দুদকের মামলা: ডিআইজি প্রিজন্স বজলুর রশীদের ৫ বছর জেল
উত্তরদক্ষিণ । রবিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২২। আপডেট ১৩:৩০
তিন কোটি ১৪ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগে কারা অধিদপ্তরের সাময়িক বরখাস্ত উপ-মহাপরিদর্শক বজলুর রশীদকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ইকবাল হোসেন রবিবার (২৩ অক্টোবর) দুদকের করা এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।রায়ে কারাদণ্ডের পাশাপাশি পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে বজলুর রশীদকে। জরিমানার টাকা না দিলে তাকে আরও ছয় মাস কারাভোগ করতে হবে।
যে তিন কোটি ১৪ লাখ ৩৫ হাজার ৯০২ টাকার অবৈধ সম্পদের তথ্য এ মামলায় এসেছে, তা রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার সিদ্ধান্ত দিয়েছেন বিচারক।দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল গণমাধ্যমকে বলেন, ২০০৪ সালের দুর্নীতি দমন কমিশন আইনের ২৭ (১) ধারায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে এ কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মামলার রাষ্ট্র এবং আসামি পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয় গত ২২ সেপ্টেম্বর, সেদিন রায় ঘোষণার জন্য ২৩ অক্টোবর তারিখ নির্ধারণ করা হয়।
১৯৯৩ সালে সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পাওয়া বজলুর রশীদ ঢাকায় সর্বশেষ কারা সদর দপ্তরে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তার আগে ডিআইজি হিসেবে ছিলেন রাজশাহীতে। ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর দৈনিক যুগান্তরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বিপুল পরিমাণ ঘুষের টাকা স্থানান্তর করতে ডিআইজি প্রিজনস (হেডকোয়ার্টার্স) বজলুর রশীদ অভিনব এক পন্থা বেছে নিয়েছেন। কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে শতাধিক ধাপে তিনি পাঠিয়েছেন কয়েক কোটি টাকা। টাকা তুলেছেন তার স্ত্রী রাজ্জাকুন নাহার।
এজন্য প্রকৃত ঠিকানা গোপন করে স্ত্রীর নামে সিম তোলা হয়েছে এবং সরাসরি নিজে টাকা না পাঠিয়ে নির্ভরযোগ্য ব্যক্তির মাধ্যমে ওই টাকা পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয় ওই প্রতিবেদনে। এরপর এই কারা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। ঘুষ লেনদেনের অভিযোগে দুদকের তলবে হাজির হলে ওই বছর ২০ অগাস্ট তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই দিনই দুদকের উপপরিচালক মো. সালাউদ্দিন বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন বজলুর রশীদের বিরুদ্ধে। পরে তাকে সরকারি চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
ইউডি/সুপ্ত

