একাত্তরের গণহত্যার স্বীকৃতিতে মার্কিন কংগ্রেসে প্রস্তাব পাসের আহ্বান

একাত্তরের গণহত্যার স্বীকৃতিতে মার্কিন কংগ্রেসে প্রস্তাব পাসের আহ্বান

উত্তরদক্ষিণ । রবিবার, ৩০ অক্টোবর ২০২২। আপডেট ২২:৪৫

১৯৭১ সালে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী কর্তৃক বাংলাদেশে চালানো গণহত্যাকে স্বীকৃতি দিতে মার্কিন কংগ্রেসে তোলা প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছে ‘হিউম্যান রাইটস কংগ্রেস ফর বাংলাদেশ মাইনোরিটিস’ (এইচআরসিবিএম)। সেই সঙ্গে সংস্থাটি এই প্রস্তাব পাসের আহ্বান জানিয়েছেন। ওয়াশিংটন ডিসিতে ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এইচআরসিবিএম এসব দাবি তুলে ধরে।

এর আগে গত ১৪ অক্টোবর গণহত্যাকে স্বীকৃতি দিতে মার্কিন কংগ্রেসে প্রস্তাব আনেন কংগ্রেসম্যান স্টিভ শ্যাবট। ওই প্রস্তাব পাসের দাবি জানিয়ে এইচআরসিবিএম-এর নির্বাহী পরিচালক প্রিয়া সাহা সংবাদ সম্মেলনে বলেন, পাকিস্তানি সেনাবাহিনী এবং তাদের মিত্ররা দুই লাখ নারীকে ধর্ষণ, ৩০ লাখ মানুষকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে। তাদের নিপীড়নে এক কোটি মানুষ ঘরহারা হয়ে ইন্ডিয়ায় আশ্রয় নিয়েছিল। তিনি আরও বলেন, পাকিস্তানি সেনারা এক হাজার ১০০ জন বাঙালি বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, অধ্যাপক, পদার্থবিদ, আইনজীবী এবং লেখককে হত্যা করেছে। বাংলাদেশে যুদ্ধকালীন সময়ের ১ হাজার ৯৪২টি গণকবর পাওয়া গেছে।

মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদারদের সহায়তাকারী যুদ্ধপরাধীদের বিচারের কথা জানিয়ে প্রিয়া সাহা বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু করে বাংলাদেশ সরকার। এ পর্যন্ত ৪৯ জন যুদ্ধাপরাধীর বিচার হয়েছে। বর্তমানে ৫০০টিরও বেশি ঘটনা তদন্তাধীন রয়েছে এবং ৩৬টি মামলা আদালতে চলমান রয়েছে।

১৯৭১ সালের নৃশংস ওই হত্যাযজ্ঞকে জেনোসাইডের স্বীকৃতির দাবিতে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে তোলা রেজলুশন ‘এইচ.রেজ.১৪৩০’ পাসের আহ্বান জানান তিনি। ভূ-রাজনীতি ও ইন্দোপ্যাসিফিক সম্পর্কের ওপর ঐতিহাসিক এই রেজলুশনের প্রভাব নিয়েও সংবাদ সম্মেলনে আলোচনা করেন বক্তারা।

সংবাদ সম্মেলনটি সঞ্চালনা করেছেন গোল্ড ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজির মিডিয়া ফেলো আদেল নাজারিয়ান। এ ছাড়া ওই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, ফোরাম অব ফ্রিডম এক্সপ্রেশনের সাধারণ সম্পাদক সালিম সামাদ, ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ কমিউনিটির নেতা দিলিপ দেবনাথ, বালুচ হিউম্যান রাইটস সংগঠনের রাজ্জাক বালুচ, সিন্ধি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মুনাওয়ার ‘সুফি’ লাগারি।

ইউডি/আতা

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading