আফ্রিকা ও আরব বিশ্বের প্রতিনিধি: মরক্কো কি ফাইনাল খেলবে
উত্তরদক্ষিণ । বুধবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২২ । আপডেট ১৬:৩০
কাতার বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে আজ বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সের মুখোমুখি হবে আফ্রিকা ও আরব বিশ্বের একমাত্র প্রতিনিধি ‘মিরাকল’ মরক্কো। এ নিয়ে বিনয় দাসের প্রতিবেদন
রিয়েলি ‘দিস টাইম ফর আফ্রিকা’! : স্বপ্নের শুরুটা যেভাবে হয়েছিল ঠিক সেভাবেই নিজেদের এগিয়ে নিয়ে ফাইনাল পর্যন্ত যেতে চায় মরক্কো। আজ ফল যাই হোক না কেন মরক্কোর বর্তমান দলটি ইতোমধ্যেই নিজেদের অবস্থানের জানান দিয়ে দিয়েছে। আফ্রিকা ও আরব বিশ্বের কোন দেশ হিসেবে এই প্রথম বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে নাম লেখানো মরক্কো ইতিহাসের পাতায় সবসময়ই অনন্য এক অবস্থানেই থাকবে। মরক্কোর এই জয়যাত্রায় সবচেয়ে বড় কারিগর দলটির রক্ষণভাগ। গোটা টুর্নামেন্টে মরক্কো এখন পর্যন্ত একটি মাত্র গোল হজম করেছে, সেটা ছিল আত্মঘাতী। শক্তিশালী রক্ষণের পাশাপাশি এটা ঘটছে গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনোর জন্য। গোলপোস্টে তিনি দাঁড়াচ্ছেন রীতিমতো চীনের প্রাচীর হয়ে। আর যে কোনো দলের জন্য মরক্কোর এই দুর্গ ভাঙ্গা অনেকটা ‘বিশ্বকাপ’ জয়ের মতোই। দুই দলের সবশেষ দেখার পর কেটে গেছে ১৫ বছর। কাতার বিশ্বকাপ দিয়ে আবারও মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ফ্রান্স ও মরক্কো। বিশ্ব সেরার মঞ্চে প্রথমবার সাক্ষাৎ হবে দল দুটির। বিশ্বকাপে প্রথমবার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ফ্রান্স ও মরক্কো। অফিসিয়াল আন্তর্জাতিক ম্যাচে এখন পর্যন্ত দুই দল পাঁচবার পরস্পরের বিপক্ষে খেলেছে; প্রথম দেখা ১৯৮৮ সালে, যেখানে ২-১ গোলে জিতেছিল ফরাসিরা। অফিসিয়াল ম্যাচে মরক্কোর বিপক্ষে একবারও হারেনি ফ্রান্স। দুই দলের সবশেষ সাক্ষাৎ ২০০৭ সালে। প্যারিসে প্রীতি ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র হয়।

আমরা জিততে চাই: বিশ্বকাপের শিরোপা জিতে টুর্নামেন্টে নিজেদের ইতিহাস আরো সমৃদ্ধ করতে চান মরক্কোর কোচ ওয়ালিদ রেগ্রাগুই। ৪৭ বছর বয়সি এই কোচ বলেন, আমরা বিশ্বকাপ জিততে চাই। এটি শুধু মখে বলছি তা নয়, আমাদের অবশ্যই আরো এগুতে হবে। হয়তো এরকম সুযোগ আর পাব না। তিনি বলেন, আমরা হয়তো ফেভারিট নই, তবে আত্মবিশ্বাসী। হয়তো এটিই আমাদেরকে আরো আগ্রাসী করে তুলেছে। কিছুটা আগ্রাসী ভাব থাকাটা ভালো। অন্যদিকে, আশরাফ হাকিমি ও কিলিয়ান এমবাপে বিশ্বকাপের মাঠের লড়াইয়ে একে অন্যের শত্রু! কিন্তু মাঠের বাইরে দুজনই ভালো বন্ধু। দুজনের সম্পর্কের গভীরতাও অনেক। আজ সেমিফাইনালে দুজন এখন একে অন্যের প্রতিপক্ষ। এমবাপে’কে নিয়ে হাকিমি জানান, ওর সঙ্গে খেলে আনন্দ পেয়েছি। জানি সে বল পেলে ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দিতে পারবে। গোল করাবে বা করবে। এবার সে থাকবে শত্রুশিবিরে। তাকে থামানোর দায়িত্ব আমার। কাজটা কঠিন। তবে বন্ধু বলে মাঠে তাকে কোনো ছাড় দেব না। হাকিমির বিশ্বাস, প্রতিদ্ব›দ্বী ফ্রান্সকে আটকাতে মরক্কোকে দুর্দান্ত দলীয় পারফরম্যান্স উপহার দিতে হবে, শুধু এমবাপে নয়, গোটা ফ্রান্সের সমন্বয়টা অনেক ভালো। ওরা গত আসরের চ্যাম্পিয়ন। তাই ওদের রুখতে দল হিসেবেই খেলতে হবে আমাদের।

স্বপ্নযাত্রায় ছেলেদের সঙ্গিনী মায়েরাও: কাতার বিশ্বকাপে মরক্কো ‘মিরাকলে’ বিস্মিত গোটা বিশ্ব। তাদের এই স্বপ্নযাত্রায় রয়েছে বিরল কিছুর বহিঃপ্রকাশ। খেলার মাঠে যা সচরাচর দেখা যায় না। সাধারণত মাঠের খেলায় পূর্ণ মনোযোগ রাখতে পরিবারের সদস্যদের দূরে রাখার পক্ষে থাকে ম্যানেজমেন্ট। তবে মরক্কোর ম্যানেজমেন্টের ভাবনা ছিল ভিন্ন। তাইতো বাবা-মাকে সঙ্গে নিয়েই বিশ্বকাপে এসেছিলেন হাকিমি-বুফালরা। মাঠে খেলতে নামছেন গ্যালারিতে বসা পৃথিবীর সবচেয়ে আপন-মানুষগুলোর সামনে। ‘মা আমার খেলা দেখছেন এই ভাবনা মাঠে জোগাচ্ছে বাড়তি উদ্দীপনা। জয়ের পর হাকিমিরা ছুটে যান ভিআইপি স্ট্যান্ডের দিকে, যেখানে বসে থাকেন তাদের মা। একজন মায়ের সবচেয়ে সুখের মুহূর্ত যদি হয় সন্তানের সাফল্য, সেই মুহূর্তে মায়ের স্পর্শের চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কী হতে পারে! কপালে মায়ের একটা চুমু, দুহাত বাড়িয়ে জড়িয়ে ধরা স্পর্শই যে ছেলের জন্য আনন্দের পূর্ণতা! কিংবা মাঠেই ছেলের সঙ্গে আদরমাখা নাচ। মরক্কোর খেলোয়াড়দের মায়ের ভালোবাসায় সিক্ত হওয়ার এসব ছবি এখন কাতার বিশ্বকাপের পরিচিত দৃশ্য। আর মরক্কোর খেলোয়াররা যে এ কারণেই মানসিকভাবে চাঙ্গা থাকে সে কথা বলার অপেক্ষা রাখে না। তাতে মরক্কোর কোচ ও দেশটির পুটবল ফেডারেশনের যুগান্তকারী এই উদ্যোগ শতভাগ সাফল্য দিয়েছে, এর শেষটা কোথায় গিয়ে থামবে সেটা জানা যাবে আজকের ম্যাচ শেষে।
ইউডি/এজেএস

