ফুটবল বিশ্বকাপের পর্দা উঠছে আজ : মরুর বুকে মহাযজ্ঞ
উত্তরদক্ষিণ । রবিবার, ২০ নভেম্বর ২০২২ । আপডেট ১১:৪৫
চার বছর পর আবারও শুরু হচ্ছে দ্য গ্রেটেস্ট শো অন দ্য আর্থ। প্রথমবারের মতো মধ্যপ্রাচ্যে তথা মরুর বুকে ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর বসছে। হাজারো বিতর্ক, জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ৩২টি দেশকে নিয়ে অনুষ্ঠিত এই মহাযজ্ঞ রূপ দিতে প্রস্তুত কাতার। বিশ্বকাপ ফুটবল ঘিরে বিশ্বজুড়েই চলছে উচ্ছ্বাস-উদ্দিপনা। আজ থেকে শুরু হওয়া আসরে মেসি, নেইমার, রোনালদো, এমবাপ্পেদের পায়ের জাদুতে বুঁদ হবে বিশ্ব। বিস্তারিত লিখেছেন আসাদুজ্জামান সুপ্ত
সমালোচনা ছাপিয়ে কাতারে ‘বিস্ময়’: আজ থেকে এক যুগ আগে ২০১০ সালে ২০২২ বিশ্বকাপ আয়োজক হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারের নাম ঘোষণা করেছিল বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। ওই সময় তৎকালীন ফিফা সভাপতি সেপ ব্লাটার কাতারের নাম ঘোষণা করতে গিয়ে বেশ গর্ববোধ করেই বলেছিলেন প্রথম কোন আরব দেশ হিসেবে কাতারের বিশ্বকাপ ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। দূর্নীতির দায়ে শেষ পর্যন্ত ফিফার সভাপতি পদে সবচেয়ে লম্বা সময় ধরে ক্ষমতা আকড়ে ধরে থাকা ব্লাটার তার পদ হারানোর পাশাপাশি ফুটবল থেকে আজীবন নিষিদ্ধ হয়েছিলেন। কিন্তু সেই দূর্নীতিগ্রস্থ ব্লাটারই কাতার বিশ্বকাপের প্রাক্কালে বলেছেন ওই সময় আয়োজক হিসেবে কাতারকে বেছে নেয়া সম্পূর্ণ ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। কিন্তু সব সমালোচনার জবাব হয়তো কখনো কখনো প্রমাণ করা যায়, কিছু আবার যায় না।

কাতারের মত তেল সমৃদ্ধ একটি ধনী দেশের জন্য বিশ্বকাপ আয়োজনে অর্থের কোন অভাব হয়নি। আজ স্বাগতিক কাতার ও ইকুয়েডর ম্যাচ দিয়ে পর্দা উঠবে ২২তম ফুটবল বিশ্বকাপের। এরপর কাতারের আট স্টেডিয়ামে একে একে মাঠে নামবে অংশগ্রহণকারী বাকি ৩০ দল। ধারণা করা হচ্ছে, এবারের বিশ্বকাপের দিকে চোখ থাকবে প্রায় ৫০০ কোটি মানুষের। যা পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি। আরববিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়ে কাতারের আমির তামিম বিন হামাদ আল থানি বলেছেন, করোনা মহামারির পর গোটা বিশ্বকে একত্র করার প্রথম বড় টুর্নামেন্ট হতে যাচ্ছে কাতার বিশ্বকাপ। আরববিশ্বের ব্যতিক্রমী এক বিশ্বকাপ আয়োজন করতে কাতার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়ে কাতারের রাজ পরিবারও উচ্ছ্বসিত।
শুরুতেই ফিক্সিংয়ের গুঞ্জন: অবকাঠামো-স্বল্পতা এবং শ্রম অধিকার লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগের পর এবার ম্যাচ ফিক্সিংয়ের মতো গুরুতর অভিযোগের তীর উঠলো কাতারের দিকে। কৌশলগত রাজনৈতিক বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ও বাহরাইনে অবস্থিত ব্রিটিনের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক আমজাদ সম্প্রতি তার ভেরিফাইড টুইটার অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, বিশ্বকাপে ম্যাচ জিততে ইকুয়েডরের আট খেলোয়াড়কে ৭.৮ মিলিয়ন ডলার (বাংলাদেশি টাকায় যা প্রায় ৭৬ কোটি) ঘুষ দিয়েছে কাতার। বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র দুই দিন আগে এসব অভিযোগ বিশ্ব ফুটবলে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।তিনি এক টুইট বার্তায় এই খবরটি প্রকাশ করেন। ইকুয়েডরের আটজন খেলোয়াড়কে দেওয়া হয়েছে ঘুষ। ম্যাচের ব্যবধান ১-০ হবে তেমনটাও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে সেই ম্যাচ নির্ধারণী গোলটি হবে কাতারের পক্ষে। তিনি আরও জানিয়েছেন, ইকুয়েডর ও কাতারের বিশ্বস্ত পাঁচটি সূত্র থেকে একই ধরণের তথ্য দেওয়া হয়েছে। তবে এসব বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা।
২৯ দিনের জন্য খরচ ২২০ বিলিয়ন : আয়োজক স্বত্ত্ব পাওয়ার পরই কাতার ঘোষণা দেয়, বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দেবেন তারা। কথা মতো কাজ তাদের। ১২ বছরের ব্যবধানে কাতারকে পাল্টে ফেলেছে আয়োজকরা। এজন্য খরচ করেছে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার। সংখ্যাটা কতো? এ নিয়ে আগ্রহের শেষ নেই।মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি এ যাবৎকালের সবচেয়ে ব্যয়বহুল টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে যাচ্ছে। গণমাধ্যমে এসেছে, কাতার বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য ২২০ বিলিয়ন ডলার খরচ করেছে। বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য কাতারের সবচেয়ে বেশি খরচ হয়েছে অবকাঠামো নির্মাণে। নতুন করে ছয়টি স্টেডিয়াম নির্মাণ করেছে আয়োজকরা। সংস্কার করেছে দুটি স্টেডিয়াম। খেলোয়াড়দের প্রস্তুতির জন্য বানাতে হয়েছে অনুশীলনের জায়গা। সেসব আধুনিকিকরণেও ব্যয় হয়েছে মোটা অঙ্কের টাকা।ফিফার কাছে যে পরিকল্পনা কাতার দিয়েছিল তাতে বলা হয়েছে শুধু ফুটবলের অবকাঠামো নির্মাণে ৪ বিলিয়ন ডলার খরচ করবে তারা। কিন্তু আদতে খরচ করেছে ৬.৫ বিলিয়ন থেকে ১০ বিলিয়ন ডলার। সব মিলিয়ে যে ২২০ বিলিয়ন ডলার খরচের কথা বলা হচ্ছে তা কতোটুকু সত্য তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে অনেকেই। তবে কাতার যে এরচেয়েও বেশি খরচ করতে পারে সেই ধারণা আছে সবারই। ধারণা করা হচ্ছে, শুধু টিকিট থেকেই ২০ বিলিয়ন ডলার আয় করবে আয়োজকরা।
‘হিট স্ট্রোকে’ ভোগার ঝুঁকি: সাধারণত জুন-জুলাইয়ে বিশ্বকাপের আসর বসলেও ব্যতিক্রম হচ্ছে এবার। কারণ আয়োজক দেশ কাতারে জুন-জুলাইয়ে তীব্র তাপপ্রবাহ থাকায় তখন বিশ্বকাপ আয়োজনের সুযোগ নেই। তবে বর্তমানে কাতারের তাপপ্রবাহ যে খুব একটা নিম্নমুখী তা বলা যাচ্ছে না। বছরের এই সময়ে অস্বাভাবিক গরম ও আর্দ্রতা থাকে দেশটিতে। এই গরমে অনুশীলন বা ম্যাচের সময় ‘হিট স্ট্রোকে’ ভোগার ঝুঁকিতে রয়েছেন ফুটবলাররা। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এমনটাই জানিয়েছেন পোর্টসমাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মানব ও ফলিত শরীরবিদ্যার অধ্যাপক মাইক টিপটন। টিপটনের মতে, অতিরিক্ত গরম শুধু শারীরিক নয় মানসিকভাবেও প্রভাব ফেলতে পারে ফুটবলারদের ওপর। তিনি বলেন, গরমের কারণে জ্ঞান হারিয়ে ফেলা থেকে শুরু করে হিট স্ট্রোকও হতে পারে, যা কিনা খুবই গুরুতর মেডিক্যাল কন্ডিশন। আরেকটা ব্যাপার হলো যখন শরীরের তাপমাত্রা গরম হয়ে যায়, তখন মানুষ বাজে সিদ্ধান্ত নিতে শুরু করে। সেই অবস্থায় কঠোর অনুশীলনের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন তারা, কিন্তু এতে করে বরং গরমের সমস্যাটাই আরও প্রকট হবে। তবে, বিশ্বকাপ শুরুর সময় অবশ্য তাপমাত্রা কিছুটা কমে আসবে। তাছাড়া ম্যাচের সময় কাতারের প্রতিটি স্টেডিয়ামই শীততাপ নিয়ন্ত্রিত থাকবে।

গাণিতিক গবেষণায় হাসবে ব্রাজিল: ব্রিটিশ স্পোর্টস অ্যানালিটিক্যাল কোম্পানি অপ্টা জানিয়েছিল এবার কাতার বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে ব্রাজিল। এবার একই ভবিষ্যদ্বাণী দিলো অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গাণিতিক গবেষণা। অক্সফোর্ডের গণিতজ্ঞ গবেষক জশুয়া বুলের একটি গাণিতিক গবেষণায় বলছে, ফাইনাল হবে ব্রাজিল-বেলজিয়ামের মধ্যে। আর তাতে ব্রাজিলের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সম্ভাবনা ৬১.৩ শতাংশ। বাকি ৩৮.৭ শতাংশ জয়ের সম্ভাবনা বেলজিয়ামের। ২০১৮ সাল থেকে প্রতিটি আন্তর্জাতিক ম্যাচের ভিত্তিতে এই ফল বের করে আনে গবেষকরা। গবেষণার ফলে দেখা যায়, ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা সেমিফাইনাল হবে। আর তাতে দুই দলেরই জয়ের সম্ভাবনা কাছাকাছি। ৫১.৬ শতাংশ ব্রাজিলের জয়ের সম্ভাবনা আর আর্জেন্টিনার ৪৮.৪ শতাংশ। আরেক সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে বেলজিয়াম-ফ্রান্স।
পোশাক নিয়ে বিধিনিষেধ, নিষিদ্ধ মদ্যপানও: একের পর এক বিতর্কের জন্ম দিচ্ছে ফিফা বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ কাতার। মানবাধিকার লঙ্ঘন, ভিন্ন মতাবলম্বীদের দমন, বিদেশি কর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারসহ বিভিন্ন ইস্যুতে বিতর্কের পর এবার যোগ হলো দর্শকদের পোশাক নিয়ে বিধিনিষেধ। নারী দর্শকদের পোশাকের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে দেশটির সরকার। খোলামেলা পোশাক পরলে তৎক্ষণাৎ শাস্তির আওতায় আনা হবে হবে জানানো হয়েছে আয়োজকদের পক্ষ থেকে। ব্রিটিশ দৈনিক ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বকাপ দেখতে আসা বিদেশি নারী সমর্থকদের খোলামেলা পোশাক পরতে বারণ করা হয়েছে। তাদের অবশ্যই কাঁধ ও হাঁটু ঢেকে রাখতে হবে।দর্শকরা নিজ ইচ্ছামতো পোশাক পরলেও সেটি খোলামেলা হওয়া যাবে না। স্টেডিয়ামে তো বটেই, অন্যান্য দর্শনীয় স্থান ও সরকারি দপ্তরে গেলেও শরীর ঢাকা পোশাক পরতে হবেএমনকি পোশাকের বিষয়ে নজরদারি করতে স্টেডিয়ামের ভেতর ক্যামেরাও বসানো হয়েছে। বিশ্বকাপের চিফ টেকনোলজি অফিসার নিয়াস আব্দুল রহিমান গণমাধ্যমকে বলেন, স্টেডিয়ামে আমরা অত্যাধুনিক ক্যামেরা বসিয়েছি। সেই ক্যামেরার সাহায্যে গ্যালারির প্রতিটি চেয়ারে ভালোভাবে নজরদারি করা সম্ভব। এদিকে, স্টেডিয়াম কিংবা তার আশে পাশে নিষিদ্ধ হয়েছে মদ্যপান ও বেচা-কেনা। ফিফা বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এর আগে স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণে কিছু নিয়ম কানুন মানা শর্তে অনুমতি ছিল। কিন্তু এবার আসলো নিষেধাজ্ঞার খড়গ। এদিকে বিশ্বকাপে ফিফার অন্যতম পৃষ্ঠপোষক একটি বিয়ার কোম্পানি। কাতারেরর এমন সিদ্ধান্তের ফলে বড় অঙ্কের ক্ষতির মুখে পড়তে হতে পারে ফিফাকে। প্রায় ৭৫ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি রয়েছে ফিফার। এখন সিদ্ধান্তের পর অবস্থা কি দাঁড়ায় সেটি দেখার বিষয়।

বাংলাদেশেও উন্মাদনা, আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল মাতামাতি: এদিকে, চিরাচরিতভাবেই ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে বাংলাদেশিদের মাঝে চলছে চরম উন্মাদনা। দেশে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল সমর্থকদের মধ্যে এ সময়টাতে তৈরি হয় অন্যরকম এক উত্তেজনা। আর এই উন্মাদনা ফুটবলকে ঘিরে। পুরো বাংলাদেশ যেন মেতে ওঠে ফুটবলের প্রেমে। কাতার বিশ্বকাপ নিয়েও বাংলাদেশিদের মধ্যে চলছে চরম উত্তেজনা। বাংলাদেশের ফুটবল সমর্থকদের আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল মাতামাতি নিয়ে আমেরিকার প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টে প্রকাশিত হয়েছে বিশেষ প্রতিবেদন। আর এতে তুলে ধরা হয়েছে, ব্রাজিল-আর্জন্টিনা নিয়ে বিশ্বের অষ্টম সর্বোচ্চ জনবহুল দেশ বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক, বিশাল বিশাল পতাকা টাঙানো, ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার পতাকার রঙে বাড়ির বারান্দা, সেতু রাঙানোর বিষয়ও।এদিকে, বিশ্বকাপের উন্মাদনা থেকে বাদ যায় রাজধানী ঢাকাও। এরই অংশ হিসেবে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, ইতালি, জার্মানিসহ ফুটবলের এ বিশ্ব আসরে অংশ নেওয়া বিভিন্ন দেশের সমর্থকদের অংশগ্রহণে আজ অনুষ্ঠিত হয়েছে বার্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। শনিবার (১৯ নভেম্বর) বিকেল ৩টায় মুগদা থেকে শুরু হয়ে কমলাপুর, মতিঝিল, পল্টন হয়ে প্রেস ক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয় শোভাযাত্রাটি।

এবার নতুনত্ব দেখবে বিশ্ব : বিশ্বকাপের প্রতিটি আসরেই দেখা মিলে কিছু নতুনত্ব, এবারও ব্যতিক্রম নয়। মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিশ্বকাপে দেখা যাবে নতুন যা কিছু। চার বছর পর পর সাধারণত জুন-জুলাই মাসে বিশ্বকাপ আয়োজন করে ফিফা। এই প্রথম শীত মৌসুমে হতে যাচ্ছে কোন বিশ্বকাপ। কাতারই মধ্যপ্রাচ্যের প্রথম কোন দেশ যারা আয়োজন করছে বিশ্বকাপ। এশিয়া মহাদেশে অবশ্য এই নিয়ে দ্বিতীয়বার আয়োজিত হয়েছিল বিশ্বকাপ। ২০০২ সালের আসর যৌথভাবে আয়োজন করে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এবারই প্রথম ৫ জন খেলোয়াড় বদল করার সুযোগ থাকছে। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের মধ্যে গত বিশ্বকাপ পর্যন্ত সর্বোচ্চ তিনজন খেলোয়াড় বদল করা যেত। এবারই প্রথম নারী রেফারিরা পুরুষ বিশ্বকাপের ম্যাচ পরিচালনার সুযোগ পাচ্ছেন। অফসাইড ধরতে এবারই প্রথম সেমি অটোমেটেড প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। বিশ্বকাপের বলগুলোর ভেতরে লাগানো থাকবে এক ধরনের সেন্সর। এরমধ্যে রেফারির খেলোয়াড়দের স্পর্শের সঙ্গে বিচার করে বলের পজিশন যাচাই করতে পারবেন। এই প্রথম বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো হবে সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত স্টেডিয়ামে।
ইউডি/সুপ্ত

