চট্টগ্রামের জনসভায় প্রধানমন্ত্রী: বিএনপির দুই গুণ – ভোট চুরি-মানুষ খুন
উত্তরদক্ষিণ । সোমবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২২ । আপডেট ১১:৩০
বিএনপি-জামায়াতকে ‘খুনির দল’ আখ্যায়িত করে তারা যেন আর ক্ষমতায় আসতে না পারে, সেজন্য দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপির দুই গুণ – ভোট চুরি আর মানুষ খুন। রবিবার (০৪ ডিসেম্বর) নগরীর পলোগ্রাউন্ড মাঠে চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় তিনি এ আহ্বান জানান। বিস্তারিত লিখেছেন আসাদ এফ রহমান
মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে দেব না: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এই বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে আর ছিনিমিনি খেলতে আমরা দেব না। কারণ ওই জামাত-বিএনপি খুনির দল, যুদ্ধাপরাধীর দল, জাতির পিতার হত্যাকারীদের মদদদানকারীর দল। এমনকি আমাকেও তো বারবার হত্যার চেষ্টা করেছে। কাজেই এরা যেন বাংলাদেশের মানুষের রক্ত চুষে খেতে না পারে, আর যেন তারা এদেশে আসতে না পারে। তিনি বলেন, আপনাদের সহযোগিতা চাই যে- এই বাংলার মাটিতে আবার যেন ওই যুদ্ধাপরাধী, খুনির দল ক্ষমতায় এসে বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য নিতে ছিনিমিনি খেলতে না পারে। তার জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। তিনি বলেন, আজকে বাবা, মা, ভাই সব হারিয়ে ফিরে এসেছি বাংলার মানুষের জন্য। কেন? এই দেশের মানুষ দুবেলা পেট ভরে ভাত খাবে, তাদের বাসস্থান হবে, চিকিৎসা হবে, শিক্ষা হবে, উন্নত জীবন পাবে, সেজন্য। বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জনকারী দেশ; সেই বিজয়ী জাতি হিসেবে বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে চলব- আমরা যেন সেইভাবে বাংলাদেশকে গড়তে পারি।
বাংলাদেশকে বাঁচাতে নৌকায় ভোট দিন: খুনি ও যুদ্ধাপরাধীদের রোষানল থেকে দেশ ও জনগণকে বাঁচাতে তাঁর দলের নির্বাচনী প্রতীক নৌকায় ভোট চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আমরা আপনাদের দোয়া, সহযোগিতা ও ভোট চাই। তিনি বলেন, অতীতের মতো আগামী নির্বাচনেও নৌকায় ভোট দেবেন এবং আমাদের সেবা করার সুযোগ দেবেন। হাত তুলে বলুন, আপনি নৌকায় ভোট দেবেন। এ সময় জনগণ দুই হাত তুলে তাদের সম্মতি জানায়। মানুষকে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মানুষের সর্বনাশ করা এটাই কি বিএনপির জামাত শিবিরের কাজ। নাকি তাদের সাথে চোরের সখ্যতা আছে, চোরকে চুরি করার সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে সে প্রশ্নও তোলেন তিনি। ব্যাংকে টাকা নেই বলে গুজব ছড়ানো হচ্ছে, সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে অপপ্রচার চলছে অভিযোগ করে সরকার প্রধান গুজবে কান না দিয়ে সকলকে বাস্তবতা বিচার করে তারপর সিদ্ধান্ত নেয়ার আহ্বান জানান।
জনগণের তোয়াক্কা করে না বিএনপি: শেখ হাসিনা বলেন, ওরা (বিএনপি) জানে নির্বাচন হলে জনগণ তাদের ভোট দেবে না। তাই, তারা নির্বাচন চায় না, তারা চায় সরকার উৎখাত করে এমন কেউ আসুক, যারা একেবারে নাগরদোলায় করে ক্ষমতায় বসিয়ে দিবে। এটাই তারা আশা করে, তারা জনগণের তোয়াক্কা করে না। বিএনপির আন্দোলনের সমালোচনা করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, তাদের আন্দোলন হচ্ছে মানুষ খুন করা। বিএনপি’র দুইটা গুণ আছে, ভোট চুরি আর মানুষ খুন, ওইটা পারে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলতে হয়, সেই ১০ ডিসেম্বর বিএনপির খুব প্রিয় একটা তারিখ। বোধ হয় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর পদলেহনের দোসর ছিল বলেই ১০ ডিসেম্বর তারা ঢাকা শহর নাকি দখল করবে।

৪ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন,২৯ প্রকল্পের উদ্বোধন: চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড জনসভার মাঠ থেকে ২৯টি প্রকল্পের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে তিনি নতুন করে ৪টি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তরও স্থাপন করেন। প্রকল্প সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে উদ্বোধন হওয়া প্রকল্পগুলো হল-জেলার ফটিকছড়ি ও হাটহাজারী উপজেলায় হালদা নদী ও ধুরং খালের তীর সংরক্ষণ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প, স›দ্বীপ উপজেলার ৭২ নং পোল্ডারের ভাঙন প্রবণ এলাকায় স্লোপ প্রতিরক্ষা কাজের মাধ্যমে পূনর্বাসন (১ম সংশোধিত) প্রকল্প ও বাঁশখালী উপজেলার ৬৪/১এ, ৬৪/১বি এবং ৬৪/১সি পোল্ডারের সমন্বয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অংশের স্থায়ী পুনর্বাসন প্রকল্প (২য় সংশোধিত)। কারিগরী ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের অধীনে সীতাকুন্ড টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ, ফটিকছড়ি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ এবং রাউজান টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ উদ্বোধন করা হয়। এসব প্রকল্পের বাইরে আরও চারটি প্রকল্পের ভিত্তি স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেগুলো হচ্ছে- নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীনে চট্টগ্রামের মিরসরাই ও স›দ্বীপ অংশে জেটিসহ আনুষাঙ্গিক স্থাপনাদি নির্মাণ, আনোয়ারায় বাংলাদেশ মেরিন একাডেমির আধুনিকরণ, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনে পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকায় আধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্পন্ন জাতিসংঘ সবুজ উদ্যান স্থাপন এবং বিদ্যুৎ বিভাগের অধীনে চট্টগ্রামস্থ বিপিসি ভবন নির্মাণ কাজের।
ইউডি/এজেএস

