চট্টগ্রামে স্টার সিনেপ্লেক্সের যাত্রা শুরু
উত্তরদক্ষিণ । শনিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২২ । আপডেট ১৩:০১
‘ভালো পরিবেশে বিনোদনের সুযোগ করে দেওয়ার’ প্রতিশ্রুতি নিয়ে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে যাত্রা শুরু করেছে স্টার সিনেপ্লেক্স।
শুক্রবার (২ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় নগরীর চকবাজার এলাকার বালি আর্কেড শপিং কমপ্লেক্সে স্টার সিনেপ্লেক্সের উদ্বোধন হয়। সরকারের মন্ত্রী ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের পাশাপাশি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢালিউডের শরীফুল রাজ ও পরীমনি দম্পতি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আমাদের শৈশবে চট্টগ্রামে সিনেমা হল ছিল। তখন আমার অভ্যেস ছিল সিনেমা দেখার। এ সিনেপ্লেক্সের মাধ্যমে চট্টগ্রামবাসীর কাছে আবার সিনেমা দেখার সুযোগ এল।
‘প্রধানমন্ত্রী দেশে অনেক স্ক্রিন করার জন্য অনুদানও দিয়েছেন। তরুণরা যেন বিপথগামী না হয়, সুন্দর পরিবেশে এই সিনেপ্লেক্সটি করায় উদ্যোক্তাদের ধন্যবাদ’, বলেন তিনি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আমাদের নিজের শহরে স্টার সিনেপ্লেক্সের শাখা উদ্বোধন করায় মাহবুব রহমান রুহেলকে ধন্যবাদ। বাংলা সিনেমা অনেক চড়াই উৎরাই পেরিয়েছে। আমরাও অনেক চড়াই উৎড়াই পেরিয়েছি। আমাদের সিনেমা শিল্প ঘুরে দাঁড়িয়েছে। কলকাতায় হাওয়া ছবি দেখতে সকাল ৯টা থেকে এক কিলোমিটার দীর্ঘ লাইন দিয়েছে। চট্টগ্রাম শহরে ৩০টা সিনেমা হল ছিল। গত এক বছরে দেশে বন্ধ হওয়া দুইশ সিনেমা হল চালু হয়েছে। স্টার সিনেপ্লেক্সসহ নতুন সিনেপ্লেক্স হচ্ছে।’
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে উদ্যোক্তা মাহবুব রহমান রুহেল বলেন, ‘আমরা সবচেয়ে বড় ধাক্কা পেয়েছি মহামারীর সময়ে। বসুন্ধরারটা প্রায় বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল। তারপরও আমি ধরে রেখেছি। বিশ্বাস ছিল যে মানুষ ফিরে আসবে, হলে ছবি দেখবে। এটা সত্য প্রমাণিত হয়েছে।’

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্প ঘুরে দাঁড়িয়েছে মন্তব্য করে রুহেল বলেন, ‘পরান ও হাওয়ার মতো ছবি হয়েছে। আশা করি আরও ভালো ছবি হবে। মানুষ ভালো সিনেমা উপভোগ করতে পারবে। চট্টগ্রামের পর আমরা রাজশাহী, খুলনা ও কুমিল্লাতে সিনেপ্লেক্স করার কাজ এগিয়ে নিচ্ছি।’
নান্দনিক পরিবেশ, সর্বাধুনিক প্রযুক্তিসম্বলিত সাউন্ড সিস্টেম, জায়ান্ট স্ক্রিনসহ বিশ্বমানের সিনেমা হলের যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা নিয়েই সিনেপ্লেক্সগুলো নির্মিত হচ্ছে বলে জানান তিনি।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে চিত্রনায়িকা পরীমনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ সিনেমা দেখতে চায়। তবে কষ্ট করে নয়। বিনোদনটা মানুষ একটু আরামের সঙ্গেই করতে চায়। তাই সিনেপ্লেক্সেই ছবি দেখুক। আশা করি এ যাত্রা সফল হবে। আমিও সিনেপ্লেক্সে ছবি দেখতে পছন্দ করি।’

শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, সংরক্ষিত নারী আসনের সাংসদ ওয়াসিকা আয়েশা খান ও খাদিজাতুল আনোয়ার সনি, জাতীয় পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান ও বালি আর্কেডের পরিচালক সোলায়মান আলম শেঠ, প্রধান নির্বাহী আফতাব আলম শেঠ উপস্থিত ছিলেন অনুষ্ঠানে।
চট্টগ্রাম শহরের চকবাজার এলাকায় (নবাব সিরাজ উদ্দিন রোড) বালি আর্কেড শপিং কমপ্লেক্সে অবস্থিত সুপরিসর এ মাল্টিপ্লেক্সে তিনটি হল রয়েছে। হল-১, হল-২ ও হল-৩-এ আসনসংখ্যা যথাক্রমে ৮৬, ১৯৬ ও ১২৫।
সিনেপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ জানায়, নান্দনিক পরিবেশ, সর্বাধুনিক প্রযুক্তিসংবলিত সাউন্ড সিস্টেম, জায়ান্ট স্ক্রিনসহ বিশ্বমানের সিনেমা হলের যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা নিয়ে প্রেক্ষাগৃহগুলো নির্মিত হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর তিনটি হলে ‘মেইড ইন চিটাগং’, ‘ব্ল্যাক প্যান্থার’ ও ‘ন ডরাই’ প্রদর্শন করা হয়।
ইউডি/এআই

