প্রধানমন্ত্রীর কঠোর বার্তা: লন্ডনে পালিয়ে থাকা তারেককে এনে সাজা বাস্তবায়ন করবো
উত্তরদক্ষিণ । শুক্রবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২২ । আপডেট ১২:০৫
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কঠোর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার (০৮ ডিসেম্বর) পৃথক পৃথক অনুষ্ঠানে দেয়া প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য নিয়ে মিলন গাজীর প্রতিবেদন।
আমেরিকা কানাডা পাকিস্তান খুনি পালতেছে: চার মামলায় সাজার রায় মাথায় নিয়ে ‘পালিয়ে থাকা’ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে এনে সাজা বাস্তবায়ন করার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের এক সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুচলেকা দিয়ে গেছিল সাজাপ্রাপ্ত আসামি। আমি ব্রিটিশ সরকারের সাথে যোগাযোগ করব, তারেক জিয়াকে বাংলাদেশে ধরে এনে সাজা বাস্তবায়ন করব। আমেরিকা… তারা খুনি পালতেছে একটা, আবার কানাডা পালে আরেকটা, পাকিস্তানে আছে দুইটা। সবার কাছে বলব- এই খুনিদের ফেরত পাঠাতে হবে। আর ব্রিটিশ সরকারকে বলব তারেক জিয়াকে দেশে ফেরত পাঠাতে। কারণ সে সাজাপ্রাপ্ত আসামি। তারা (বহির্বিশ্ব) মানবতার কথা বলে, দুর্নীতির কথা বলে, আবার সেই খুনিকে, দুর্নীতিবাজকে তাদের দেশে আশ্রয় দেয়। কাজেই তাকে বাংলাদেশের কাছে হ্যান্ডওভার করতে হবে। এই দেশে নিয়ে এসে সাজা আমি বাস্তবায়ন করব। বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সম্পাদকমøলীর এই সভায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত ছিলেন দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, যেসব দেশ আমাদের দেশের গণতন্ত্রের কথা বলে, তাদের দেশের অবস্থাতো আমরা জানি। প্রতিদিন মানুষ খুন হয়, ভোটের সময় ভোট চুরি হয়েছে বলে তাদের ক্যাপিটলেও আক্রমণ হয়, পাঁচ-ছয় জন গুলি করে মারে, আর তাদের কাছ থেকে আমার গণতন্ত্রের ছবক নিতে হবে! আমরা বাংলাদেশ, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত থাকবে।

মানুষ যেন শান্তিতে বাস করতে পারে: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা সব সময় শান্তি চাই। আমরা শান্তিতে বিশ্বাস করি। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত দ্বিবার্ষিক এশীয় চারুকলা প্রদর্শনীতে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রদশর্নী উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, যে কোন অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে যখন আমাদের দেশের মানুষ সংগ্রাম করেছে সেই প্রতিবাদের ভাষাও আরো সমৃদ্ধি লাভ করেছে। মানুষের চেতনাকে শাণিত করেছে শিল্পীর তুলির আঁচড়। সরকার প্রধান বলেন, পৃথিবীর মানুষ যেন শান্তিতে বাস করতে পারে এবং মানুষের জীবন মান যাতে উন্নত হয় সেটাই আমরা চাই। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সব সময় শান্তি চাই। আমরা শান্তিতে বিশ্বাস করি। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো একদিকে করোনা মহামারি আরেক দিকে হচ্ছে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। যে যুদ্ধ আসলে সারা বিশ্বের মানুষকে কষ্ট দিচ্ছে। সেখানেও আমি জানি কবি, শিল্পী, সাহিত্যিক-তারাও মানুষের এই ধরনের কষ্ট, মানুষের দুঃখ, যন্ত্রনা এবং যুদ্ধের যে ভয়াবহতা সেটাও শিল্পীর আচড়ে উঠে আসবে, যাতে এই ধরনের যুদ্ধ যেন আর না হয়। শেখ হাসিনা বলেন, আমি মনে করি এটা আমাদের শিল্পীদের জ্ঞানকে আরো সমৃদ্ধশালী করবে। আরো নতুন নতুন চিন্তা চেতনার ধারা নিয়ে আসবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা শিল্পীরা বাংলাদেশে আসায় তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা কষ্ট করে আমাদের এই সুজলা, সুফলা সুন্দর বাংলাদেশে এসেছেন। আমার দৃঢ় বিশ্বাস যে, আপনারা এখানে আসার ফলে এই যে বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন ধরনের যে সংস্কৃতি বা চিত্রকর্ম অথবা তাদের মানসিক বিকাশের যে সুযোগ, আমাদের দেশের মানুষও এটা থেকে অনেক জ্ঞান আহরণ করতে পারবে।
অগ্নিসন্ত্রাসিদের আর ক্ষমতায় আসতে দেয়া হবে না : প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দুর্নীতিবাজ, স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি ও অগ্নিসংযোগকারী সন্ত্রাসীরা যাতে ক্ষমতায় আসতে না পারে সেজন্য জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, অগ্নি সন্ত্রাসীদের আর ক্ষমতায় আসতে দেয়া যাবে না। প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের যৌথ সভায় ভার্চুয়ালি যোগ দিয়ে দেশে যাতে আর কেউ কোনো নৈরাজ্য ঘটাতে না পারে পারে সেজন্য দলের নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপির মুখে গণতন্ত্র মানায় না। জিয়াউর রহমান কারফিউতন্ত্র দিয়ে গেছে। আর খালেদা দিয়েছে দুর্নীতিতন্ত্র। বিএনপির দুই গুণ, দুর্নীতি আর মানুষ খুন। তিনি বলেন, আমাদের নেতাকর্মীদের প্রতিটি এলাকায় প্রস্তুত থাকতে হবে যাতে তারা (বিএনপি-জামায়াত) আবার নিপীড়নের পথ অবলম্বন করতে না পারে। হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, সকলের মনে রাখতে হবে আওয়ামী লীগ কারও পকেট থেকে আসে নাই বরং জাতির পিতার দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় এর অস্তিত্ব গভীরে প্রোথিত। তিনি বলেন, বিএনপি উর্দ্দি পরা সামরিক স্বৈরশাসক জিয়াউর রহমানের পকেট থেকে এসেছে। সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়ে বলেন, সবাই প্রস্তুত থাকবেন।
ইউডি/এজেএস

