প্রধানমন্ত্রীর সাফল্যের মুকুটে আরও একটি পালক
উত্তরদক্ষিণ । বৃহস্পতিবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২২ । আপডেট ১২:০৫
দেশের প্রথম মেট্রোরেল চালুর মাধ্যমে দুর্বার গতিতে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার (২৮ ডিসেম্বর) উত্তরার দিয়াবাড়িতে মেট্রোরেল উদ্বোধনের পর তিনি বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় আরেকটি পালক দিতে পারলাম। এ নিয়ে মিলন গাজী’র প্রতিবেদন
এগিয়ে যাবে বাঙালি দুর্বার গতিতে: চলতি বছর দেশের অন্যতম মেগা প্রজেক্ট পদ্মা সেতু উদ্বোধন করে ইতিহাসের সাক্ষি হয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সম্প্রতি দেশে ১০০ সেতু ও ১০০ মহাসড়ক নির্মাণ করে উন্নয়ন অগ্রযাগ্রাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন তিনি। এবার তার সাফল্যে আরও একটি পালক যুক্ত হলো দেশের ইতিহাসের ১ম মেট্রোরেল। ‘অসম সাহসে আমরা অসীম সম্ভাবনার পথে ছুটিয়া চলেছি, সময় কোথায় পিছে চাব কোন মতে’! কবি নজরুল ইসলামের কবিতাংশের সঙ্গে যুক্ত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এগিয়ে যাব আমরা দুর্বার গতিতে, এগিয়ে যাবে বাঙালি দুর্বার গতিতে। সকল বাধা অতিক্রম করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ক্ষুধা, দারিদ্র্যমুক্ত, উন্নত, সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ, স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তুলব। মেট্রোরেল উদ্বোধনের সময় প্রধানমন্ত্রীর ছোট বোন শেখ রেহানা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
চারটি মাইলফলক ছুঁয়েছে বাংলাদেশ: সরকারপ্রধান বলেন, মেট্রোরেলের উদ্বোধনের ফলে একই সঙ্গে প্রযুক্তিতে চারটি মাইলফলক ছুঁয়েছে বাংলাদেশ। প্রথমত, মেট্রোরেল নিজেই একটি মাইলফলক। দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশে প্রথম বৈদ্যুতিক যানের যুগে প্রবেশ করলো। তৃতীয়ত, ডিজিটাল রিমোট কন্ট্রোল যান এটি, যেটি স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের একটি ধাপ। চতুর্থত, বাংলাদেশ দ্রুত গতি সম্পন্ন যানের যুগে প্রবেশ করলো। ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১১০ কিলোমিটার গতিতে চলবে মেট্রোরেল।
বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করে সারা বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে। আর মেট্রো রেল চালু হওয়ার মধ্য দিয়ে দেশ বৈদ্যুতিক, দূর নিয়ন্ত্রিত এবং দ্রুততম যোগাযোগের যুগে প্রবেশ করেছে। বাংলাদেশের প্রথম মেট্রোরেল নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে মার্কিন প্রভাবশালী গণমাধ্যম ব্লুমবার্গ। এতে ঢাকায় মেট্রোরেলের প্রয়োজনীয়তাসহ বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। বলা হয়েছে, মেট্রোরেল শেখ হাসিনা সরকারের ভাবমূর্তি বাড়াবে।
১৪ বছরে বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে: সরকার প্রধান বলেন, যেকোনো কাজ করতে গেলে অবশ্যই সাহসের প্রয়োজন হয়, সিদ্ধান্তের প্রয়োজন হয়। আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর থেকে প্রতিটি কাজ পরিকল্পনা নিয়ে সম্পন্ন করেছে। যে কারণে মাত্র ১৪ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, মেট্রোরেল পরিচালনায় অন্য দেশের ওপর নির্ভরতা থাকবে না। এটি পরিচালনায় আমরা নিজেরাই স্মার্ট নাগরিক তৈরি করবো। এটি সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব হবে। জনগণকে নিয়ম মেনে পরিচ্ছন্নভাবে মেট্রোরেল ব্যবহারের অনুরোধ জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, একটা অনুরোধ থাকবে, অনেক টাকা খরচ করে এই মেট্রোরেল করা হয়েছে। এটাকে সংরক্ষণ করা, এটার মান নিশ্চিত রাখা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা- এই সবকিছু কিন্তু যারা ব্যবহার করবেন তাদের দায়িত্ব।
আজ থেকে যাত্রী পরিবহন শুরু: দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর উদ্বোধন করা হলো বহুল আকাঙ্ক্ষিত স্বপ্নের মেট্রোরেল। আজ থেকে মেট্রোরেলে যাত্রী পরিবহন চলবে সীমিত পরিসরে। আগামী ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের দিন থেকে চলবে পুরোদমে। প্রাথমিকভাবে উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত ছয়টি বগি বিশিষ্ট ১০ সেট ট্রেন চলাচল করবে। আপাতত এই রুটে ধীরগতিতে ট্রেন চলবে। এই পর্যায়ে সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ট্রেন চলবে, পরে চলাচলের সময় বাড়ানো হবে এবং চাহিদা অনুযায়ী ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো হবে।

বছরে ৪০ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি কমবে: যানজটের কারণে ঢাকা মহানগরে আর্থিক ক্ষতির হিসাব তুলে ধরে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড বা ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ এন সিদ্দিক জানিয়েছেন, মেট্রোরেলের মাধ্যমে বছরে ৪০ হাজার কোটি টাকার সেই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া যাবে। বুধবার (২৮ ডিসেম্বর) মেট্রোরেল উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিভিন্ন জরিপের বরাতে তিনি বলেন, মহানগরে (ঢাকা) যানজটের কারণে ৩ দশমিক ৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (বছরে) ক্ষতি হচ্ছে। এমআরটি নেটওয়ার্ক চালু হওয়ার পরে ৪০ হাজার কোটি টাকা প্রতি বছর সাশ্রয় হবে। লাইন-৬ চালু হয়ে গেলে ‘টাইম কস্ট’ ৮ কোটি ৩৮ লাখ টাকা প্রতিদিন সাশ্রয় হবে। সাথে ‘অপারেশন কস্ট’ বাবদ সোয়া কোটি টাকা সাশ্রয় হবে।
সবকিছু ঠিক থাকলে ২০৩০ সালের মধ্যে ঢাকা নগরীতে ‘মাকড়সার জালের মতো’ মেট্রোরেল তৈরি করা সম্ভব হবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, আজ প্রধানমন্ত্রী মেট্রোরেল উপহার দিয়েছেন। এরই ধারাবাহিকতায় এমআরটি লাইন-৬ এর মতিঝিল অংশ ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে। কমলাপুর পযন্ত বর্ধিত করার কাজ পুরো দমে এগিয়ে চলছে।
ইউডি/সুপ্ত/কেএস

