মর্মান্তিক সেই বিমান দুর্ঘটনার পেছনে পাইলটদের হাত ছিল?

মর্মান্তিক সেই বিমান দুর্ঘটনার পেছনে পাইলটদের হাত ছিল?

উত্তরদক্ষিণ । বৃহস্পতিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২২ । আপডেট ১৪:০০

গত এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনার অন্যতম মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট এমএইচ৩৭০ নিখোঁজ হওয়া, যার নেপথ্যের কোনও কারন জানা যায়নি এখনও। তবে এবার সেই ঘটনা নিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য। এ নিয়ে সিফাত আহমেদের প্রতিবেদন।

আট বছর পরে মিললো বিস্ফোরক তথ্য: ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘ইন্ডিপেন্ডেন্ট’র দাবি বোয়িং ৭৭৭ বিমানটিকে চালকরাই ধ্বংস করেছিলেন। ওই বিমানের ধ্বংসাবশেষ থেকে যে নতুন প্রমাণ পাওয়া গেছে, তা পরীক্ষার পর এ ইঙ্গিত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। সম্প্রতি মাদাগাস্কারের এক মৎস্যজীবীর ঘরে ওই বিমানের ১টি ল্যান্ডিং গিয়ার ডোর পাওয়া গিয়েছে বলে দাবি করেছে ‘ইন্ডিপেন্ডেন্ট’। তাদের দাবি, সাগরে পড়ে যাওয়ার সময় বোয়িং ৭৭৭ বিমানটির ল্যান্ডিং গিয়ার নিচু করা ছিল। ২০১৭ সালে মাদাগাস্কারের উপক‚লে ওই ল্যান্ডিং গিয়ার ডোরটি দেখতে পেয়েছিলেন টাটালি নামে এক মৎস্যজীবী। ‘ফার্নান্দো’ নামে উপক‚লীয় ঝড়ে মাদাগাস্কারের সমুদ্র উপক‚লে ভেসে এসেছিল ওই ডোরটি। ল্যান্ডিং গিয়ার ডোরটি যে মালয়েশীয় বিমানের অংশ, তা নিয়ে কোনও ধারণাই ছিল না টাটালির। বছর পাঁচেক ধরে সেটিকে জামাকাপড় পরিষ্কার করার বোর্ড হিসাবে ব্যবহার করছিলেন মৎস্যজীবীর স্ত্রী। তবে এ ব্যাপারে এখন পর্যন্ত মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্স কোনো প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে নি। ওই সময়ে বিমানটির খোঁজে দক্ষিণ চিন সাগর এবং আন্দামান সাগরে তল্লাশি অভিযান শুরু করে মালয়েশিয়া সরকার। তবে ফ্লাইট এমএইচ৩৭০-এর কিছু অংশ পাওয়া গেলেও বিমানটির ধ্বংসাবশেষের বেশির ভাগ মেলেনি। অসামরিক বিমান পরিবহণের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়সাপেক্ষ এই অভিযানকে কার্যত ব্যর্থই বলা চলে। উপগ্রহের মাধ্যমে বিমানের স্বয়ংক্রিয় যোগাযোগ ব্যবস্থার পরীক্ষায় ইঙ্গিত, বিমানটি হয়তো ইন্ডিয়া মহাসাগরের দক্ষিণে ভেঙে পড়েছিল। যদিও এই দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে যুক্তিগ্রাহ্য তত্ত¡ প্রকাশ্যে আসেনি।

