গ্যাস সংকট কাটাতে মূল্যসীমা নির্ধারণের পথে ইইউ
উত্তরদক্ষিণ । মঙ্গলবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২২ । আপডেট ১৯:১০
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) জুড়ে দেখা দিয়েছে তীব্র জ্বালানি সংকট। ইইউভুক্ত দেশগুলোতে সমস্ত গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করেছে রাশিয়া। ফলে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ ঘাটতি থাকায় ইইউভুক্ত দেশগুলোতে বেড়েই চলেছে গ্যাসের দাম। বাড়তি জ্বালানি ব্যয় মেটাতে নাজেহাল সাধারণ মানুষ। এমন পরিস্থিতিতে গ্যাসের দামের সর্বোচ্চ মূল্যসীমা নির্ধারণের চেষ্টা করছে ইইউ।
গ্যাসের দাম প্রতি মেগাওয়াট-ঘণ্টায় ২৭৫ ইউরোর নিচে রাখার প্রস্তাবনার কথা ভাবছে সংস্থাটি। তবে গ্রিস এবং ইতালিসহ এক ডজনেরও বেশি দেশ আরও কম মূল্যসীমা চেয়েছে। বেলজিয়াম, পোল্যান্ড ও ইতালিসহ বেশকিছু দেশ গ্যাসের দাম বেঁধে দেওয়ার বিষয়ে একমত হলেও জার্মানি, নেদারল্যান্ডস ও অস্ট্রিয়া দিয়েছে ভিন্নমত। তারা আশঙ্কা করছে, গ্যাসের দাম বেঁধে দিলে ইউরোপজুড়ে আরও সংকট দেখা দেবে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গ্যাসের দাম নির্ধারণের বিষয়ে কয়েক মাস ধরে ইইউভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে আলোচনা চলছে। এই পদক্ষেপটি ইউরোপের জ্বালানি সংকটকে কমিয়ে দেবে কি না তা নিয়ে সরকারগুলোর মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। তবে মঙ্গলবার (১৩ ডিসেম্বর) আবারও গ্যাসের দাম নির্ধারণের বিষয়ে আলোচনায় বসবে ইইউ।
জোটটির কূটনীতিকরা বলছেন, মঙ্গলবারে চুক্তি হবে কি না সে বিষয়ে তারা নিশ্চিত নন। তবে এই আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক এমন হতে পারে যে, আগামী বৃহস্পতিবার ইইউ নেতাদের বৈঠকে গ্যাসের দাম নির্ধারণের বিষয়কে গুরুত্বসহকারে তুলে ধরতে সাহায্য করবে। ফলে আগামী সপ্তাহে মন্ত্রীরা হয়তো আবারও দাম নির্ধারণের জন্য আলোচনায় বসতে পারে।
গ্যাসের দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিভিন্ন বিষয়ে নজর দেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে ইইউর এক সিনিয়র কূটনীতিক বলেন, যেকোনো চুক্তির ক্ষেত্রে আমরা দামের সীমা কত হবে, কী ধরনের গ্যাসের জন্য এই চুক্তি প্রযোজ্য হবে, কোন পরিস্থিতিতে মূল্যসীমা স্থগিত করা হবে এমন সব বিষয় আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। আমরা সঠিক পথে এগোচ্ছি কিন্তু এখনও সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারিনি।
এদিকে গত মাসে ইউরোপীয় কমিশনের প্রস্তাবিত গ্যাসের দাম অনুমোদনের চেষ্টায় ব্রাসেলসে মিলিত হন ইইউর ২৭টি সদস্য দেশের জ্বালানিমন্ত্রীরা। কিছু দেশ দ্বিমত পোষণ করেছে উল্লেখ করে এই কূটনীতিক আরও বলেন, সম্ভবত কিছু সদস্য রাষ্ট্র আমাদের প্রস্তাবিত বিষয় নিয়ে সন্তুষ্ট নয়, তবে আমরা আলোচনা করছি।
মূল্যসীমা বেঁধে দিলে তা গ্যাসের দাম আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে মনে করছেন অনেক বিশ্লেষক। তাদের অনেকেই বলছেন, ডাচ টাইটেল ট্রান্সফার ফ্যাসিলিটি গ্যাস হাবে আগামী মাসে যদি পাঁচ দিনের জন্য গ্যাসের দাম প্রতি মেগাওয়াট-ঘণ্টায় ২২০ ইউরোর বেশি নির্ধারণ করা হয়, তাহলে সপ্তাহ যেতে না যেতেই এটি গ্যাসের দাম বাড়িয়ে দিতে পারে। এমনকি এটি নির্ধারিত মূল্যের চেয়েও ৩৫ ইউরো বেশি বাড়িয়ে দেওয়ার সম্ভাবনা আছে।
গত সপ্তাহে ইন্টারকন্টিনেন্টাল এক্সচেঞ্জ সতর্ক করে জানিয়েছিল, ইইউ থেকে গ্যাসের মূল্যসীমা নির্ধারণের প্রস্তাব আসলে তা গ্যাসের দাম বাড়িয়ে দিতে পারে। গ্যাসের মূল্যসীমা আর্থিক স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে বলেও সতর্ক করেছে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
ইউডি/এ

