মেসির জন্য ‘পাগল’ ভক্তের কাণ্ড
অনেক ইচ্ছা ছিল এবার কাতারে গিয়ে খেলা দেখব। সম্ভবত এটাই শেষ বিশ্বকাপ মেসির। এ কারণে নিজ চোখে সরাসরি তার খেলা দেখার আশায় ছিলাম। শেষ পর্যন্ত যাওয়া হচ্ছে না। চা বিক্রির টাকায় শুধু ম্যাচ দেখা নয়, যাওয়া-আসা ও থাকা-খাওয়ার খরচ হবে না। এ কারণে সিদ্ধান্ত নেই, জমানো অর্থে মেসির মূর্তি বানাব। যেমন ভাবা তেমন কাজ।
উত্তরদক্ষিণ । বুধবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২২ । আপডেট ১৫:১০
বিশ্বকাপ ফুটবল আসরে প্রিয় দল নিয়ে উন্মাদনা দেখা যায় সমর্থকদের মাঝে। পছন্দের দলের ব্যাজ, ক্যাপ, পলো শার্ট নিয়ে থাকেন পরিধানের জন্য। আবার কেউ কেউ পাতাকাও টানান বাড়ির উঠানে। কেউ কেউ তো দীর্ঘদিনের জমানো অর্থ দিয়ে বড় আকৃতিরও পতাকা তৈরি করেন। যা সংবাদমাধ্যমে চোখ রাখলেই দেখা যায়। এবার পছন্দের দলের প্রিয় খেলোয়াড়ের মূর্তি তৈরি করলেন এক চা-বিক্রেতা ভক্ত।
১৯৮৬ সালে যেদিন ফুটবল রাজপুত্র ডিয়াগো ম্যারাডোনার হাতে বিশ্বকাপ ওঠে, সেদিন থেকে আর্জেন্টিনার ভক্ত তিনি। নীল-সাদা জার্সি যেন জীবনের অঙ্গ হয়ে গেছে তার। পেশায় চা-বিক্রেতা হলেও ধ্যান-জ্ঞান সবই ‘ভামোস আর্জেন্টিনা’।
ইন্ডিয়ান সংবাদমাধ্যম ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাতার বিশ্বকাপ ফুটবল আসর শুরু হওয়ার পর থেকেই সবার চোখ ধাঁধিয়ে দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের ইছাপুর নবাবগঞ্জের শিবশঙ্কর পাত্র। আর্জেন্টাইন খেলোয়াড় লিওনেল মেসির মূর্তি বানিয়েছেন তিনি।
শিবশঙ্কর ভক্ত নীল-সাদা পতাকা ও ফেস্টুনে সাজিয়ে তুলেছেন পুরো এলাকা। আর প্রিয় খেলোয়াড়ের মূতি তৈরি করে ঈশ্বরের প্রতি ভক্তি দেখিয়েছেন তিনি।

এই ভক্ত জানিয়েছেন তার ইচ্ছা ছিল কাতারে গিয়ে সরাসরি বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখবেন। এ জন্য গত কয়েক বছর ধরে টাকা সঞ্চয় করছিলেন। চা-বিক্রির পাশাপাশি সমাজসেবাও করে থাকেন তিনি। এতেও খরচ হয় তার। আবার আর্জেন্টিনা ফ্যানস ক্লাবও তৈরি করেছেন।
এবারের আসরে সরাসরি মেসির খেলা দেখার ইচ্ছা শেষ পর্যন্ত সম্ভব হয়নি তার। কাতারে খেলা দেখার জন্য যেতে না পারার আক্ষেপ থেকে বড় উদ্যোগ নিয়ে মেসির ফাইবারের মূর্তি তৈরি করেন।
শিবশঙ্কর ৫০ হাজার রুপি খরচ করে দত্তপুকুরের এক শিল্পীকে দিয়ে মেসির ৫ ফুট ৭ ইঞ্চির মূতি তৈরি করেছেন। ৪ ডিসেম্বর বেশ আয়োজন করে উন্মোচন করা হয় মূর্তি।

মূর্তি উন্মোচনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইন্ডিয়ান দলের সাবেক গোলকিপার সংগ্রাম মুখার্জি এবং সংগীতশিল্পী রাতুল পর্বতসহ অনেকে। এ সময় এলাকায় খুশির আমেজ বয়ে যায়।
শিবঙ্কর বলেছেন, অনেক ইচ্ছা ছিল এবার কাতারে গিয়ে খেলা দেখব। সম্ভবত এটাই শেষ বিশ্বকাপ মেসির। এ কারণে নিজ চোখে সরাসরি তার খেলা দেখার আশায় ছিলাম। শেষ পর্যন্ত যাওয়া হচ্ছে না। চা বিক্রির টাকায় শুধু ম্যাচ দেখা নয়, যাওয়া-আসা ও থাকা-খাওয়ার খরচ হবে না। এ কারণে সিদ্ধান্ত নেই, জমানো অর্থে মেসির মূর্তি বানাব। যেমন ভাবা তেমন কাজ।
শিবঙ্করের গড়া মেসির মূর্তিতে সরগরম তার এলাকা। বিশ্বকাপ ফুটবল জ্বরে যখন পুরো বিশ্ব কাঁপছে, তখন মেসির মূর্তি বাড়তি উন্মাদনা জাগিয়েছে চা-বিক্রেতার এলাকায়।
ইউডি/এ

