ওয়ানডে’তে টাইগাররা উজ্জীবিত: টেস্টে দুর্দশা কাটবে কতদিনে?
উত্তরদক্ষিণ । সোমবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২২ । আপডেট ১৪:০০
ক্রিকেট পরাশক্তি ইন্ডিয়াকে ওয়ানডেতে সিরিজ হারালেও টেস্টে ধবলধোলাই হেতে হয়েছে বাংলাদেশকে। এই ফরম্যাট খেলতে গেলেই টাইগাররা যেনো নিজেদের হারিয়ে বসেন। কিন্তু কেন? এ নিয়ে কিফায়েত সুস্মিতের বিশ্লেষণ
সুযোগ সুবিধা সত্ত্বেও বার বার ব্যর্থ: সাদা পোশাকে প্রায় দুই যুগের কাছাকাছি খেলছে বাংলাদেশ। কিন্তু এতো লম্বা সময় ধরে খেললেও মনে হয় সবে তো এই ফরম্যাটে তাদের যাত্রা শুরু হলো। টেস্ট ক্রিকেটে এখনও পুচকে দল ওরা। আর তাইতো বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যান্য দলগুলোর কাছ থেকে কোনো ধরণের সমীহ আদায় করতে পারছে না। কালে ভাদ্রে কিছু ম্যাচ জিতে সাময়য়িক প্রশান্তি আদায় করছে। ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, এই ফরম্যাটে কৌশলগত সমস্যায় ভুগছে বাংলাদেশ দল। আধুনিক টেস্ট ক্রিকেটের সঙ্গে মানিয়ে নিতে তাদের সমস্যা হচ্ছে। রঙ্গিণ পোশাকের সঙ্গে নিজেদের রপ্ত করে নিলেও এখনও টেস্ট ক্রিকেটে বুদ্ধীমত্তার পরিচয় দিতে ব্যর্থ সাকিবরা। তাইতো এই সংস্করণে শক্ত অবস্থান নিতে পারছে না টাইগাররা। অথচ, সুযোগ-সুবিধার দিকে তাকালে কোনো অপূর্ণতা নেই বাংলাদেশ দলের। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ক্রিকেটারদের সবধরণের সুযোগ সুবিধা দিয়ে যাচ্ছে। বিশ্বের শীর্ষ পাঁচটি ধনী ক্রিকেট বোর্ডের অন্যতম বিসিবি। বিভিন্ন পদে কোচ, ট্যাকনিক্যাল ডিরেক্টর সহ সব ধরণের সেবাই পাচ্ছে মুমিনুল-মুশফিকরা। তবুও টেস্ট ক্রিকেটে যেন নিজেদের ভিত্তিই মজবুত হচ্ছে না। ধৈর্যের পরিচয় দিতে ব্যর্থ দলের অনেকেই সাদা পোশাক থেকে নিজেদের আড়াল করতে চাইছে।

ওয়ানডেতে রঙিণ হলেও টেস্ট যেন সাদাকালো: ২০০০ সালে টেস্ট স্ট্যাটাস লাভের পর থেকে ২২ বছরে বাংলাদেশ মোট টেস্ট খেলেছে ১৩৬টি। যার মধ্যে জয়ের হাসি হেসেছে মাত্র ১৬টিতে, ড্র হয়েছে ১৮টি ম্যাচ। আর পরাজয় বরণ করতে হয়েছে ১০২টি ম্যাচে। দল হিসেবে জয় বিবেচনায় অপেক্ষাকৃত দুর্বল দল জিম্বাবুয়েকেই হারিয়েছে ৮টি ম্যাচে যা মোট জয়ের অর্ধেক। এছাড়া উইন্ডিজকে হারিয়েছে ৪টি ম্যাচে। বড় দলগুলোর বিপক্ষে জয়ের হিসেব করলে ঘরের মাঠে দুই পরাশক্তি অষ্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডকে একটি করে ম্যাচ হারানোর স্মৃতি আছে টাইগারদের। আর চলতি বছরের শুরুতেই নিউজিল্যান্ডের মাটিতে স্বাগতিকদের বিপক্ষে রয়েছে ঐতিহাসিক এক জয়। টাইগারদের বাকি জয়টি শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। এই ফরম্যাটে এখনও ইন্ডিয়া, পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা, এমনকি নবীন আফগানদের এখনও হারাতে পারেনি সাকিবরা। অন্যদিকে, টেস্টের এমন করুন অবস্থার বিপরীতে অনেকটাই উজ্জ্বল ওয়ানডে পরিসংখ্যান। ওয়ানডেতে টাইগাররা এখনও পর্যন্ত ম্যাচ খেলেছে ৪০৩টি, যেখানে জয় ১৪৬টি, পরাজয় ২৫০টি ও নো রেজাল্ট ৭টি। এই ফরম্যাটে সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্ব ক্রিকেটের বড় দলগুলোরই একটি বিবেচনা করা হয় বাংলাদেশকে। ঘরের মাঠে ২০১৫ সাল থেকে একটি সিরিজ ছাড়া অপ্রতিদ্বন্দী বাংলাদেশ। এ সময়ে ইন্ডিয়াকে দুইবার, দক্ষিণ আফ্রিকা, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, উইন্ডিজ, জিম্বাবুয়েকে ধারাবহিকভাবে সিরিজ হারিয়েছে টাইগাররা। আছে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে তাদের মিনিজ হারানোর গৌরবও।

সাকিব-মিরাজ-লিটনে সম্ভাবনার হাতছানি: সাম্প্রতিক সময়ে দলের প্রাণভোমরা সাকিব আল হাসান দ্বিতীয়বারের মতো টেস্ট কাপ্তান হওয়ার পর মাঠের ক্রিকেটে এসেছে আক্রমণাত্মক ছাপ। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে লাল বলের এই খেলায় এসেছে অনেক পরিবর্তন। সেখানে সাকিব তার অভিজ্ঞতা মেলে ধরে পরিবর্তন এনেছেন অনেক। এছাড়াও দলের এই মুহূর্তে সবচেয়ে ধারাবহিক ব্যাটার হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করে যাচ্ছেন লিটন দাস। তার ব্যাটিং প্রতিভা নিয়ে প্রশংসা করছেন বিশ্বের সব ক্রিকেট বিশ্লেষকরাও। সবশেষ ইন্ডিয়া সিরিজেও লিটন তা প্রমাণ করেছেন। এছাড়াও এই মুহূর্তে দলের অন্যতম সেরা পারফরমার হিসেবে নিজেকে মেলে ধরেছেন অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ। ইন্ডিয়াকে ওয়ানডে সিরিজে হারানোর এই মূল কারিগর টেস্টেও রেখেছেন সেই ধারাবাহিকতা। মিরপুরে দ্বিতীয় ইনিংসে নিয়েছেন ৫ উইকেট। আর নিজের কামব্যাক টেস্টে সুযোগ কাজে লাগিয়েছেন সাবেক কাপ্তান মুমিনুল হক। তরুণ ওপেনার জাকির হাসান ইন্ডিয়ার বিপক্ষে অভিষেক টেস্টে শতক হাঁকানোর পর মিরপুরেও খেলেছেন অর্ধশতকের এক ইনিংস। বোলারদের মধ্যে স্পিনার তাইজুল ধারাবহিকভাবে নিজেরে সেরাটা নিংড়ে দিচ্ছেন। আর তাদের এই সম্মিলিত প্রয়াসই সম্ভাবনার হাতছানি দিচ্ছে। নতুন বছরে রঙিণ পোশাকের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও টাইগাররা জয়ের হাসি হাসবে এমনটাই প্রত্যাশা টাইগার ভক্তদের।
ইউডি/এজেএস

