চীনে করোনা রোগীর ঊর্ধ্বগতি, বিস্ফোরণের শঙ্কা: বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক বাড়ছে

চীনে করোনা রোগীর ঊর্ধ্বগতি, বিস্ফোরণের শঙ্কা: বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক বাড়ছে

উত্তরদক্ষিণ । বুধবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২২ । আপডেট ১৪:০০

বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের উত্থান শুরু হয়েছিলো চীন থেকে। কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে সেখানে করোনার প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে থাকলেও সম্প্রতি আবারও ভয়ঙ্কর রূপ নিচ্ছে প্রাণঘাতি এই ভাইরাস। আর এ কারণেই বিশ্বজুড়ে আবারও ছড়িয়ে পড়ছে আতঙ্ক। এ নিয়ে আরেফিন বাঁধনের বিশ্লেষণ

আক্রান্ত হতে পারে ৬০ শতাংশ! : করোনাবিধি কিছুটা শিথিল হওয়ার পরই চীনে বাড়তে শুরু করেছে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। একইসঙ্গে জ্যামিতিকহারে বাড়তে শুরু করেছে মৃত্যু সংখ্যাও। গত ৭ ডিসেম্বর চীন কঠোর বিধিনিষেধগুলোর বেশির ভাগই প্রত্যাহার করে নেয়। এরপর থেকেই সংক্রমণ বাড়তে শুরু করে। দেশটির স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন শীতেই করোনার নতুন ঢেউ দেশটিকে বিপর্যস্ত করে তুলতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে হাসপাতালে করোনা রোগীদের জন্য বাড়ানো হচ্ছে বেডের সংখ্যাও। বিবিসি এক চীনা বিশেষজ্ঞকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে চীনে তিনটি ঢেউ আঘাত হানবে। যার প্রথমটি দেখা যাবে এই শীতেই। এমন পরিস্থিতিতে এপিডেমিওলজিস্ট এবং হেলথ ইকোনমিস্ট এরিক ফেইগল-ডিং সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছে, আগামী ৯০ দিনে চীনের ৬০ শতাংশ মানুষ করোনার সংক্রমিত হতে পারেন। গত সোমবার করোনায় ২ জনের মৃত্যুর খবর জানায় চীনের স্বাস্থ্য অধিদফতর। যা এ সপ্তাহে প্রথম মৃত্যুর ঘটনা। এরপর মঙ্গলবার (২০ ডিসেম্বর) করোনায় মৃত্যু হয়েছে ৫ জনের। এখনও চীনের অর্ধেক বাসিন্দার টিকা নেয়া হয়নি। তাই আক্রান্ত হওয়া এবং মৃত্যুর ঘটনা নতুন করে ভাবাচ্ছে চিন সরকারকে। এর প্রভাব চিনের অর্থনীতিতেও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা। বিশ্লেষকগণ বলছেন নতুন এই ঢেউয়ে দেশটির অর্থনীতি ও বাণিজ্যর ওপর এর প্রভাব পড়বে। এমন অবস্থায় চীন স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে জোরদারের চেষ্টা করছে।

কোভিড১৯’র নতুন ঢেউ সবার জন্য হুমকি: চীনে করোনা বিধি প্রত্যাহার করে নেয়ার পর ভাইরাসটির প্রকোপ বাড়তে থাকায় উদ্বেগ জানিয়েছে আমেরিকা। দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র নেড প্রাইস জানান, চীনে করোনার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি বিশ্বের জন্যও উদ্বেগের। তিনি বলেন, আমরা জানি, যেকোনো সময় ভাইরাসটি ছড়াক না কেন, এর মাত্রা ভয়াবহ হতে পারে। ধরন পাল্টে এটি মানুষের জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে। আগামী মাসে চীনে নতুন চান্দ্রবর্ষ উদ্যাপন করা হবে। উৎসবটি ঘিরে দেশটির ১৪০ কোটি জনসংখ্যার মধ্যে করোনা ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। চীনের সঙ্গে বৈদেশিক বাণিজ্য রয়েছে এমন দেশগুলোর জন্য এ এক অশনি সংকেত বলে বিবেচনা করছেন বিশ্লেষকগণ।

দৈনিক উত্তরদক্ষিণ । ২১ ডিসেম্বর ২০২২ । প্রথম পৃষ্ঠা

সম্মিলিত উদ্যোগের সঙ্গে প্রয়োজন সচেতনতা: চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক এখন সবার চেয়ে এগিয়ে। বাংলাদেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নযজ্ঞের মধ্যে বিদেশী কর্মকর্তা ও শ্রমিকদের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে চীনারা। এর ফলে চীন থেকে প্রতিনিয়তই বাংলাদেশে তাদের যাতায়াত রয়েছে। এছাড়াও ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের যোগাযোগ হচ্ছে প্রতিনিয়তই। কিন্তু সাম্প্রতিক চীনে করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধি ও আসন্ন তিনটি ঢেউ সামনে রেখে বৈশ্বিক হুমকির মধ্যে বাংলাদেশেরও সতর্কতা অবলম্বন এখন জরুরি। সম্মিলিত উদ্যোগের সঙ্গে প্রয়োজন সচেতনতা। ইতোমধ্যেই বিশ্বের বহু দেশই বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামী জানুয়ারিতে চীনে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে করোনা। এ সময় দেশটির প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষ আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মৃত্যু হতে পারে ১০ লাখ মানুষের। চীনা চন্দ্রবর্ষ উদযাপনকে কেন্দ্র করে প্রায় ১৪০ কোটি মানুষের সমাগমই চীনকে বিপর্যস্ত করে দিতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞগণ। আর সেখান থেকেই বিশ্বব্যাপী করোনা ছড়িয়ে পড়ার হুমকি রয়েছে। বাংলাদেশে বর্তমানে করোনা নিয়ন্ত্রিত অবস্থানে রয়েছে। দেশে মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে টিকার চতুর্থ ডোজ দেয়ার কার্যক্রম। এমন অবস্থায় আবারও সংক্রমণ বৃদ্ধি পেলে জনজীবনে যে স্বস্তি ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমে যে হাওয়া বইছে তা আবারও স্থবির হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

ইউডি/এজেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading