ইন্ডিয়া-চীন সম্পর্কে হস্তক্ষেপ: আমেরিকান কর্তাদের সতর্ক করল বেইজিং
পেন্টাগন বলেছে, পুরো ২০২১ সালজুড়ে চীন-ইন্ডিয়া সীমান্তের একটি অংশে চীন সেনা মোতায়েন করে রেখেছে এবং প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর ধারাবাহিকভাবে অবকাঠামো নির্মাণ করে গেছে। দুই পক্ষই কোনো ছাড় না দেওয়ায় তাদের মধ্যকার আলোচনাও ফলপ্রসূ হয়নি।
উত্তরদক্ষিণ । বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২ । আপডেট ১২:৩২
ইন্ডিয়ার সঙ্গে চীনের যে সম্পর্ক, তাতে হস্তক্ষেপের ব্যাপারে আমেরিকান কর্মকর্তাদের সতর্ক করেছে বেইজিং। আমেরিকার কংগ্রেসে উত্থাপিত এক প্রতিবেদনে এমনটাই জানিয়েছে পেন্টাগন।
গত মঙ্গলবার পেন্টাগনের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, যদিও ইন্ডিয়া-চীন সীমান্তের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল) বরাবর দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক অচলাবস্থায় রয়েছে। চীন এই তীব্র সংকট কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। সীমান্তে স্থিতিশীল অবস্থা ধরে রাখতে চাইছে বেইজিং এবং ইন্ডিয়ার সঙ্গে অন্যান্য দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক যেন ওই অচলাবস্থা ক্ষতি না করতে পারে, সে চেষ্টা জোরদার করেছে। খবর এনডিটিভির।
চীনের সামরিক শক্তি বৃদ্ধি সংক্রান্ত পেন্টাগনের ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পিআরসি (পিপলস রিপাবলিক অব চায়না) সীমান্তে উত্তেজনা রোধ করে ইন্ডিয়ার সঙ্গে আমেরিকার আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার সুযোগ ঠেকাতে চায়। তাই ইন্ডিয়া-চীন সম্পর্কে হস্তক্ষেপের ব্যাপারে আমেরিকান কর্মকর্তাদের সতর্ক করেছে বেইজিং।
পেন্টাগন বলেছে, পুরো ২০২১ সালজুড়ে চীন-ইন্ডিয়া সীমান্তের একটি অংশে চীন সেনা মোতায়েন করে রেখেছে এবং প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর ধারাবাহিকভাবে অবকাঠামো নির্মাণ করে গেছে। দুই পক্ষই কোনো ছাড় না দেওয়ায় তাদের মধ্যকার আলোচনাও ফলপ্রসূ হয়নি।
২০২০ সালের মে মাসের শুরুতে ইন্ডিয়া ও চীনের বাহিনী প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার বিভিন্ন জায়গায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এর ফলে সীমান্তে দুই দেশের সম্পর্কের অবনতি হয় এবং উভয় দেশ সীমান্তে সেনা জড়ো করে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দুই দেশই একে অপরকে সেনা প্রত্যাহারের কথা বলে এবং অচলাবস্থা কাটিয়ে আগের শান্তিপূর্ণ অবস্থায় ফিরে যাওয়ার কথা বলে। তবে কোনো দেশই এই ব্যাপারে সম্মত হয়নি। বরং এই অচলাবস্থার জন্য ইন্ডিয়ার অবকাঠামো নির্মাণকে দায়ী করছে চীন। দেশটি বলছে, এটা তাদের ভূখণ্ডে অনুপ্রবেশ। অন্যদিকে ইন্ডিয়া বলছে, চীন তাদের ভূখণ্ডে আক্রমণাত্মক অনুপ্রবেশ করছে।
২০২০ সালের ওই সংঘর্ষের পর থেকে চীন প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর সতর্ক অবস্থায় রয়েছে এবং অবকাঠামো নির্মাণ অব্যাহত রেখেছে।
ইউডি/এআই

