মির্জা আব্বাসের মামলা চলবে: আপিল বিভাগ
উত্তরদক্ষিণ । বুধবার, ০৪ জানুয়ারি ২০২৩ । আপডেট ১০:৩০
কর ফাঁকি আর দুর্নীতির মামলা এক নয়, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী মির্জা আব্বাসের কর ফাঁকি মামলা চলবে।
বুধবার (৪ জানুয়ারি) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের আপিল বেঞ্চ ১০ পাতার এ রায় প্রকাশ করেন।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেন, ‘কর ফাঁকি আর দুর্নীতির মামলা এক নয়। আপিল বিভাগের এই বক্তব্যে পরিষ্কার যে, দুর্নীতির মামলা হলো জ্ঞাত আয়ের বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং তথ্য গোপন। আর কর ফাঁকি হলো যিনি কর দেন তার সেই তথ্য উপাত্ত না থাকে বা ভুল ব্যাখ্যা দেন বা রিটার্নের টাকার অংক গোপন করে তবে সেটা হলো কর ফাঁকির মামলা। আপিল বিভাগের এই রায় স্পষ্ট করে বলে দিয়েছে দুটি ভিন্ন ভিন্ন অপরাধ। কাজেই দুটি ভিন্ন ভিন্ন মামলা চলতে আইনত কোনো বাধা নেই।’
মির্জা আব্বাসের পূর্বের একটি কর ফাঁকির মামলায় তাকে যে সাজা দেওয়া হয়েছে সেটা হাইকোর্ট ডিভিশন বাতিল করে দিয়ে তাকে বেকসুর খালাস করে দিয়েছেন। পরবর্তীতে যখন দুর্নীতির মামলা চলছে তখন ২৫টি সাক্ষী হওয়ার পরে তিনি আদালতে একটি দরখাস্ত দিয়ে জানান, যে এ মামলা চলতে পারে না, কারণ কর ফাঁকির আরেকটি মামলায় এরই মধ্যে তিনি হাইকোর্ট থেকে খালাস হয়ে গেছেন।
পরে হাইকোর্ট জানান, কর ফাঁকির মামলা আর দুর্নীতির মামলা এক নয়, আর ২৫টি সাক্ষী যেখানে হয়ে গেছে আমরা সেখানে হস্তক্ষেপ করবো না। হাইকোর্ট বিষয়টি খারিজ করে দেন।
পরবর্তী সময়ে এটি আপিল বিভাগে আসলো। আপিল বিভাগে তাদের বক্তব্য ছিল দুটি একই ধরনের মামলা, সব কিছুই কাগজপত্র একই। কিন্তু আমরা পরে আপিল বিভাগকে দেখালাম, দুর্নীতি দমন কমিশনের পক্ষ থেকে দুটি ভিন্ন মামলা এবং একটি সঙ্গে অন্যটির কোনো মিল নেই। সেটিই আপিল বিভাগের রায়ে স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন।
২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর হাইকোর্ট এই মামলার কার্যক্রম বাতিলের জন্য মির্জা আব্বাসের আবেদন খারিজ করেন।
দুর্নীতি দমন কমিশন ২০০৭ সালে রমনা থানায় মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের উৎসের বাইরে অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং তার সম্পদের তথ্য গোপন করার অভিযোগে মামলাটি করে।
ইউডি/এ