রিচার্ড গডফ্রে

পাইলটদের ইচ্ছায় সবকিছু ঘটেছিল: ব্রিটিশ ইঞ্জিনিয়ার রিচার্ড গডফ্রে ও আমেরিকার ব্লেইন গিবসনের দাবি ফ্লাইট এমএইচ৩৭০-এর ধ্বংসাবশেষ সন্ধানী, বিমানটিকে ইচ্ছা করে ধ্বংস করেছিলেন এর চালকেরা। বিশেষজ্ঞদের দাবি, ওই বিমানের ল্যান্ডিং গিয়ার ডোরটি পরীক্ষার পর সর্বপ্রথম ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, বিমানটিকে ধ্বংস করা হয়েছিল। গডফ্রে বলেছেন,ওই ল্যান্ডিং গিয়ার ডোরটির চারপাশে ফাটল এবং তা যে মাত্রায় ক্ষতি হয়েছে, তা দেখে বোঝা যায় বিমানটিতে আর যা-ই হোক, সেটি ধীরে ধীরে সাগরে ডুবে যায়নি। বরং অত্যন্ত উচ্চগতিতে জলে গোঁত্তা খেয়েছিল বিমানটি।

ব্লেইন গিবসনে

সেটি এমন ভাবে করা হয়েছিল, যাতে বিমানটি যতটা সম্ভব টুকরো টুকরো হয়ে যায়। গডফ্রে ও গিবসন জানিয়েছেন, ওই ল্যান্ডিং গিয়ার ডোরে ৪টি আধা সমান্তরাল দাগ পাওয়া গিয়েছে। যা দেখে গডফ্রেদের ধারণা, দুর্ঘটনার সময় বিমানের দু’টি ইঞ্জিন বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বিশেষজ্ঞদের দাবি, অত্যন্ত বেশি গতির প্রভাবে বিমানটিকে যত দ্রুত সম্ভব টুকরো টুকরো করা হয়েছিল। অন্য দিকে, দুর্ঘটনার প্রমাণ লুকোনোর যে চেষ্টা করা হয়েছিল, তা ল্যান্ডিং গিয়ারটিকে পরীক্ষা করলে স্পষ্ট বোঝা যায়। তা থেকেই বিশেষজ্ঞদের ধারণা, হয়তো ইচ্ছা করেই বিমানটিতে দুর্ঘটনা ঘটানো হয়েছিল।

দৈনিক উত্তরদক্ষিণ । ১৫ ডিসেম্বর ২০২২ । প্রথম পৃষ্ঠা

কী ঘটেছিল দুর্ঘটনার সেই ভয়াবহ রাতে: ২০১৪ সালে ৮ মার্চ, রাত ১২টা ৪১ মিনিট। মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর থেকে বেইজিং বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল ফ্লাইট এমএইচ৩৭০। আকাশে উড্ডয়নের প্রায় ৩৮ মিনিট পর সেটির সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোল (এটিসি)। সে সময় বিমানটি দক্ষিণ চিন সাগরের উপর দিয়ে উড়ছিল। এর কয়েক সেকেন্ড পর বিমানটির সঙ্গে এটিসি-র যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ঘণ্টাখানেক পর যদিও মালয়েশিয়া সেনাবাহিনীর রাডারে ধরা পড়েছিল বিমানটি। তবে সে সময় বিমানটি গন্তব্যের দিকে এগোচ্ছিল না। বরং তা রুট পাল্টে পশ্চিম দিকে সরে গিয়ে মালয় উপদ্বীপ এবং আন্দামান সাগর অতিক্রম করছিল। সেনার রাডার ছেড়ে সরে যাওয়ার পর চিরতরে গায়েব হয়ে যায় ফ্লাইট এমএইচ৩৭০। বিমানে তখন ছিলেন ২২৭ জন যাত্রী এবং চালক মিলিয়ে ১২ জন কর্মী। যাত্রীদের মধ্যে ছিলেন ১৫৩ জন চাইনিজ, ৩ জন আমেরিকান, ৬ জন অস্ট্রেলিয়ান, ২ জন কানাডিয়ান, ৪ জন ফরাসি, ২ জন ইউক্রেনিয়ান, ৫ জন ইন্ডিয়ান, ৭ জন ইন্দোনেশিয়ান, ২ জন ইরানি এবং ১ জন করে রাশিয়া, নেদারল্যান্ডস, হংকং ও তাইওয়ানের বাসিন্দা।

ইউডি/এজেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading