হামলার শঙ্কায় বেলারুশ সীমান্তে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা জোরদার
উত্তরদক্ষিণ । মঙ্গলবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২২ । আপডেট ১১:২৫
রাশিয়া নতুন হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে এমন আশঙ্কায় বেলারুশ সীমান্তে ইউক্রেন তার প্রতিরক্ষাব্যবস্থা জোরদার করছে বলে জানিয়েছেন দেশটির এক সরকারি কর্মকর্তা। মঙ্গলবার (২০ ডিসেম্বর) বিবিসির প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
ইউক্রেনের উপ-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়েভেন ইয়েনিন বিবিসিকে বলেছেন, ‘ইউক্রেন সশস্ত্র বাহিনী ও গোলাবারুদ দিয়ে বেলারুশ সীমান্ত ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে।’
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কোর সঙ্গে দেখা করতে মিনস্কে যাওয়ার সময় এ খবর জানা যায়। এর মধ্য দিয়ে সাড়ে তিন বছর পর এ দুই প্রতিপক্ষ বৈঠকে বসেন।
ইউক্রেন ও বেলারুশ দুই দেশের সঙ্গেই সীমান্ত সংযোগ রয়েছে রাশিয়ার। তবে ইউক্রেন যুদ্ধে শুরু থেকেই সরাসরি যুদ্ধে না জড়ালেও রাশিয়াকে সমর্থন দিয়ে গেছে বেলারুশ।
সম্প্রতি কিয়েভ কর্মকর্তারা নতুন বছরের শুরুতেই মস্কো ফের হামলা শুরু করবে বলে আশঙ্কার কথা জানিয়ে আসছেন। এরই মধ্যে মিত্র দেশের প্রতিপক্ষের সঙ্গে ক্রেমেলিন প্রেসিডেন্ট পুতিনের বৈঠক সে আশঙ্কাতে আরও তীব্র করছে।
এদিকে প্রেসিডেন্ট পুতিনের সফরের আগেই দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ঘোষণা করেছে, বেলারুশে অবস্থানরত তাদের সেনারা বেলারুশের সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়া পরিচালনা করবে।
অন্যদিকে, এ ঘোষণা এবং পুতিনের সফরের প্রতিক্রিয়ায় ইয়েনিন বলেন, ‘আমরা রাশিয়া ও বেলারুশের সঙ্গে সীমান্ত জুড়ে আমাদের প্রতিরক্ষা লাইন তৈরি করছি।’
গত ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া। সে সময় থেকেই আক্রমণের জন্য বেলারুশ মস্কোকে তাদের সীমান্ত ব্যবহারের অনুমতি দেয়।
এ ছাড়া কিয়েভের দাবি, ক্রেমেলিনের প্রতি সমর্থন জোরদার করতে প্রতিনিয়ত চাপ বাড়ানো হচ্ছে মিনস্কের ওপর।
যদিও ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ এসব দাবিকে ‘সম্পূর্ণ নির্বোধ, ভিত্তিহীন, বানোয়াট’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
পুতিনের মিনস্ক সফরকে ‘ওয়ার্কিং ভিজিট’ বলে উল্লেখ করা হয়। উভয় দেশের প্রতিপক্ষের মধ্যে বৈঠক স্থায়ী হয় দুই ঘণ্টারও বেশি সময়।
এ বৈঠকে কী নিয়ে আলোচনা হয়েছে তা এখনও জানা যায়নি। তবে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট পুতিন বলেন, রাশিয়া কাউকে ‘শোষণ’ করতে চায় না। তবে কিছু ‘শত্রু’ আছে যারা বেলারুশের সঙ্গে রাশিয়ার ঘনিষ্ঠতা শেষ করে দিতে চায়।
তবে সোমবার আমেরিকার পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র নেড প্রাইস বলেন, পুতিনের বক্তব্যে এটা স্পষ্ট যে তিনি ইউক্রেনকে শোষণ করতে চান।
ইউডি/এ

