জলবায়ু সম্মেলন কপ-২৭ শুরু আজ: প্রতিশ্রুতি পূরণ হবে কী
উত্তরদক্ষিণ । রবিবার, ০৬ নভেম্বর ২০২২ । আপডেট ১২:৩০
মিশরের শার্ম এল-শেখ-এ আজ থেকে শুরু হচ্ছে বহুল প্রতিক্ষীত জলবায়ু সম্মেলন কপ-২৭। জলবায়ু পরিবর্তন এবং এর প্রভাব মোকাবিলায় করণীয় নিয়ে বিশ্বের ১৯৮টি দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান বা তাদের প্রতিনিধিরা এই সম্মেলণে অংশ নেবেন। উন্নত দেশগুলোর সহায়তার প্রতিশ্রুতিই এবারের কপ সম্মেলনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে বলছেন বিশ্লেষকরা। তাতে ক্ষতিগ্রস্তু দেশগুলো তাদের হিস্যা পাবে কিনা সেই দিকে নজর থাকছে সবার। বিস্তারিত লিখেছেন আসাদ এফ রহমান
বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনে বিশ্বজুড়ে যে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে তা উত্তরণের পথ খোঁজার মাধ্যম হচ্ছে জলবায়ু সম্মেলন, যা একটি চলমান প্রক্রিয়া। বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের প্রভাবে সৃষ্ট চলমান অর্থনৈতিক মন্দা, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং বিভিন্ন দুর্যোগের আকারে জলবায়ু পরিবর্তনের বাড়তি প্রভাবের ফলে জলবায়ুতে কার্বন নির্গমনের মাত্রা কমিয়ে আনাসহ আন্তর্জাতিক সহযোগিতার জন্য বিশাল বাধা সৃষ্টি করেছে। এ অবস্থায় প্যারিস চুক্তিটি অপ্রাসঙ্গিকতার দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে। আর তাই এবারের একটি সফল কপ-২৭ যা জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় উন্নয়নশীল দেশগুলিকে সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রকে টিকিয়ে রাখার জন্য অপরিহার্য। বহুল প্রতিক্ষীত এই জলবায়ু সম্মেলন আজ থেকে শুরু হয়ে চলবে মোট ১৩ দিন।

উন্নত বিশ্বের জন্য ‘লিটমাস পরীক্ষা’: উন্নত দেশগুলোর সহায়তার প্রতিশ্রুতিটিই এবারের কপ সম্মেলনের কার্যতালিকায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে। ২০০৯ সালে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি প্রশমনে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে উন্নত বিশ্ব বছরে ১০ হাজার কোটি মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ দেবে। ২০২০ সালে ওই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কথা ছিল। কিন্তু প্রায় তিন বছর পর এখন পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। আয়োজক মিসর সতর্ক করে দিয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষয়ক্ষতি বৃদ্ধি পেলে সম্মেলনকে ঘিরে ‘আস্থার সংকট’ তৈরি হবে। জাতিসংঘ মহাসচিব এবারের সম্মেলনকে উন্নত বিশ্বের জন্য ‘লিটমাস পরীক্ষার’ সঙ্গে তুলনা করেছেন। ইউরোপ-আমেরিকাসহ উন্নত বিশ্ব জলবায়ু ইস্যুতে আনুষ্ঠানিক আলোচনা করলেও নগদ সহায়তার বিষয়ে তাৎক্ষণিক কিছু জানায়নি। আগামী বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষয়ক্ষতি আরো বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কায় ক্ষতিপূরণ নিয়ে উন্নত বিশ্ব চিন্তিত হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া ইউক্রেনে রুশ সামরিক আগ্রাসনের জেরে খাদ্য ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিসহ নানা সমস্যা দেখা দেওয়ায় উন্নত দেশগুলো নিজ নিজ অর্থনীতির দিকেই বেশি দৃষ্টি দিচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, কপের