বাতাসের ‘বিষে’ প্রাণ সংশয়ে দিল্লিবাসী
উত্তরদক্ষিণ । রবিবার, ০৬ নভেম্বর ২০২২ । আপডেট ১৩:০৮
শীতের শুরুতেই দিল্লি যেন আস্ত গ্যাস চেম্বার। ইতোমধ্যেই সেখানে বাতাসে ‘বিষ’ মিশতে শুরু করেছে। টানা দু’দিন ধরে ভয়াবহ অবস্থা ভারতের রাজধানীর। সেখানকার বাসিন্দারা প্রাণ সংশয়ে ভুগছেন।
শনিবার দিল্লিতে বাতাসের গুণমান ‘গুরুতর’ পর্যায়ে ছিল। এরপর তড়িঘড়ি যান চলাচলে নিয়ন্ত্রণ আনতে বাধ্য হয় প্রশাসন। রাস্তায় পানিও ছিটানো হয়। শনিবার দিল্লিতে বাতাসের গুণমান গড় সূচক ছিল ৩৮১। দূষণ রুখতে ইতিমধ্যেই একাধিক পরিকল্পনা কার্যকর করেছে কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পরিষদ।
দিল্লির এই বিষাক্ত পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরাও। দিল্লির এই বিষাক্ত বাতাসে দিনকয়েক টানা শ্বাস-প্রশ্বাস নিলে সম্পূর্ণ সুস্থ মানুষেরও শ্বাসযন্ত্রে সমস্যা দেখা দিতে পারে বলে মত তাদের।
দীপাবলির সময় দেদার বাজি পোড়ানো এবং দিল্লি, পাঞ্জাব, হরিয়ানা ও উত্তরপ্রদেশের মতো রাজ্যগুলোতে ফসল তুলে নেওয়ার পর খড়কুটো জ্বালিয়ে দেওয়ার কারণেই প্রতি বছর দূষণ বাড়ে বলে মনে করেন অনেকে। এর ফলেই বাতাসে দূষণ ছড়ায়, যার ভুক্তভোগী হন দিল্লি ও আশেপাশের এলাকার বাসিন্দারা।
এই বিষাক্ত বাতাসের মধ্যে থাকার কারণে অনেকেরই নানারকম শারীরিক সমস্যা দেখা যাচ্ছে।
শীতের সময় বাতাসে দূষণের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় একজন সুস্থ ব্যক্তির শ্বাসযন্ত্রও দুর্বল হয়ে যেতে পারে বলে মত চিকিৎসকদের। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, দিল্লির বায়ুতে যে দূষিত কণাগুলো ভাসছে, তা রক্ত ও ফুসফুসে মিশে গেলে গুরুতর সমস্যার কারণ হতে পারে।
দিল্লির এইমসের এক চিকিৎসক জানিয়েছেন, যারা ইতিপূর্বে করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন, তাদের এই সময় অতিরিক্ত সুরক্ষা গ্রহণ করা উচিত।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের কথা অনুযায়ী, এই দূষিত বাতাসের ফলে চোখ জ্বালা, গলা জ্বালা বা শ্বাস-প্রশ্বাসে অসুবিধার মতো ছোটখাটো সমস্যা তো হচ্ছেই, এমনকি ফুসফুসে ক্যানসার অবধি হতে পারে।
এইমসের সাবেক পরিচালক ডা. রণদীপ গুলেরিয়াও মানুষকে সতর্ক থাকার কথা বলেছেন। তার কথায়, রাজধানীর বায়ু দূষণ শয়ে শয়ে মানুষ মারছে। কিন্তু কেউই বুঝতে পারছে না যে আসল কারণ কোথায় লুকিয়ে। সিগারেটের ধোঁয়ার থেকেও বায়ুদূষণে মানুষের ফুসফুস বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
সূত্র: দ্য ওয়াল
ইউডি/এআই

