ফিলিস্তিনের আইনজীবীকে নির্বাসনে পাঠালো ইসরায়েল
উত্তরদক্ষিণ । রবিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২২ । আপডেট ১৭:৪০
নিরাপত্তাজনিত হুমকির কথা বলে ফিলিস্তিনি ফরাসি মানবাধিকার আইনজীবীকে নির্বাচনে পাঠিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে থেকে এ তথ্য জানানো হয়ছে।
মন্ত্রণালয়ের খবরে বলা হয়েছে, পুলিশি নিরাপত্তায় রোববার সকালে সালেহ হামুরিকে (৩৭) ফ্রান্সের একটি ফ্লাইটে তুলে দেওয়া হয়। খবর বিবিসির।
জেরুজালেমে আজীবন বসবাসের অনুমতি পাওয়া সালেহ হামুরিকে সন্ত্রাসী সংগঠনের সদস্য অভিহিত করে নির্বাসনে পাঠানো হয়েছে। তবে সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন ফিলিস্তিনি এই মানবাধিকার আইনজীবী।
ইসরায়েলের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইসরায়েল ও আমাদের নাগরিকদের ওপর হামলার জন্য তিনি সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনা করেন।
এদিকে এ কর্মকাণ্ডের জন্য ইসরায়েল সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পদ থেকে বিদায় নিতে যাওয়া মন্ত্রী আয়ালেত শেখ তার কর্মীদের ধন্যবাদ জানান। তিনি তার বিবৃতিতে বলেন, ‘সন্ত্রাসী সালেহ হামুরির সাজা শেষ হয়েছে এবং তাকে ইসরায়েল থেকে নির্বাসিত করা হয়েছে।’
সালেহ হামুরিকে নির্বাসনে পাঠানোকে তিনি তার সবচেয়ে বড় সফলতা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এটি ছিল একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। কিন্তু বিদায় বেলা এটি করতে পেরে সত্যিই আনন্দিত।
মায়ের প্রভাবে সালেহ হামুরি ফ্রন্সের নাগরিক। তিনি জেরুজালেমেও বসবাসের অধিকার রাখেন। তবে কর্তৃপক্ষ চাইলে তাকে যে কোনো সময় উৎখাত করতে পারে।
হামুরি ফিলিস্তিনিদের আইনী সহায়তা দিয়ে থাকেন। এছাড়া যারা ইসরায়েলের কারাগারে বন্দি তাদেরকে মুক্ত করার জন্য তিনি আইনীভাবে লড়াই চালিয়ে যান।
ইসরায়েল সেনাবাহিনী বলছে, সালেহ হামুরি ফিলিস্তিনের পপুলার ফ্রন্ট অব দ্য লিবারেশন অব প্যালেসটাইন (পিএফএলপি) সংগঠনের সঙ্গ যুক্ত। যে সংগঠনকে তারা সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।
গত মার্চে পশ্চিম তীর থেকে হামুরিকে ইসরায়েল সেনাবাহিনীর কমান্ডার গ্রেপ্তার করেন। এরপর তাকে কোনো অভিযোগ ছাড়াই তিন মাস কারাগারে বন্দি রাখার কথা বলা হয়। যাকে প্রশাসনিক বন্দিও বলা হয়।
কারাগারে আটক থাকার চারমাস পর হামুরিও ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোর কাছে সহযোগিতা চেয়ে চিঠি লিখেন। এরপরই তাকে ‘উচ্চ ঝুঁকির বন্দী’ হিসেবে উল্লেখ করা হয় এবং মধ্য ইসরায়েলের একটি উচ্চ নিরাপত্তা কারাগারে স্থানান্তরিত করা হয়।
সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে তিনি তার প্রশাসনিক আটকের প্রতিবাদে অনশন শুরু করেন। ১৯ দিন পর তিনি অনশন ভাঙেন। সেই সময়ে তাকে নির্জন কারাগারে রাখা হয়েছিল বলে জানা গেছে।
ইউডি/এ

