চিনির বাজারে অস্থিরতা: সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ কাম্য
উত্তরদক্ষিণ । সোমবার , ২৪ অক্টোবর ২০২২। আপডেট ১২:১৫
আমদানিনির্ভর অন্যান্য ভোগ্যপণ্যের মতো চিনির বাজারেও চলছে অস্থিরতা। ব্যবসায়ীদের চাপে ১২ দিনে দুই দফায় কেজিপ্রতি চিনির দাম ২০ টাকা বাড়ানো হলেও নির্ধারিত দামে বাজারে মিলছে না। এই অস্থিরতার পেছনে আন্তর্জাতিক বাজারে চিনির মূল্যবৃদ্ধি, ডলারের বিপরীতে টাকার মূল্য হ্রাস ইত্যাদির কথা বলা হলেও মূল কারণ বেসরকারি আমদানিকারকদের ওপর একক নির্ভরশীলতা।
বর্তমানে দেশে চিনির চাহিদা ১৮ থেকে ২০ লাখ টন। রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলো এক সময় বছরে দেড়-দুই লাখ টন চিনি উৎপাদন করত। কিন্তু গত দুই বছরে ১৫টি রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলের মধ্যে ৬টির উৎপাদন বন্ধ থাকায় দেশীয় উৎপাদন কমে ৩০ হাজার টনে নেমে এসেছে। এ কারণে দেশের চিনি খাত প্রায় শতভাগ আমদানিভিত্তিক বেসরকারি চিনিকলগুলোর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। যার ফলে এই পণ্যের বাজারে সরকারের কার্যত কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই।
সরকার খাদ্য উৎপাদন বাড়িয়ে আমদানিনির্ভরতা কমানোর কথা বললেও বাস্তবে দেশীয় আখ থেকে স্বাস্থ্যসম্মত চিনি উৎপাদনকারী রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিশিল্প খাতকে নিদারুণ অবহেলার মধ্যে ফেলে রাখা হয়েছে। অথচ যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হলে রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলো দেশে চিনির চাহিদার একটা উলেস্নখযোগ্য অংশ সরবরাহ করে বাজারের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারত। আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রাও সাশ্রয় করা যেত। সেই সঙ্গে হাজারো আখচাষি ও শ্রমিকের কর্মসংস্থান হতো।
এক প্রতিবেদনে প্রকাশ, সরকারের বেঁধে দেওয়া দামের চেয়ে বেশিতে চিনি বিক্রির দায়ে ঢাকার মিরপুরের সাত প্রতিষ্ঠানকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানরা করেছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। ভোক্তা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা বলেন, আমাদের কাছে হট লাইন বা বিভিন্ন জায়গা থেকে অভিযোগ এসেছে যে বাজারে চিনি পাওয়া যাচ্ছে না এবং বেশি দামে চিনি বিক্রি হচ্ছে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে আমরা এই অভিযান পরিচালনা করেছি। মিল থেকে কেন চাহিদা অনুযায়ী চিনি আসছে না, তা দেখার জন্য মিলে মিলেও অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
এটা সত্য জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর থেকে নিত্যপণ্যের বাজার অস্থিতিশীল। দেশের জনগণ মনে করে, এ সংকট মোকাবিলায় সরকারের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। এ দেশের অতিমুনাফালোভী অসৎ ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট প্রতিটি পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়। এটা সিন্ডিকেটের কারসাজি এবং বাজার সংস্কৃতির একটি উলেস্নখযোগ্য অংশ। নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির ক্ষেত্রে তাদের অজুহাতের শেষ নেই। তারা একেক সময় একেক অজুহাত দাঁড় করায়। তারা খাদ্যে ভেজালও দেয়। এই চিত্র বদলানো কঠিন।
আমরা মনে করি, বাজার সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হলে চলবে না। তাদের কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। প্রয়োজনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের সংখ্যা বাড়াতে হবে। এরা জনগণের স্বার্থের দিকে কখনোই নজর দেয় না। এরা বাজারসন্ত্রাসী। কীভাবে অসৎ উপায় অবলম্বন করে দ্রম্নত ধনী হওয়া যায় সেটাই তাদের প্রধান উদ্দেশ্য। বাজারে মূল্য তালিকা টাঙিয়ে যথাযথ তদারকির ব্যবস্থা করতে হবে। দেশের অসহায় জনগণকে জিম্মি করে তারা বারবার পকেট কাটবে এটা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। আমরা মনে করি, বিক্রেতাদের মানসিকতার পরিবর্তন যতদিন না ঘটবে ততদিন নিত্যপণ্যের বাজার অস্থির থাকবেই এবং দেশের জনগণও তাদের কাছে জিম্মি থাকবে।
ইউডি/সিফাত

