ক্ষমতায় ফিরে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে নেতানিয়াহু: ইসরায়েলের দখলদারিত্বের বিরুধে জাতিসংঘ
উত্তরদক্ষিণ । সোমবার, ০২ জানুয়ারি ২০২৩ । আপডেট ১২:৩২
অবৈধভাবে ভূমি দখল করে ইসরায়েলে কিভাবে প্যালেষ্টাইনের অধিকার ক্ষুণ্ন হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখতে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে গৃহীত এমন প্রস্তাবের নিন্দা জানিয়েছে ইসরায়েল। অন্যদিকে, এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে ফিলিস্তিন। এ নিয়ে আসাদ এফ রহমানের প্রতিবেদন…।
ন্যায় বিচারের পথে এক ধাপ: আনুমানিক ২৫ লাখ ফিলিস্তিনি নাগরিক অধিকৃত পশ্চিম তীরে বাস করে এবং ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী তাদের চলাচল ও গতিবিধি কঠোরভাবে সীমিত করে রেখেছে। জাতিসংঘে প্রস্তাব পাস হওয়াকে নিজেদের বিজয় হিসেবে উল্লেখ করেছে ফিলিস্তিন। তারা বলেছে, এর মাধ্যমে ইসরায়েলের অপরাধ উন্মোচিত হবে। ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের মুখপাত্র নাবিল আবু রুদেনেহ বলেছেন, ‘রাষ্ট্র হিসেবে ইসরায়েলকে আইনের অধীন আসার এবং আমাদের জনগণের বিরুদ্ধে চলমান অপরাধের জন্য দায়বদ্ধ হওয়ার সময় এসেছে।
জাতিসংঘে ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত রিয়াদ মনসুর সাধারণ পরিষদের এই ভোটগ্রহণকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এমন এক সময় এই প্রস্তাব পাস হয়েছে যখন একটি চরম ডানপন্থী সরকার ইসরায়েলের ক্ষমতায় আসীন, যারা নিজেদের দখল কার্যক্রম বাড়াতে বদ্ধ পরিকর। তিনি আরও বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, আন্তর্জাতিক আইন ও শান্তিতে যদি বিশ্বাসী হন, তাহলে আপনি আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের পরামর্শকে সমর্থন করবেন।
এছাড়া গাজার ক্ষমতাসীন দল হামাসের কর্মকর্তা বাসেম নাইম বলেছেন, ‘দখলদার রাষ্ট্রকে (ইসরায়েল) আটকানো ও বিচ্ছিন্ন করার দিকে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
প্যালেষ্টাইনিরা কী ন্যায়-বিচার পাবে: ইসরায়েল গত পাঁচ দশক ধরে ফিলিস্তিনের বেশ কয়েকটি অঞ্চল অবৈধভাবে দখল করে রেখেছে। অবৈধ এই দখলদারিত্বের কারণে ইসরায়েল ‘কী ধরনের বিচারের মুখে পড়বে’ সে বিষয়ে আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালতের (আইজিসে) মতামত জানতে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয় জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে। প্রস্তাবের পক্ষে বাংলাদেশসহ ভোট দেয় মোট ৮৭টি দেশ। বিপক্ষে ভোট দেয় আমেরিকা-ব্রিটেন ও ইসরায়েলসহ ২৬টি দেশ। আর ভোটদানে বিরত ছিল ইন্ডিয়াসহ ৫৩টি দেশ। ৮৭টি দেশ প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেওয়ায় এটি পাস হয়ে যায়। প্রসঙ্গত, নেদারল্যান্ডসের হেগভিত্তিক আইসিজে জাতিসংঘের শীর্ষ আদালত। বিভিন্ন দেশের মধ্যকার দ্বন্দ্ব মেটাতে কাজ করে থাকেন এই আদালত। জাতিসংঘের সদস্যদেশগুলোর আইসিজের রায় মেনে চলার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে রায় বাস্তবায়নে জোরজবরদস্তি করার কোনো ক্ষমতা আদালতটির নেই।

ইসরায়েল-আমেরিকা বেজায় নাখোশ: তৃতীয়বার ক্ষমতায় আসার পরই নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে। কট্টরপন্থি এই রাজনীতিক এমন কিছু দলকে নিয়ে জোট বেঁধে সরকার গঠন করেছেন যারা অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখন্ডইহুদি বসতি সম্প্রসারণকে অগ্রাধিকার তালিকায় শীর্ষে রেখেছে এবং সরকারে এমন দলও রয়েছে যারা পশ্চিম তীরের ভূখন্ডকে ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত করতে চায়। জাতিসংঘে তাদের বিরুদ্ধে প্রস্তাব পাস হওয়ার পর নেতানিয়াহু বলেন, ইসরায়েল এই ‘ঘৃণ্য সিদ্ধান্ত’ মানতে বাধ্য নয়। এক ভিডিও বার্তায় বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেন, ইহুদি জনগণ তাদের নিজস্ব ভূমিতে দখলদার নয় বা আমাদের চিরন্তন রাজধানী জেরুজালেমেও দখলদার নয়। জাতিসংঘের কোনও প্রস্তাবই সেই ঐতিহাসিক সত্যকে বিকৃত করতে পারে না। গাজা ও পূর্ব জেরুজালেমের পাশাপাশি ফিলিস্তিনিরা অধিকৃত পশ্চিম তীর অঞ্চলকে তাদের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের জন্য চায়। উল্লেখ্য, ইসরায়েল ১৯৬৭ সালে গাজা উপত্যকা এবং পূর্ব জেরুজালেমসহ পশ্চিম তীর দখল করে নেয়। যদিও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ পশ্চিম তীরকে তাদের ভবিষ্যৎ স্বাধীন রাষ্ট্রের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে চায়। তবে আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে অবৈধ হলেও অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখন্ড ইসরায়েল কয়েক ডজন ইহুদি বসতি নির্মাণ করেছে এবং সেগুলো এখন প্রায় ৫ লাখ ইসরায়েলির আবাসস্থল।
ইউডি/কেএস

