তীব্র শীতের দাপটে জবুথবু জনজীবন
উত্তরদক্ষিণ । রবিবার, ০৮ জানুয়ারি ২০২৩ । আপডেট ১১:৩০
রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে তীব্র শীতের দাপটে জবুথবু হয়ে পড়েছে জনজীবন। শনিবার (০৭ জানুয়ারি) রাজধানীতে চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। আর দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে চুয়াডাঙ্গায়। আবহাওয়া অধিদফতর বলছে চলমান এই শৈত্যপ্রবাহ আরও বাড়বে। এ নিয়ে সাদিত কবির’র প্রতিবেদন
প্রাত্যহিক জীবনে বড় পরিবর্তন: টানা কয়েকদিনের কনকনে শীত, ঘন কুয়াশা আর ঠান্ডা বাতাসে বদলে গেছে নাগরিক জীবনের চিরচেনা চিত্র, বদলে গেছে বৈচিত্র্যময় প্রকৃতিও। রাজধানীতে শনিবার চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর পশ্চিমের জেলা চুয়াডাঙ্গায় এ মৌসুমে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তীব্র শীতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। কর্মজীবীদের পাশাপাশি পৌষের হাড় কাঁপানো ঠান্ডায় কাবু সব বয়সের মানুষ। দিনের বেশিরভাগ সময়ই কুয়াশায় ঢাকা চারপাশ। কনকনে হিমেল বাতাসে কাঁপছে সাধারণ মানুষ, সেই সঙ্গে বৃদ্ধ ও শিশুরা পড়েছে মহাবিপদে। সন্ধ্যার পর মানুষের বাইরে চলাচল কমে গেছে। অতি প্রয়োজন ছাড়া মানুষ বের হচ্ছে না দিনের আলোতেও। কুয়াশার দাপটে ভোগান্তি বেড়েছে ছিন্নমূলদের। ঢাকার প্রধান সড়কগুলোতে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলতে দেখা গেছে যানবাহনগুলোকে। অল্প দূরত্বেও ঠিকমতো কিছু দেখা যাচ্ছে না। ঠিক যেন কোনো গ্রামীণ জনপদের সড়ক কিংবা মহাসড়ক। দেশের উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলোতে শীত আর কুয়াশার দাপটে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। শহরের ভাসমান মানুষের মধ্যে যারা রাস্তা বা উন্মুক্ত স্থানে থাকেন, তাদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।

আরও বাড়তে পারে শৈত্যপ্রবাহ: সারাদেশে শৈত্যপ্রবাহ আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় মাঝারি থেকে তীব্র শীতের অনুভূতি থাকতে পারে। আবহাওয়ার অধিদপ্তর জানায়, উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বাড়তি অংশ পশ্চিমবঙ্গ ও এর কাছাকাছি এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। এর বাড়তি অংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। ফরিদপুর, মাদারীপুর, কিশোরগঞ্জ, দিনাজপুর, নীলফামারী, পঞ্চগড়, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, সাতক্ষীরা, বরিশাল ও রাজশাহী বিভাগসহ ১৬ জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক সংবাদমাধ্যমকে বলেন, গত চারদিনে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রা কমেছে। আগামী দু-এক দিন এই শীতের অনুভূতি থাকতে পারে। দুই দিনের মধ্যে কুয়াশা কিছুটা কাটতে শুরু করবে। ফলে রোদ বেড়ে তাপমাত্রা বাড়তে থাকবে। কমতে থাকবে শীতও।
নিম্ন আয়ের মানুষ চরম বিপাকে: শীতে বিপর্যস্ত নিম্ন আয়ের মানুষের জীবন। হাড় কাঁপানো কনকনে শীতে বের হয়েও অনেকের মিলছে না কাজ। ঘন কুয়াশা আর বাতাস শীতকে আরও প্রবল করেছে। বিশেষ করে ঢাকায় দিনমজুর-নিম্ন আয়ের মানুষের দিন কাটছে অনাহারে-অর্ধাহারে।
এদিকে বস্তিতে থাকা মানুষ কাজের আশায় কনকনে শীত উপেক্ষা করে ঘর থেকে বের হলেও মিলছে না কাজ। প্রচø কুয়াশার কারণে সড়কে যানবাহন কম চলতে দেখা গেছে। যে যানবাহনগুলো চলছে সেগুলোর গতিও শ্লথ। হেডলাইট জ্বালিয়ে চলতে দেখা গেছে বাস, মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য যানবাহন। বরাবরের মতোই শীতের কারণে বিপাকে পড়েছে অফিস, স্কুল-কলেজগামীসহ শ্রমজীবী মানুষ। অবর্ণনীয় কষ্ট পেতে দেখা গেছে রাজধানীর ছিন্নমূল মানুষদের।

হাসপাতালে ঠান্ডজনিত রোগীর ভিড় বাড়ছে: শীতের প্রকোপ যত বাড়ছে, ততই বাড়ছে শিশুদের ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপ। শীতজনিত অসুস্থতায় শিশু ও বয়স্ক মানুষের হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যাও বেড়েছে। শিশু ওয়ার্ডে নিউমোনিয়া রোগীর চাপ বেড়েছে। চাহিদার সঙ্গে বেডের সংখ্যার ঘাটতির কারনে চিকিৎসা নিতেও কষ্ট পোহাতে হচ্ছে ভুক্তভোগীদের। একইসঙ্গে বাড়তি রোগীদের চাপ সামলাতেও হিমশিম খাচ্ছেন ডাক্তাররা। অন্যদিকে দেশের সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোর বহির্বিভাগেও রোগীর অতিরিক্ত চাপ দেখা দিয়েছে।
ইউডি/সুপ্ত/কেএস

