বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া সম্পর্ক উন্নয়নে গণমাধ্যমের ভূমিকা রয়েছে : স্পিকার

বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া সম্পর্ক উন্নয়নে গণমাধ্যমের ভূমিকা রয়েছে : স্পিকার

উত্তরদক্ষিণ । বৃহস্পতিবার, ২০ অক্টোবর ২০২২। আপডেট ১৯:৪২

জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া সম্পর্ক উন্নয়নে দুই দেশের গণমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

বাংলাদেশ ইন্ডিয়ার সম্পর্ককে সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচাইতে সুসংহত করার লক্ষ্যে দুদেশের গণমাধ্যমকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ইন্ডিয়ার তৎকালীন সরকার প্রধান শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধীর কূটনৈতিক প্রজ্ঞা ও আদর্শিক নেতৃত্বই দুদেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কের ভীত স্থাপন করেছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এ সম্পর্ক আরো প্রতিষ্ঠিত ও সুসংহত হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, মুজিব শতবর্ষের অনুষ্ঠানে ইন্ডিয়ার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফর দুদেশের ঐতিহাসিক সম্পর্ককে জোরদার করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গঙ্গার পানিবন্টন চুক্তি, ইন্ডিয়ার সাথে স্থল সীমানা চুক্তি ইত্যাদি কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। বিবিআইএন, বিমসটেক ইত্যাদি বিষয়ে উভয় দেশ কিভাবে আরো উপকৃত হতে পারে সেক্ষেত্রে দুদেশের গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম হলে বাংলাদেশের সুবর্ণজয়ন্তী ও জাতীয় প্রেসক্লাবের ৬৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ‘রোল অব মিডিয়া ইন বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া রিলেশন্স: চ্যালেঞ্জেস এন্ড প্রসপেক্টস’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে স্পিকার বৃহস্পতিবার (২০ অক্টোবর) এসব কথা বলেন।

স্পিকার বলেন, বৈশ্বিক সংকটময় রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ও ইন্ডিয়া শুধু ভৌগোলিক সীমান্তেই আবদ্ধ নয়, পঞ্চাশ বছর ধরে দুই দেশের শিল্প, সাহিত্য, যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ নানা ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা লক্ষ্যণীয়। ইন্ডিয়া বাংলাদেশের সবচাইতে পুরনো বন্ধু। মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশকে অকুন্ঠ সমর্থন দেয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশের নিরীহ মানুষের ওপর পাকিস্তানের বর্বর গণহত্যার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছিল ইন্ডিয়া। মুক্তিযুদ্ধকালে এদেশের প্রায় এক কোটি শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছিল ইন্ডিয়া।ইন্ডিয়ান গণমাধ্যম ও সুশীল সমাজ গণহত্যার খবর সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে দিয়েছিল। ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর ইন্ডিয়া কর্তৃক বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদানের মধ্য দিয়ে নতুন সম্পর্কের সূচনা হয়েছিল।

ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, স্বৈরশাসনের দুঃসহ দিনগুলোতে জাতীয় প্রেস ক্লাবই হয়ে উঠেছিল আন্দোলন ও সংগ্রামের কেন্দ্রস্থল। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে হানাদার বাহিনী প্রেস ক্লাবে মরটার শেল নিক্ষেপ করেছিল এবং অপারেশন সার্চলাইটের সময়ে প্রেস ক্লাব ভবন বিধ্বস্ত হয়ে যায়। সকল আন্দোলন সংগ্রামে কখনো আপোষ না করে মুক্তবুদ্ধি ও মুক্তচিন্তার বাতিঘর জাতীয় প্রেসক্লাব। জাতীয় প্রেসক্লাব গণতন্ত্রের আধার, অসাম্প্রদায়িক গতিশীল চেতনার ধারক, স্বাধীন বাংলাদেশের অস্তিত্বের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই প্রতিষ্ঠান এখনো দেশের মানুষের ভরসার স্থল।

জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে সেমিনারে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও দ্যা ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, ভারতীয় সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি গীতার্থ পাঠক ও প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

ইউডি/সিফাত

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading