বাঘ গণনায় সুন্দরবনে বসছে ক্যামেরা

বাঘ গণনায় সুন্দরবনে বসছে ক্যামেরা
????????????????????????????????????

উত্তরদক্ষিণ । রবিবার, ০১ জানুয়ারি ২০২৩ । আপডেট ১৯:৩০

বাঘ, হরিণ ও শূকর গণনার জন্য ৬৬৫টি স্পটে মোট এক হাজার ৩৩০টি ক্যামেরা স্থাপন শুরু করেছে বন বিভাগ।

সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) ও বাঘ সংরক্ষণ প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) ড. আবু নাসের মোহসিন হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

রোববার (১ জানুয়ারি) থেকে সুন্দরবনে ক্যামেরা বাসানো শুরু হচ্ছে। প্রথমদিনে সুন্দরবনের পশ্চিম বন বিভাগের খুলনা রেঞ্জের কালাবগী ফরেস্ট স্টেশনের আওতাধীন এলাকায় ক্যামেরা স্থাপন করা হবে।

বন বিভাগ ‘সুন্দরবন বাঘ সংরক্ষণ প্রকল্পের’ আওতায় ৩.২৭ কোটি টাকা ব্যয়ে গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর থেকে খুলনা রেঞ্জের কালবগী ফরেস্ট স্টেশনের অধীনে খালের দুই পাশে ক্যামেরা বসানোর প্রস্তুতি নেয়।

আবু নাসের বলেন, ‘এ বছর বন বিভাগ বাঘ গণনার পাশাপাশি প্রকল্পের আওতায় হরিণ ও শূকর গণনা করবে।’

তারা প্রকল্পটিকে দুটি ভাগে ভাগ করেছে- ‘ক্যামেরা ট্র্যাপিং’ ও ‘খাল জরিপ’।

‘প্রাথমিকভাবে, সুন্দরবনের খালের দুই পাশে জরিপ শুরু হয়েছে এবং এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাঘের গতিবিধি ও পগমার্ক চিহ্নিত করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘ক্যামেরা ট্র্যাপিং প্রক্রিয়ার মাধ্যমে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দুই বছরের জন্য ছবি নেবে এবং পরে তারা পরবর্তী দুই মাসের জন্য ধারণ করা ছবি বিশ্লেষণ করবে এবং তারপরে তারা সংখ্যা বের করবে।’

আবু নাসের বলেন, ইতোমধ্যে একটি কারিগরি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি ৬৬৫টি স্পটে ক্যামেরা বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে সাতক্ষীরা রেঞ্জে ২০০টি, খুলনা রেঞ্জে ১৪০টি, শরণখোলায় ১৮০টি ও সুন্দরবনের চাদপাই রেঞ্জে ১৪৫টি স্থাপন করা হবে।

প্রতিটি গ্রিডে দুটি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে ও মোট ১,৩৩০টি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে।

বাঘের সংখ্যা সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক বলেন, ‘শুমারির পর বাঘের সঠিক সংখ্যা জানা যাবে। আগে, পর্যটকদের জন্য তাদের সুন্দরবন ভ্রমণের সময় কোনো বাঘ দেখা কঠিন ছিল। কিন্তু এখন তারা ৩-৪টি বাঘের ছবি তুলতে পারছেন। যা ইঙ্গিত দেয় যে সংখ্যা বাড়তে পারে।’

তিনি বলেন, ‘বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের ভেতরে ও বাইরে বাঘ শুমারি করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সুন্দরবনের কম, বেশি এবং লবণাক্ত এলাকায় জরিপ পরিচালনা করবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাঘরা বেশিরভাগই হরিণ শিকার করে, তবে তারা শূকর, বানর এবং কাঁকড়াও খায়। ২০২৪ সালে তাদের খাদ্যাভাস বের করার জন্য আরেকটি জরিপ করা হবে।’

‘জরিপ পরিচালনার জন্য ৪৯টি গ্রাম টাইগার রেসপন্স টিমের অধীনে তিনশো চল্লিশ সদস্য ও চারটি রেঞ্জের অধীনে কমিউনিটি টহল দলের ১৮৫ জন সদস্যকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।’

‘প্রকল্পের অধীনে চার মাসের জন্য আবাসিক লঞ্চ এবং সাপোর্ট বোট ভাড়া করা হয়েছে। এছাড়া ২০০টি বিশেষ ক্যাটাগরির ক্যামেরা, ব্যাটারি ও এসডি কার্ড কেনা হবে।’

খুলনা সার্কেলের বন সংরক্ষক মিহির কুমার দো বলেন, ‘প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে দুটি বাঘের ওপর স্যাটেলাইট কলার স্থাপন করে গতিবিধি পর্যবেক্ষণ, বাঘের মধ্যে রোগ ও সংক্রমণ শনাক্তকরণ, তথ্য সংগ্রহ এবং গবেষণার পর প্রতিবেদন প্রকাশ করা।’

‘এছাড়া শুষ্ক মৌসুমে বনের দাবানল থেকে বাঘ বাঁচাতে তহবিল দিয়ে অগ্নি নির্বাপক সরঞ্জাম, পাইপ এবং ড্রোনও কেনা হবে।’

‘পাশাপাশি, গ্রামে বাঘের প্রবেশ ঠেকাতে নাইলন ব্যবহার করে সুন্দরবনের ৬০ কিলোমিটার এলাকায় বেড়া দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে’ বলেও জানান তিনি।

এছাড়া ঘূর্ণিঝড় থেকে বাঘ রক্ষায় সুন্দরবনে ১২টি টাওয়ার স্থাপন করা হবে বলে জানান মিহির কুমার।

প্রকল্পের অধীনে, বিশেষ প্রশিক্ষণ, জরিপ সমাপ্তি, তথ্য সংগ্রহ, প্রতিবেদন তৈরি ও বিশ্লেষণের জন্য স্বল্পমেয়াদে ১২ জন পরামর্শক বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

গত বছরের ২৩ মার্চ পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় ৩৫.৯৩ কোটি টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্পের অনুমোদন দেয়।

প্রকল্পের মধ্যে, বাঘশুমারির জন্য মাত্র ৩.২৭ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে। প্রকল্পের মেয়াদ ২০২২ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিশ্বের ১৩টি দেশে ৩,৮৪০টি বাঘ রয়েছে। ২০১৫ সালে সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ছিল ১০৬ ও ২০১৮ সালে সেই সংখ্যা ১১৪-এ গিয়ে দাঁড়ায়। এর মধ্যে ৬৩টি বড়, ১৮টি ১২-১৪ মাস বয়সের মধ্যে ও ৩৩টি শাবক।

ইউডি/এ

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading