ইলিশ আহরণে নদীতে যেতে প্রস্তুত জেলেরা
উত্তরদক্ষিণ । শুক্রবার, ২৮ অক্টোবর ২০২২। আপডেট ২৩:৫০
অলসতা ভেঙে আড়মোড়া দিয়ে উঠেছেন জেলেরা। পাড়ার শেষ প্রান্তের চা দোকানটি থেকে শুরু করে প্রতি ঘরে ঘরেই উৎসবের আমেজ। শুক্রবার (২৮ অক্টোবর) বিকেল অন্যদিনের বিকেলগুলোর মতো নয়। সবার চোখ-মুখেই উচ্ছ্বাসের আভা। ইলিশ ধরতে দরিয়ায় যাওয়ার প্রস্তুতি ঘরে ঘরে।
জেলে পাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, ফেনীর সোনাগাজীর চর চান্দিয়া জেলে পাড়ায় নিষেধাজ্ঞার শেষ সময়ে সব প্রস্তুতি সারিয়ে নিচ্ছেন তারা। অনেকেই প্রস্তুতি শেষে মুখিয়ে আছেন নদীতে নামতে। নৌকা মেরামত, নতুন জাল তৈরি ও ছেঁড়া জাল মেরামতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কেউ কেউ। নদীতে নামতে জেলেরা তাদের মাছ ধরার নৌকাগুলো সারি সারি নোঙর করে রেখেছেন।
মৎস্য অফিস সূত্র জানায়, ইলিশের উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে প্রতিবছরের মতো এবারও গত ৭ থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিনের জন্য ইলিশ মাছ আহরণ, পরিবহন, বাজারজাতকরণ, মজুদ, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময়করণের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল সরকার। সেই নিষেধাজ্ঞা শেষ হচ্ছে আজ। আজ রাত ১২টার পর থেকেই নদীতে নামবে জেলেরা, ইলিশ মাছ ধরবে।
জেলে হরিপদ জানান, ঋণ-দাদনে এক গলা হয়ে আছে। দরিয়ায় নামলে জালে ইলিশ এলে সেই বোঝা কিছুটা কমবে। এ সময়টার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা। নদীতে নামতে পারলে ও জালে মাছ এলে দুঃখ-কষ্ট লাগব হবে।
জেলে সুজন বলেন, সরকারের দেয়া নিষেধাজ্ঞা মেনে এতদিন নদীতে নামি নি। আজ রাত থেকে আবার নামবো। মাছ ধরেই তার সংসার চলে। নিষিদ্ধ সময়ে সরকার কিছু চাল দেয়, তা দিয়ে কিছুই হয় না। বহু কষ্টে সময়টা পার করতে হয়।
মৎস্যজীবী চুট্টু মহাজন বলেন, সরকার জেলেদের নিষেধাজ্ঞাকালীন প্রকৃত জেলে চিহ্নিত করে প্রণোদনা দেওয়ায় আমরা সন্তুষ্ট। তবে প্রয়োজনের তুলনায় প্রণোদনা অপ্রতুল।
সোনাগাজী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তুর্য সাহা বলেন, ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমের ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন করা গেলে এ বছর ফেনী নদীতে ইলিশ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে। তাই জেলেদের নিষেধাজ্ঞার সময় ইলিশ শিকার থেকে বিরত রাখতে এখানকার ২৫০ জন জেলেকে প্রণোদনা হিসেবে জনপ্রতি ২৫ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে। উপজেলায় নিবন্ধিত প্রায় ১ হাজার ৯৯৭ জন জেলে থেকে আমরা যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত ইলিশ আহরণ করা জেলেদের মধ্যেই এ প্রণোদনা বিতরণ করেছি।
ইউডি/সিফাত

