মানুষ বেড়ে হচ্ছে ৮০০ কোটি: মানবসম্পদ তৈরি বড় চ্যালেঞ্জ

মানুষ বেড়ে হচ্ছে ৮০০ কোটি: মানবসম্পদ তৈরি বড় চ্যালেঞ্জ

সুপ্রিয়া দেবনাথ। রবিবার, ১৩ নভেম্বর ২০২২ । আপডেট ১২:৪০

যতই দিন যাচ্ছে পৃথিবীতে জনসংখ্যার হার বৃদ্ধি পাচ্ছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির কতগুলো নেতিবাচক দিক রয়েছে। এর ফলে মাথাপিছু আয় হ্রাস, বেকারত্ব বৃদ্ধি, খাদ্য সংকট, উন্নয়নের গতিমন্থরতা, শিল্পোন্নয়নের গতি হ্রাস, প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট ইত্যাদি বিষয় রয়েছে। এক প্রতিবেদনে প্রকাশ, আগামী ১৫ নভেম্বর বিশ্বের জনসংখ্যা নতুন এক মাইলফলক স্পর্শ করতে যাচ্ছে। তা হলো গ্রহ হিসেবে পৃথিবীতে জনসংখ্যা হবে ৮০০ কোটি। জাতিসংঘের জনসংখ্যা তহবিলের প্রধান নাতালিয়া কানেম বলেন, ৮০০ কোটি মানুষ, মানবসভ্যতার জন্য একটি স্মরণীয় মুহূর্ত। তিনি প্রত্যাশিত আয়ু বৃদ্ধি এবং মা ও শিশুমৃত্যু কমে যাওয়ার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, যদিও আমি বুঝতে পারছি স্মরণীয় এই মুহূর্তটি সবাই উদযাপন নাও করতে পারেন।

পৃথিবীতে জনসংখ্যা বেশি বলে অনেকে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। আমি এখানে পরিষ্কার করে বলতে চাই, মানুষের এই সংখ্যা ভয়ের কোনো কারণ নয়। অতিরিক্ত জনসংখ্যার ভয়ের পরিবর্তে, আমাদের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিদের গ্রহের সম্পদের অতিরিক্ত ব্যবহারের দিকে মনোনিবেশ করা উচিত বলেও উলেস্নখ করেন কানেম। নিউইয়র্কের রকফেলর বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবরেটরি অব পপুলেশন্সের জোয়েল কোহেন বলেন, জনসংখ্যা কাদের জন্য অনেক বেশি, কিসের জন্য অনেক বেশি? যদি আপনি আমাকে প্রশ্ন করেন, আমিও কি অনেক বেশি? আমি এমন মনে করি না। জনসংখ্যা দ্রুত বাড়ছে বলে মনে হলেও এর হার আসলে কমছে।

ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্যানুযায়ী, ২০২২ সালে বিশ্বে ১১ কোটি ৯৫ লাখের বেশি মানুষ জন্মগ্রহণ করেছেন। এক যুগের ব্যবধানে বিশ্বের মোট জনসংখ্যা ১০০ কোটি বেড়ে ৮০০ কোটির মাইলফলক স্পর্শ করতে চলেছে মাঝ নভেম্বরে। এমনিতেই বিশ্বজুড়ে অভাব আর অসমতায় যতি টানা যাচ্ছে না; দ্ব›দ্ব-সংঘাতে উদ্বাস্তু ও অভিবাসন সংকট দিন দিন বাড়ছে। জলবায়ু ঝুঁকি আরও বড় বিপদের সংকেত দিয়ে রেখেছে। এর মধ্যে মানুষ আরও বাড়লে এ গ্রহে কী ঘটবে? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৮০০০০০০০০০ সংখ্যাটি বিশাল বটে, দুশ্চিন্তাগুলোও অমূলক নয়। তবে এ নিয়ে আতঙ্কিত না হওয়াই মঙ্গলজনক।

জাতিসংঘ

জাতিসংঘ বিষয়টিকে উদযাপনের উপলক্ষ হিসেবে দেখার পরামর্শ দিয়ে বলেছে- মানব ইতিহাসের এক যুগান্তকারী মুহূর্তে উপস্থিত আমাদের এই পৃথিবী। আগামী ১৫ নভেম্বর এই গ্রহের মোট জনসংখ্যা ৮০০ কোটিতে পৌঁছাবে বলে প্রাক্কলন করা হয়েছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যুগান্তকারী সব উদ্ভাবনের কল্যাণে আজ আমরা দীর্ঘ আয়ু পেয়েছি, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করছি। বিশ্ব মানব পরিবারের জনসংখ্যা ১০০ কোটি থেকে ২০০ কোটি হতে লেগেছে ১২৫ বছর। আর এই জনসংখ্যা ৭০০ কোটি থেকে ৮০০ কোটি হতে চলেছে মাত্র ১২ বছরে। জাতিসংঘের পূর্বাভাস অনুযায়ী এ বছরই চীনকে পেছনে ফেলে বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ হতে চলেছে ইন্ডিয়া। আর চীনের ১৪০ কোটি জনসংখ্যা কমতে কমতে ২০৫০ সালের মধ্যে ১৩০ কোটিতে নেমে আসতে পারে।

এটা সত্য, উন্নত দেশগুলোর তুলনায় উন্নয়নশীল দেশগুলোতে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার অধিক। অসংখ্য সমস্যা-জর্জরিত উন্নয়নশীল দেশগুলোতে জনসংখ্যার অতিরিক্ত চাপে সবরকম উন্নয়ন প্রচেষ্টা ব্যাহত হয়। ফলে অর্থনৈতিক পরিকাঠামো ভেঙে পড়ে এবং বিভিন্ন প্রকার সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে খাদ্যদ্রব্যের চাহিদা বেড়ে যায়। ক্রমবর্ধমান চাহিদা অনুযায়ী সমহারে খাদ্যের জোগান দেয়া সম্ভব হয় না। ফলে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে অপুষ্টি, অনাহার প্রভৃতি সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। উন্নয়নের গতি থেমে যায়। খাদ্যের ঘাটতি পূরণ করার জন্য বিদেশ থেকে প্রচুর খাদ্যশস্য, ভোজ্যতেল ইত্যাদি আমদানি করতে হয়। এজন্য প্রচুর অর্থ বরাদ্দ করতে হয়। ফলে দেশের উন্নয়নমূলক কাজে বিনিয়োগের পরিমাণ অনেক কমে যায়। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে খাদ্য, চিকিৎসা, বাসস্থান, শিক্ষা প্রভৃতি খাতে চিত্র বদলে যায়। এর প্রভাব পড়ে জনসাধারণের ওপর। উন্নত দেশগুলোতে অতি স্বল্পহারে জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে এ ধরনের সমস্যা নেই। সুতরাং উন্নয়নশীল ও গরিব দেশগুলোকে সেভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে। এটা একটি বড় সমস্যা এই কারণে যে, এর ফলে খাদ্য নিরাপত্তা অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। জনসংখ্যাকে যদি জনসম্পদে পরিণত করা যায়, তবে এটা আশীর্বাদ হিসেবে গণ্য হতে পারে। কাজটি অত্যন্ত কঠিন, তবে অসম্ভব নয়।

লেখক: কলামিস্ট

ইউডি/আতা/সুপ্ত

Taanjin

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading