কেন ভোটের লড়াইয়ে মাহাথিরের পরাজয়?

কেন ভোটের লড়াইয়ে মাহাথিরের পরাজয়?

উত্তরদক্ষিণ । রবিবার, ২০ নভেম্বর ২০২২ । আপডেট ১৭:২৫


মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ শনিবারের সাধারণ নির্বাচনে তার সংসদীয় আসন হারিয়েছেন। এমন শোচনীয় পরাজয়ের ফলে এশিয়ার সবচেয়ে প্রভাবশালী এ রাজনীতিবিদের ক্যারিয়ার শেষ হওয়ার শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।

মাহাথির মালয়েশিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের একটি রিসোর্ট দ্বীপ ল্যাংকাউইতে পাঁচ প্রার্থীর ভোটের লড়াইয়ে চতুর্থ স্থান লাভ করে পরাজিত হয়েছেন। অথচ ২০১৮ সালের আগের ভোটে তিনি এখানে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতার সঙ্গে জিতেছিলেন। এমন পরাজয় শুধু তার রাজনৈতিক ক্যারিয়াকেই আঘাত করেনি, এটা তাকে অপমানও করেছে। কারণ, তিনি এ নির্বাচনে জামানত হারিয়েছেন।

এ বিষয়ে কুয়ালালামপুরের বাইরে থেকে আল জাজিরার প্রতিনিধি ফ্লোরেন্স লুই বলেছেন, এটা বড়ই বিস্ময়কর বিষয় যে মাহাথির শুধু নির্বাচনে হারেননি, তিনি বাজে হারের একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তিনি কেবল তার আসনটিই হারাননি, তিনি জামানতও হারিয়েছেন। কারণ, তিনি প্রদত্ত ভোটের অষ্টমাংশের বেশি পাননি। তার দল একটি আসনও জিততে পারেনি।’

কেন হারলেন মাহাথির?

মাহাথিরের এমন হারের বিষয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বিভিন্ন প্রসঙ্গ উল্রেখ করেছেন। তারা বলছেন, এর আগে মালয়েশিয়ার তৎকালীন ক্ষমাতাসীন জোট বারিসান ন্যাশনালের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে নির্বাচনে প্রচার চালান মাহাথির মোহাম্মদ। এরপর তিনি অবসর ভেঙে রাজনীতিতে আসেন এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনে জয় পান। এ নির্বাচনে পরাজিত হন দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত ক্ষমতাসীন বারিসান ন্যাশনালের নাজিব রাজাক। কিন্তু, এমন স্মরণীয় জয়ের পরেও মাহাথির মালয়েশিয়ার দুর্নীতি সামাল দিতে পারেননি।

এমনকি তিনি তার জোট পাকতান হারাপানের অন্য রাজনৈতিক নেতা আনোয়ার ইব্রাহিমের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করেন। তিনি ওয়াদা ভঙ্গ করে নিজের ক্ষমতা ধরে রাখেন। অথচ, তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে দু’বছর সরকার প্রধানের দায়িত্ব পালন করে তিনি আনোয়ার ইব্রাহিমের হাতে ক্ষমতা তুলে দিবেন। এমন ওয়াদা ভঙ্গ করার কারণে তিনি কুখ্যাতি লাভ করেন। এরপরই মাহাথির এবং তার দলের জনপ্রিয়তা কমতে থাকে।

মাহাথিরের পরাজয়ের অন্যতম কারণ হচ্ছে প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক নেতাদের কৌশল ও রাজনৈতিক অবস্থান। এ নির্বাচনে দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী মুহিউদ্দিন ইয়াসিনের নেতৃত্বাধীন জোট পেরিকাতান শক্ত অবস্থানে ছিলো। এছাড়া মাহাথিরের প্রতিদ্বন্দ্বী ও অন্যতম প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা আনোয়ার ইব্রাহিমের দল পাকাতান হারাপান মালয়েশিয়ার রাজীতিতে একটি শক্তিশালী বলয় সৃষ্টি করেছেন।

অনেকে মনে করেন বয়স বেশি হওয়ার কারণে নতুন প্রজন্মের নিকট তার গ্রহণযোগ্যতা কম ছিলো। এছাড়া জাতীয় রাজনীতিতে তার প্রভাব ক্রমশ কমছিল।

এর আগে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মাহাথির জানান, ‘হেরে গেলে তিনি রাজনীতি থেকে অবসর নেবেন।’ রাজনীতির প্রতি তার এমন অনাস্থার কারণে তরুণ প্রজন্মসহ কেউ নির্বাচনে মাহাথিরকে বিশ্বাস করতে পারেননি। এ কারণে তিনি নিজ আসনেও শোচনীয় পরাজয়ের মুখোমুখি হন।

সূত্র : আল-জাজিরা

ইউডি/আতা

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading