঠিকানায় পৌঁছায় ডাচরা। আগের ম্যাচেও দলের জয়ে শেষ দিকে এডওয়ার্ডসের সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েছিলেন প্রিঙ্গল।
ইউডি/সুপ্ত

