ভয়াবহ ডেঙ্গু পরিস্থিতি: জনগণের দায়বদ্ধতা ও সচেতনতাও প্রয়োজন
রাসেল হায়দার। সোমবার, ১৪ নভেম্বর ২০২২ । আপডেট ২৩:১০
প্রায় আড়াই বছর আগে করোনা ভাইরাস ছিল, সারা বিশ্বের জন্য এক আতঙ্কের নাম। করোনার প্রকোপ কমলেও বিশ্ববাসীকে একটি চ্যালেঞ্জের সামনে দাঁড় করিয়েছে। এই চ্যালেঞ্জের মধ্যেই প্রতিদিন, দিন পার করছে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ। বাংলাদেশেও এখন করোনার প্রকোপ অনেকটা কমে গেছে। মানুষের মধ্যে এখন আর করোনা নিয়ে তেমন ভয় নেই। তবে এখন সবার সামনে নতুন ভয়ের নাম ডেঙ্গু। যা গত কয়েক বছর ধরে আমাদের ভীষণভাবে ভোগাচ্ছে। তবে এবার অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ করে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। অবশ্য আমাদের দেশে ডেঙ্গু এখন আর কোনো নতুন রোগ নয়। পুরনো হয়ে গেছে। পুরনো হলেও ভয়টা নতুন।
ঢাকায় ডেঙ্গু বৃদ্ধির সবচেয়ে বড় দায় অবশ্য দুই সিটি করপোরেশনের। গত কয়েক বছর ধরে মশা নিধনের ক্ষেত্রে আহামরি কোনো সাফল্য দেখাতে পারেনি দুই সিটি করপোরেশন। তাই সিটি করপোরেশনকে এ বিষয়ে এখনই দ্রুত ও কার্যকরী ভূমিকা নিতে হবে। বিশেষ করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়া জরুরি হয়ে পড়েছে। কারণ এডিস মশার প্রজনন ক্ষেত্র তৈরি করতে দেওয়া যাবে না। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও জলাবদ্ধতা রোধ করতে হবে। শুধু সিটি করপোরেশন নয়, নাগরিক হিসেবে সবাইকে যার যার অবস্থান থেকে ভূমিকা নিতে হবে।
ডেঙ্গু জ্বর প্রতিরোধের মূলমন্ত্রই হলো- এডিস মশার বিস্তার রোধ। পাশাপাশি এ মশা যেন কামড়াতে না পারে তার যথাযথ ব্যবস্থা করতে হবে। আমাদের নাগরিক জীবনের অনেক সমস্যার মধ্যে মশার উপদ্রব একটি প্রধানতম সমস্যা। মশা একটি ছোট্ট কীট হলেও মশার কামড়ে মানুষের মৃত্যু পর্যন্ত হচ্ছে। এখানে মজার বিষয় হলো, মশা নির্মূলে প্রতি বছর ব্যাপক বাজেট হয়। আলোচনা-সমালোচনাও কম হয় না এ বিষয়ে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, কাজের কাজ তেমন কিছুই হয় না। শুধু রোগ বৃদ্ধির সঙ্গে আতঙ্কের পরিমাণও বাড়ে। এখন মশা নির্মূলে শুধু ওষুধ প্রয়োগ করলেই হবে না। পাশাপাশি সার্বিক পরিবেশগত ব্যবস্থাপনার উন্নতি ঘটাতে হবে। এছাড়া জনগণের দায়বদ্ধতা ও সচেতনতাও প্রয়োজন।
সিটি করপোরেশনের পক্ষে মশা নির্মূলের সবটুকু দায়িত্ব পালন করা হয়তো সম্ভব নয়। যতদিন আমাদের অপরিকল্পিত নগরায়ণ, নগরের নোংরা জলাধার ও বর্জ্য অব্যবস্থাপনা থাকবে ততদিন মশা কমবে না। তাই সহজ কথায় বলা যায়- মশা ছিল, মশা আছে, মশা থাকবে। তবে আমরা এমনটা চাই না। আমরা চাই, মশা একেবারে নির্মূল না হলেও কমে আসুক মশার উপদ্রপ। মশা আমাদের রক্ত খেয়ে বেঁচে থাকুক তা আমরা চাই না। নাগরিক হিসেবে আমাদের প্রত্যাশা যথাযথ কর্তৃপক্ষ পরিকল্পিত নগরায়ণ, নগরের জলাধার রক্ষা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জলাবদ্ধতা রোধ ও প্রকৃতি রক্ষার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেবে। এসব বিষয়ে বাড়তি গুরুত্ব দিয়ে পরিকল্পনা গ্রহণ করলে নিশ্চিতভাবে কমে আসবে মশার উপদ্রব। আর নাগরিকরা মশার যন্ত্রণা থেকে রক্ষা পেয়ে সুন্দর পরিবেশে বেঁচে থাকতে পারবে।
পরিবেশগত অব্যবস্থাপনার কারণে ডেঙ্গুর সম্মুখীন হচ্ছি আমরা। যদি পরিকল্পিত নগরায়ণ, নগরের জলাধার রক্ষা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জলাবদ্ধতা রোধ, প্রকৃতি রক্ষা, দূষণ রোধের বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেয়া যায় তবেই অনেকাংশে কমে যাবে এসব সমস্যা। সাহস নিয়ে মোকাবিলা করতে হবে ডেঙ্গুকে। সবার আগে ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশা নিধনের সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে। তবেই কমে আসবে মশার উপদ্রব।
লেখক: সাংবাদিক
ইউডি/আতা/সুপ্ত

