পার্বত্যাঞ্চলে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে ৫০ এর অধিক জঙ্গি : র্যাব
উত্তরদক্ষিণ । শুক্রবার, ২১ অক্টোবর ২০২২। আপডেট ১৬:১৫
৫০-এর অধিক প্রশিক্ষণার্থী জঙ্গি পার্বত্যাঞ্চলে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে বলে জানিয়েছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ান (র্যাব)। শুক্রবার (২১ অক্টোবর) র্যাব থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বান্দরবান ও রাঙামাটির বিভিন্ন অঞ্চল থেকে নতুন জঙ্গি সংগঠন ‘জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়া’র সাতজন এবং পাহাড়ি বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনের তিনজনসহ মোট ১০ জনকে গতকাল গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতের অভিযানে বিপুল অস্ত্র ও গোলাবারুদ জব্দ করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে র্যাব জানায়, পার্বত্য অঞ্চলের জঙ্গি প্রশিক্ষণ শিবিরে প্রশিক্ষণার্থীর সংখ্যা ৫০-এর অধিক।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে রাঙামাটির বিলাইছড়ির সাইজামপাড়া ও বান্দরবানের রোয়াংছড়ি বাজার এলাকায় র্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখার নেতৃত্বে র্যাব-৭ ও র্যাব-১৫ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে সৈয়দ মারুফ আহমদ মানিক (৩১), ইমরান হোসাইন সাওন (৩১), কাওসার শিশির (৪৬), জাহাঙ্গীর আহম্মেদ জনু (২৭), ইব্রাহিম আলী (১৯), আবু বক্কর সিদ্দিক বাপ্পি (২৩), রুফু মিয়া (২৬), জৌথান স্যাং বম (১৯), স্টিফেন বম (১৯) ও মাল সম বমকে (২০) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়া নামে উগ্রবাদী সংগঠনে জড়িত হয়ে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা দেড়-দুই বছরের বেশি সময় ধরে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন। এর মধ্যে কেউ নিকটাত্মীয়, কেউ বন্ধু, কেউ স্থানীয় ব্যক্তি বা পরিচিতজনদের মাধ্যমে উগ্রবাদী এ সংগঠনে জড়িত হন। জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়া নামক উগ্রবাদি জঙ্গি সংগঠনে যোগদান করে কথিত হিজরতের নামে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন ধাপের কর্মকেন্দ্রিক স্তর অতিক্রম করে উত্তীর্ণ হওয়া সাপেক্ষে নিখোঁজ হওয়া যুবকরা প্রশিক্ষণের জন্য এসব এলাকায় যান বলে জানা যায়।
জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, পার্বত্য অঞ্চলের প্রশিক্ষণ শিবিরে মোট প্রশিক্ষণার্থীর সংখ্যা ৫০-এর অধিক। ‘জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়া’ সংগঠনটির আমির মো. আনিসুর রহমান ওরফে মাহমুদ নামক এক ব্যক্তি। যার নেতৃত্বে উগ্রবাদী সংগঠনটি পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়া, উগ্রবাদী এ সংগঠনে ছয়জন শূরা সদস্য রয়েছে। যারা দাওয়াতী, সামরিক, অর্থ, মিডিয়া ও উপদেষ্টার দায়িত্বে রয়েছে। শূরা সদস্য আবদুল্লাহ মাইমুন দাওয়াতী শাখার প্রধান, মাসকুর রহমান সামরিক শাখার প্রধান, মারুফ আহমেদ সামরিক শাখার দ্বিতীয় ব্যক্তি, মোশারফ হোসেন অর্থ ও গণমাধ্যম শাখার প্রধান, শামীম মাহফুজ প্রধান উপদেষ্টা ও প্রশিক্ষণের সার্বিক তত্ত্বাবধায়ক এবং ভোলার শায়েখ আলেম বিভাগের প্রধান হিসেবে সংগঠনটিতে দায়িত্ব পালন করছে। তারা অস্ত্র চালনাসহ সশস্ত্র সংগ্রামের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ গোপনে পরিচালনার জন্য তারা বান্দরবান ও রাঙামাটির দুর্গম এলাকাকে বেছে নেয়।
ইউডি/সুপ্ত