একটা সফলতা হচ্ছে, যারা দায়িত্বশীল তারা কোথাও আলোচনা বসতে চায় না। কিন্তু এখানে যারা দায়িত্বশীল অর্থাৎ কার্বন নিঃসরণ বেশি করছে আবার ক্ষতিগ্রস্ত রাষ্ট্রগুলো তাদের বক্তব্য তুলে ধরার সুযোগ পায়। উভয়পক্ষের বসার সুযোগটাকে সাফল্য হিসেবে দেখছেন তারা। আলোচনার টেবিলে যখন কোনো বিষয় থাকে সেটি সমাধানের একটা সম্ভাবনা থাকে। আলোচনা না করলে সমস্যা সমাধান হবে না, সেটা নিশ্চিত। কিন্তু আলোচনা করলে সমস্যা সমাধানের পথগুলো বের হয়ে আসে বা পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

বাংলাদেশের ভাবনায় থাকছে কী? : বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে একটি এবং ২০৫০ সাল নাগাদ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ৫০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি হলে বাংলাদেশের ১১ শতাংশ স্থলভাগ ডুবে যাবে। এর ফলে দেশের নিম্নাঞ্চলের উপকূলে বসবাসকারী আনুমানিক ১৫ মিলিয়ন মানুষের জীবনে ক্ষতিকর প্রভাব পড়বে। ২০২৫ সাল পর্যন্ত উন্নত দেশগুলো প্যারিস চুক্তির আওতায় প্রতি বছর যে ১০০ বিলিয়ন ডলার দেয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে, তা নিশ্চিত করার দাবি জানাবে ঢাকা। পাশাপাশি বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ২০২৫ সালের পর এ বিষয়ে উন্নত দেশগুলোর অবস্থান কী হবে, সেটি আলোচনায় রাখবে বাংলাদেশ। গতবারের সম্মেলন গ্লাসগোতে কপ-২৬-এ অংশ নিলেও এবার মিশর যাচ্ছেন না বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সংশ্লিষ্টরা জানান, মিশরের শার্ম এল-শেখে বাংলাদেশের এজেন্ডা নিয়ে হাজির হবেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন। সম্মেলনে যোগ দেয়ার কথা রয়েছে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমানসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের।
ঢাকার চাওয়া হচ্ছে, ১০০ বিলিয়ন ডলারের বাইরে লস অ্যান্ড ড্যামেজের জন্য আলাদা অর্থায়ন করতে হবে। এ ইস্যুর সঙ্গে সম্পৃক্ত তথা জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, খরা এবং বন্যাসহ নানাবিধ কারণে যেসব মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে তাদের পুনর্বাসনের দায়িত্ব আন্তর্জাতিকভাবে দেখতে হবে। এছাড়া অভিযোজন ও প্রশমন, সবুজ প্রযুক্তি হস্তান্তরে উন্নত দেশগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হবে। স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও স্ট্যামফোর্ড বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্রের (ক্যাপস) প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার গণমাধ্যমকে বলেন, ২০২০ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত উন্নত দেশেগুলো প্যারিস চুক্তির আওতায় প্রতি বছর ১০০ বিলিয়ন ডলার প্রদানের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। সেই ১০০ বিলিয়নে বাংলাদেশের হিস্যা কী হবে সেটি কিন্তু এখনও সুনির্দিষ্ট হয়নি। যে সমস্ত দেশ কম ক্ষতিগ্রস্ত তাদের হিস্যা কেমন, আর আমরা যারা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত তাদের হিস্যা কেমন বা কী হবে, সে বিষয়ে আমাদের দাবি তুলতে হবে।
ইতিবাচক ফল চায় দক্ষিণ এশিয়া: জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো যে কতটা ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখে পড়ছে বিশ্ব ব্যাংকের এক পরিসংখ্যানে তা বোঝা যেতে পারে। টাকার অংক উল্লেখ করে সংস্থাটি বলছে, চলতি দশকের শেষে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো বছর প্রতি ১৬ হাজার কোটি ডলার ক্ষতির মুখে পড়বে। আর আগামী তিন দশক মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এই অঞ্চলের চার কোটি লোক বাস্তুচ্যুত হবে। জার্মানির পরিবেশ বিষয়ক সংগঠন জার্মান ওয়াচের এক গবেষণায় দেখা গেছে, চলতি শতকের প্রথম দুই দশকে বিশ্বের যে কয়টি দেশ দীর্ঘমেয়াদে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঝুঁকিতে রয়েছে তার প্রথম দশটি দেশের তিনটিই হলো দক্ষিণ এশিয়ার। দেশগুলো হলো বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও নেপাল। পরের দশ দেশের তালিকায় আছে দক্ষিণ এশিয়ার আরো দুই দেশ- ইন্ডিয়া ও আফগানিস্তান। বিশ্ব ব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক জলবায়ু বিশেষজ্ঞ টমাস মাইকেল কের বলেন, পাকিস্তানের ভয়াবহ বন্যার পর পুনর্গঠনের জন্য এক হাজার ছয়শ’ কোটি ডলার প্রয়োজন। তিনি বলেন, আমেরিকার ফ্লোরিডায় সম্প্রতি আঘাত করা হারিকেন ইয়ানের সঙ্গে আমি পাকিস্তানের বন্যার তুলনা করতে চাই। দু’টোই অনেক ভয়াবহ ছিল। কিন্তু ফ্লোরিডার চেয়ে পাকিস্তানের মানুষ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। আর তাই এবারের সম্মেলন থেকে ইতিবাচক ফল চায় দক্ষিণ এশিয়া। বিশ্বব্যাংকের বিশেষজ্ঞ কের আশা, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জন্য কীভাবে অর্থায়ন বাড়ানো যেতে পারে সে বিষয়ে চিন্তা করতে সম্মেলনে সবাইকে একত্রিত করা যাবে।
প্যারিস চুক্তির বাস্তবায়ন কতদূর? : প্যারিস চুক্তি অনুযায়ী, ২০২০ সালের পর থেকে জলবায়ু অর্থায়নের অংকটি বছর প্রতি একশ’ বিলিয়ন বা দশ হাজার কোটি ডলার হওয়ার কথা। কিন্তু এখনো এই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি ধনী দেশগুলো। উন্নত দেশগুলোর দাবি, ২০২০ সালে সরকারি ও বেসরকারি খাত মিলিয়ে মোট আট হাজার তিনশ ত্রিশ কোটি ডলার প্রদান করা হয়েছে। তবে ব্রিটিশ বেসকারি সংস্থা অক্সফাম বলছে, এই তহবিলের প্রকৃত অংক দুই হাজার তিনশ’ থেকে দুই হাজার ৪৫০ কোটি ডলার। ধারণা করা হচ্ছে, চলতি বছরের সম্মেলনে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে কীভাবে অভিযোজন করা যায় সে সমস্যা সমাধানে উপর জোর প্রদান করা হবে। তাছাড়া অভিযোজনের জন্য বিভিন্ন গোষ্ঠি কীভাবে সহজে অর্থনৈতিক সুবিধা লাভ করতে পারে সে বিষয়টিও সহজ করা হবে।
গ্লাসগোর অস্পষ্টতা কাটবে এবার? : গত বছর জলবায়ু সম্মেলন (কপ ২৬) অনুষ্ঠিত হয় স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে এবং শেষ হয় গ্লাসগো জলবায়ু ঐক্যমতের মধ্য দিয়ে। এর মধ্যে রয়েছে কয়লা বিদ্যুতের ব্যবহার কমিয়ে আনার প্রতিশ্রুতিসহ জীবাশ্ম জ্বালানিতে ভর্তুকি বন্ধ করা। কপ ২৬ -এ প্যারিস রুলবুকটিও চূড়ান্ত করা হয়, যা আর্টিকেল ৬ নামে পরিচিত যার মধ্য দিয়ে কার্বন নিঃসরণ বাণিজ্যের পথ প্রশস্ত হয়। উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য কপ-২৬ ছিল একটি বড় হতাশার জায়গা, কারন এই সম্মেলনের মধ্য দিয়ে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে স্থায়ী এবং অপরিবর্তনীয় ক্ষতির বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য উন্নত দেশগুলোর কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা পাওয়ার ত্বরান্বিত হবে বলে মনে করা হচ্ছিল। অথচ গত বছর এই ক্ষেত্রে কোনো অগ্রগতিই হয়নি। গ্লাসগো সম্মেলনে জলবায়ু পরিবর্তন জনিত ক্ষয়ক্ষতি এবং লস অ্যান্ড ড্যামেজ মোকাবেলার প্রয়োজনীয়তা কথা স্বীকার করলেও, তা কাটিয়ে উঠতে আর্থিক সহায়তা প্রদান করার বিষয়ে কোনো সুষ্পষ্ট দিক নির্দেশনা ছাড়াই শেষ হয় সেবারের আসর। আর তাই এবারের সম্মেলন খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ব্রিটেনের ‘না’, আমারেকিার ‘হ্যাঁ’: এবারের কপ-২৭-এ যোগ দেবেন না সদ্য দায়িত্ব নেওয়া ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক। এ বিষয়ে সম্প্রতি তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন রোধে ব্রিটেন নেতৃত্বের ভূমিকা পালন করছে। তিনি জানান, কপ-২৭ জলবায়ু সম্মেলনে মিসরে না গিয়ে ‘জরুরি অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জগুলোতে’ মনোযোগ দেওয়া বেশি দরকার। ব্যক্তিগতভাবে আমি এর প্রতি আন্তরিকভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’ এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাউডেন কপ-২৭ জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলনে যোগ দেবেন। সেখানে তিনি জলবায়ু নিয়ে কাজ করার বিশ্বের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরবেন বলে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে বলা হয়, বাইডেন বৈশ্বিক জলবায়ু মোকাবেলার যুদ্ধে এগিয়ে আসবেন ও জলবায়ুর প্রভাবের ক্ষেত্রে সবচেয়ে দুর্বলদের স্বাভাবিক অবস্থায় প্রত্যাবর্তনে সহায়তা করবেন। তিনি দৃঢ়সংকল্পের এই দশকে জলবায়ু নিয়ে বিশ্বের সঙ্গে কাজ করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরবেন।

‘উন্নত দেশগুলোর কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি’: বিশ্লেষকদের ভাষ্য, জলবায়ু পরিবর্তনে যাদের দায় আছে অর্থাৎ শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলো কি ধরনের ভূমিকা পালন করে সেটার ওপর নির্ভর করছে সফলতা। জাতিসংঘের পরিবেশ সংস্থার সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুসারে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখনো ২০১৫ সালের প্যারিস চুক্তির লক্ষ্য থেকে অনেক পিছিয়ে আছে। বৈশ্বিক তাপমাত্রা ১ দশমিক ৫ সেন্টিগ্রেড মাত্রার নিচে রাখার জন্য কোনো নির্ভরযোগ্য পথ নেই। কার্বন নিঃসরণ কমানোর জন্য সরকারের পরিকল্পনা এখনো অপর্যাপ্ত। পরিবেশবাদী নেতারা উন্নত দেশগুলোকে আরও কিছু পদক্ষেপ নিতে বলছে। এবারের সম্মেলনটি এমন এক সময় হচ্ছে যখন হর্ন অফ আফ্রিকা নামে পরিচিত সোমালিয়ায় রেকর্ড পরিমাণ খরা এবং দুর্ভিক্ষের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিশ্বব্যাপী কার্বন নিঃসরণের মাত্র ৪ শতাংশ আফ্রিকা থেকে নির্গত হয় তবুও মহাদেশটি খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা, ক্রমবর্ধমান সংঘর্ষ এবং আরও গুরুতর আবহাওয়া সংক্রান্ত পরিণামসহ বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাব ভোগ করছে। যেহেতু এ সকল বিপর্যয়ে লাখ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে, তাই কপ-২৭ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা করতে পারে এমন বৈশ্বিক লক্ষ্যগুলোর জন্য আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার একটি সুযোগ প্রদান করছে।
ইউডি/সুপ্ত

