লড়াকু মানিক

লড়াকু মানিক
‘আমি এইচএসসি পরীক্ষায় ভালো ফল করে বুয়েটে ভর্তি হতে চাই এবং ভবিষ্যতে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার হয়ে বাবা-মায়ের স্বপ্ন পূরণ করতে চাই।’

উত্তরদক্ষিণ । সোমবার , ২৮ নভেম্বর ২০২২ । আপডেট ১৫:৪০

মানিক রহমান। জন্ম থেকেই দুই হাত নেই। দুই পা থাকলেও একটি লম্বা, অন্যটি খাটো। তবু অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোরে সে পা দিয়ে লিখে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে।

ফলাফল গোল্ডেন জিপিএ ৫। এভাবেই বাবা-মা ও শিক্ষক-শিক্ষিকাসহ উপজেলাবাসীর মুখ উজ্জ্বল করেছে শিক্ষার্থী মানিক রহমান।

মেধাবী মানিক এ বছর ফুলবাড়ী জছিমিঞা মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। পা দিয়ে লিখেও তার লেখা খুব সুন্দর। পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হওয়ার পর মানিকের গোল্ডেন জিপিএ ৫ পাওয়ার খবরে সবাই মুগ্ধ।

মানিক রহমানের বাড়ি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার সদর ইউনিয়নের চন্দ্রখানা গ্রামে। সে ওষুধ ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান ও প্রভাষক মরিয়ম বেগমের ছেলে। বাবা-মায়ের অক্লান্ত পরিশ্রমে মানিক রহমান কখনো পড়াশোনা থেকে পিছিয়ে পড়েনি। পা দিয়ে শুধু লেখাই নয়, মোবাইল ফোন ব্যবহার, কম্পিউটারে টাইপ করা ও ইন্টারনেট ব্যবহারেও পারদর্শী সে। মানিকের স্বপ্ন, ভবিষ্যতে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার হয়ে বাবা-মায়ের স্বপ্ন পূরণ করবে।

মানিকের বাবা জানান, মানিক লড়াকু সৈনিক। ২০১৬ সালে জছিমিঞা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পিএসসিতে গোল্ডেন এ প্লাস এবং ২০১৯ সালে ফুলবাড়ী জছিমিঞা মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জেএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে।

মানিকের মা মরিয়ম বেগম বলেন, ‘আমার দুই ছেলে। মানিক বড়। ছোট ছেলে মাহীম ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। বড় ছেলে মানিক প্রতিবন্ধী, এটা আমরা মনে করি না। জন্ম থেকেই তার দুটো হাত না থাকলেও ছোট থেকে আমরা তাকে পা দিয়ে লেখার অভ্যাস করিয়েছি। মানিক পিএসসি ও জেএসসিতে ভালো রেজাল্ট করেছে। এটা আমাদের গর্ব। সবাই আমার ছেলেটার জন্য দোয়া করবেন সে যেন সুস্থ সুন্দরভাবে বেঁচে থাকতে পারে এবং তার স্বপ্নগুলো বাস্তবায়ন করতে পারে। ’

মানিক রহমান বলে, ‘আমার দুটো হাত না থাকলেও আল্লাহ রহমতে এসএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ ৫ পেয়েছি। আমি এর আগে জেএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন এ প্লাস পাই। ’ সে আরো বলে, ‘আমি এইচএসসি পরীক্ষায় ভালো ফল করে বুয়েটে ভর্তি হতে চাই এবং ভবিষ্যতে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার হয়ে বাবা-মায়ের স্বপ্ন পূরণ করতে চাই। ’

ফুলবাড়ী জছিমিঞা মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবেদ আলী খন্দকার বলেন, ‘শারীরিক প্রতিবন্ধী হয়েও মানিক রহমান ভালো ফলাফল করায় আমরা মুগ্ধ। সে জীবনে অনেক বড় হোক―এই দোয়া করি। ’

ইউডি/এআই

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading