বাংলাদেশে গড়ে তোলা হবে বিশ্বমানের ‘স্মার্ট পুলিশ’
উত্তরদক্ষিণ । বুধবার, ০৪ জানুয়ারি ২০২৩ । আপডেট ১৩:১৫
বাংলাদেশ পুলিশকে জ্ঞান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে বিশ্বমানের ‘স্মার্ট পুলিশ’ হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার (০৩ জানুয়ারি) রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে পুলিশ সপ্তাহ-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এই অঙ্গীকার করেন। একইসঙ্গে তিনি সেবার মাধ্যমে জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করতে তাদের প্রতি আহ্বানও জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের চুম্বক অংশ তুলে ধরে মিলন গাজীর প্রতিবেদন
পুলিশের গতিশীলতা হবে ত্রিমাত্রিক: করোনার কারণে দুই বছর পর সশরিরে উপস্থিত হয়ে পুলিশ সপ্তাহের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এবারের পুলিশ সপ্তাহের মূল প্রতিপাদ্য- ‘বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ, পুলিশ আছে জনতার পাশে’। পুলিশ সপ্তাহের নানা কর্মসূচি চলবে ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, পুলিশের গতিশীলতা ত্রিমাত্রিক পর্যায়ে উন্নীতকরণে ইতোমধ্যে রাশিয়া থেকে ২টি হেলিকপ্টার ক্রয়ের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পুলিশ বাহিনীর জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ এভিয়েশন ইউনিট গঠনের প্রক্রিয়া চলছে।
আগে ভয় পেত এখন ভরসা পায়: সরকার প্রধান বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলেছি। তার সুফল জনগণ এখন ভোগ করছে। পুলিশ বাহিনী এখন জনগণের পুলিশ হিসেবেই তাদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। আগে পুলিশের নাম শুনলে মানুষ ভয় পেত। এখন জানে পুলিশ সেবা দেয় ও তাদের পাশে দাঁড়ায়। তারা ভরসা পায়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষের তথা জনগণের আস্থা অর্জন করা যেকোন বাহিনীর জন্যই গুরুত্বপূর্ণ এবং আপনারা তা করে যাচ্ছেন। অত্যন্ত মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেই আপনারা এই সেবা করে যাবেন।
বিপিএম ও পিপিএম পদক পেলেন ১১৭ কর্মকর্তা: ২০২২ সালে বীরত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ১১৭ পুলিশ কর্মকর্তাকে বাংলাদেশ পুলিশ মেডেল (বিপিএম) সাহসিকতা, রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম) সাহসিকতা, বিপিএম সেবা এবং পিপিএম সেবা প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পুলিশ সপ্তাহ উদ্বোধনের পর পদকপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের ব্যাজ পরিয়ে দেন তিনি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, পুলিশের সদস্যগণ জীবন বাজি রেখে দায়িত্ব পালন করে তাদের ধ্বংসাত্মক কর্মকান্ড রুখে দিয়েছিল এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধান করে।
অগ্রগতিতে বড় বাধা স্যাংশন-পাল্টা স্যাংশন: প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনার অভিঘাত, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং ্একে কেন্দ্র করে স্যাংশন ও পাল্টা স্যাংশনের ঘটনা না ঘটলে বাংলাদেশকে তার সরকার আরো অনেকদূর এগিয়ে নিয়ে যেতে পারতো। তারপরও ২০৪১ নাগাদ তার সরকার এই বাংলাদেশকে জ্ঞানে, বিজ্ঞানে এবং প্রযুক্তি জ্ঞানে স্মার্ট বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলতে লক্ষ্য নির্ধারণ করে কাজ করে যাচ্ছে।

আসছে পূর্ণাঙ্গ সাইবার পুলিশ ইউনিট: সরকার প্রধান বলেন, সাইবার অপরাধ মোকাবেবলায় আমরা সিআইডিতে একটি ‘সাইবার পুলিশ সেন্টার স্থাপন’ করেছি। এছাড়া, ডিএমপির ‘সিটিটিসি’সহ পুলিশের অন্যান্য ইউনিটও সাইবার অপরাধ দমনে কাজ করছে। অচিরেই আমরা বাংলাদেশ পুলিশে একটি পূর্ণাঙ্গ সাইবার পুলিশ ইউনিট স্থাপন করব এবং জেলা পর্যায় পর্যন্ত এ ইউনিটের শাখা বিস্তৃত করা হবে।
ইউডি/কেএস

